সুপ্রিয় দর্শক, আজকে আমরা সেই শুভক্ষণে এসে পৌঁছেছি। আজ আমরা পুরস্কৃত করতে যাচ্ছি সেই মানুষগুলোকে, যাঁরা সারা বছর মাথার ঘাম পায়ে ফেলে বিভিন্ন অসময়ে, অ-জায়গায় আর সর্বাধিক বিশ্রী অ্যাঙ্গেলে আমাদের ছবি ভিডিও করে সাংবাদিকতাকে নিয়ে গেছেন সফলতার সর্বোচ্চ চূড়ায়।
রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে, কখনোবা রাতের অন্ধকারে ফ্ল্যাশ লাইটের আলোয় তাঁরা মানুষের প্রাইভেসিতে অতি গুরুত্বের সঙ্গে বাঁ হাত ঢোকান। শত ব্যস্ততার মধ্যে রাস্তায় মানসিক ভারসাম্যহীন কাউকে দেখলে তাঁদেরও মাথার পাগলামি মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে, মুঠোফোনের ক্যামেরা অন করে শুরু করেন অবান্তর প্রশ্ন। সেখানেই শেষ নয়, ছেলে–মেয়ে একসঙ্গে দেখলেই প্রতিবাদী হয়ে ওঠেন তাঁরা, কখনোবা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লুকিয়ে তাঁদের ভিডিও ধারণও করে থাকেন। একবার কি ভেবে দেখেছেন, তাঁরা দেশের জন্য কী না করছেন! কিন্তু দিন শেষে তাঁরাই ভুল–বোঝাবুঝির শিকার হন, পেতে হয় লাঞ্ছনা। কিন্তু তাঁরা এসবে পরোয়া করেন না, শুধু বোঝেন ভিউ-ব্যবসা। একদিন তো এই সোশ্যাল মিডিয়ার ভিউ-ই ডিজিটাল বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে পরিচিত করবে।
দর্শকমণ্ডলী, তাঁরা আর কেউ নন, আমাদের সবার অপ্রিয় ফেসবুক সাংবাদিক, যাঁদের মোটো ‘ভিউয়ের চেয়ে বড় কিছু নাই, নাহি কিছু মহীয়ান।’ ১৫ সেকেন্ডের ‘দেখুন ভিডিওসহ’ রিলে তাঁরা তুলে ধরেন জীবন বদলে দেওয়া ঘটনা। আর সোর্স জানতে চাইলে বলেন, চালায় দেন। তাঁরা স্বপ্ন দেখেন ভিউ ব্যবসা করেই একদিন আসমানে পাখা মেলবেন।
চলুন তাহলে দেখে নিই এ বছরের ‘সেরা ফেসবুক সাংবাদিক ২০২৬’–এর মনোনয়ন কারা পেলেন!
মনোনয়ন ১: আজগরুদ্দিন মুন্সি
‘গুলশানের পাগলি পারুল কি পারবে ফুল বিক্রি করে বিদেশ যেতে?’
(ভিউ ৬৯ হাজার, শেয়ার ৯০ হাজার)
মনোনয়ন ২: মোখলেস মিয়া
‘মেট্রোরেলে ছেলে-মেয়ের হাত ধরাধরি, দেশ কি তাহলে রসাতলে গেল?’
(ভিউ ৮০ হাজার, শেয়ার ৫৬ হাজার)
মনোনয়ন ৩: বরকতালি খন্দকার
‘দুপুরের কড়া রোদের নিচে নাচ-গানে মত্ত হলো একদল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, দেখুন ভিডিওসহ।’
(ভিউ ১.৫ মিলিয়ন, শেয়ার হিসাব নাই)
দর্শক, দেখে নিলাম মনোনয়ন। এবার যোগ্য মানুষের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়ার পালা। এত অসাধারণ কাজের মধ্যে একজনকে বেছে নেওয়া সত্যিই খুব কঠিন। তা–ও আমাদের জুরিবোর্ড কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে একজনকে বেছে নিয়েছেন প্রতিবারের মতো। ‘সেরা ফেসবুক সাংবাদিক ২০২৬’ পেলেন, মোখলেস মিয়াআআআ। মঞ্চে ডেকে নিচ্ছি মোখলেস মিয়াকে।
কেমন লাগছে এবারের ‘সেরা ফেসবুক সাংবাদিক ২০২৬’ অ্যাওয়ার্ড পেয়ে?
–খুশিতে পাগল পাগল লাগছে আমার। আমি এই অ্যাওয়ার্ড উৎসর্গ করতে চাই আমার বাবাকে। কারণ, তিনিই আমাকে ভালো ক্যামেরাওয়ালা মোবাইল কিনে দিয়েছিলেন। ভালো ক্যামেরা থাকার কারণে আমি লুকিয়ে লুকিয়ে জুম করে এই ভিডিওটি করেছিলাম।
এরপরে আপনার এমন আরও কাজ নিশ্চয়ই পাব আমরা?
–অবশ্যই, আজকের এই পুরস্কার আমাকে সামনে মানুষের প্রাইভেসি নষ্ট করতে আরও উদ্বুদ্ধ করবে।
আর কিছু বলতে চান?
–সবশেষে এটাই বলতে চাই, আমরা ছোট, আমাদের মারবেন না। একটু যা–তা ভিডিও করি বলে আমাদের নিয়ে কটু কথা বলবেন না, প্লিজ। আমরাও তো আপনাদের মতো খেটে খাওয়া মানুষদেরই একজন।