আপনার এই ফুফু–জীবনের ‘ফুফা’ আসলে কে

দীপা খন্দকারছবি: এআইয়ের সাহায্যে বানানো

প্রশ্ন: ‘এটা আমাদেরই গল্প’ নাটকের কল্যাণে আপনি এখন যেন ‘জাতীয় ফুফু’। তো আপনার এই ফুফু–জীবনের ‘ফুফা’ আসলে কে?

দীপা খন্দকার: ‘এটা আমাদেরই গল্প’র ফুফা হচ্ছেন ইন্তেখাব দিনার ভাই আর বাস্তব জীবনের ফুফা তো অবশ্যই শাহেদ আলী!

প্রশ্ন: আপনি আর শাহেদ আলী যখন একসঙ্গে বাইরে বের হন, আর ভক্তরা আপনাদের দেখে আপনার সঙ্গে সেলফি তুলতে ছুটে আসে, তখন তাঁর মুখটা কেমন হয়?

দীপা খন্দকার: আরে, সে তো এই অবস্থা দেখলেই তাড়াতাড়ি সরে যায়। ছবি তুলবে না, একদম দূরে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে। সবাই চলে গেলে তারপর আসবে। একটু লাজুক আছে (হাসি)!

প্রশ্ন: তো এই ‘জাতীয় ফুফু’ হওয়ার পর আপনার আসল জীবনের ভাইপো-ভাগনেদের প্রতিক্রিয়া কী? তারা কি ইনসিকিউরড ফিল করছে?

দীপা খন্দকার: না না, তারা তো ভীষণ খুশি! বরং আমার ননদ মনে করে, নাটকের এই ফুফু চরিত্রটা আসলে আমি তাকে দেখেই করছি। এটা ভেবেই সে খুব আনন্দ পায়।

প্রশ্ন: শুনেছি, আপনার মুড়িতে জিলাপি নাকি মাস্ট?

দীপা খন্দকার: একদম না! অবশ্যই জিলাপি ছাড়া মুড়ি। মুড়িতে সব সময় ঝাল পছন্দ করি। ঝাল খাবারের সঙ্গে মিষ্টি মেশাব কোন দুঃখে? এরা কারা, যারা মুড়িতে জিলাপি মেশায়!

প্রশ্ন: একটু কল্পনা করুন, যদি আপনাকে এক দিনের জন্য দেশের প্রধানমন্ত্রী করা হয়, তবে আপনি প্রথম কোন পরিবর্তনটা আনবেন?

দীপা খন্দকার: দেখুন, সবাই তো এক দিনের জন্য প্রধানমন্ত্রী হয়ে দেশের কথা চিন্তা করে। এত পরিবর্তন, এই করবে, সেই করবে। কিন্তু এক দিনে আসলে দেশের জন্য কিছু করা সম্ভব নয়। তাই আমি নিজের উন্নতি করতাম। সোজা গিয়ে নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্টটা টাকায় ভরে ফেলতাম! এরপর সুখের লাইফ—টাকা আর টাকা।

প্রশ্ন: দেশের বাইরে গেলে ঢাকার জ্যামের কথা মনে হলে আর ফিরতে চান না?

দীপা খন্দকার: প্রশ্নই ওঠে না। অবিশ্বাস্য মনে হলেও দেশের বাইরে গেলে ঢাকার যানজট মিস করি! আর অবশ্যই ঢাকার খাবার।

প্রশ্ন: এত খাবারের কথা যখন উঠল, কাচ্চি না তেহারি?

দীপা খন্দকার: শর্ষের তেলে তেহারি—এটা অলটাইম পছন্দ, আহা! ঘ্রাণ। তবে শীতের দিনে কাচ্চিটাও ভালো লাগে। আমি ফুড লাভার। সবই প্রিয়।

প্রশ্ন: অভিনয় তো অনেক হলো। সুযোগ থাকলে চোখ বন্ধ করে অন্য কোন পেশায় সুইচ করতেন?

দীপা খন্দকার: এমন কোনো পেশা যদি থাকত, যেখানে শুধু বাসায় শুয়ে-বসে থাকব আর ঘুমাব, কিন্তু মাস শেষে বেতনটা অ্যাকাউন্টে চলে আসবে, তাহলে আমি সেই পেশাতেই সুইচ করতাম! শুধু খাওয়া আর ঘুম।

প্রশ্ন: তার মানে ঘুম আপনার বেশ প্রিয়? এক লাইনে ঘুমকে কীভাবে বর্ণনা করবেন?

দীপা খন্দকার: ঘুম হচ্ছে আমার সবচেয়ে আপন বন্ধু, একে ছাড়া চলা আমার পক্ষে একদম অসম্ভব।

প্রশ্ন: একটু পারিবারিক হাঁড়ির খবর নিই। আপনি নাকি বেশ কৃপণ—এমনটাই বললেন শাহেদ আলী।

দীপা খন্দকার: আমি আসলে হিসাবি। কিন্তু শাহেদ আলীর মধ্যে হিসাব-নিকাশ বা জমানোর কোনো বালাই নেই। সে যেন এই দুনিয়ার বাস্তবতাতেই নেই!

প্রশ্ন: শাহেদ আলী ভাইয়ের শুধু দোষই বলছেন, গুণ কি নেই?

দীপা খন্দকার: তার গুণ একটাই—সে ভালো মানুষ। কিন্তু দোষ ১০০০টা!

প্রশ্ন: অনেক কথা হলো, আসুন একটু চা খাই। নাকি কফি খাবেন?

দীপা খন্দকার: একদম চিনি ছাড়া ব্ল্যাক কফি আমার প্রিয়। এটা ছাড়া চলেই না। চা খুব একটা টানে না।