সম্পাদকের শুভবিবাহ

কার্টুন: এআই

যাঁরা লেখালেখি নিয়ে কাজকর্ম করেন, তাঁদের অনেক সমস্যা!

ধরেন কোনো কথাপ্রসঙ্গে আপনি একটা গালি দিয়ে একটা লাইন লিখলেন। তাঁরা সেইটার রিঅ্যাকশন দেওয়ার আগে বলবে, ‘পদাশ্রিত নির্দেশক সব সময় শব্দের সাথে বসে, আর এখানে চন্দ্রবিন্দু হবে না, কমার পরে স্পেস‌ও নাই। আবার আপনি ইনভার্টেড কমাও দিছেন!’

শব্দ আর লেখার ভুলের যন্ত্রণায় জীবনে বাক্‌স্বাধীনতা পড়ে হুমকির মুখে। মন খুলে লেখাও যায় না—‘ঘোড়ার আন্ডা এত চিন্তা ক‌ইরা কী কথা ক‌ওন যায়? ধুর!’

: এই বাক্যে ‘কী’ না, হবে ‘কি’! আর ঘোড়ার ডিম বলবেন, আন্ডাতে জগাখিচুড়ি হচ্ছে।

: পারবো না এত বানান থেকে করতে। চ্যাটজিপিটি ও হাসে। কয়—তুই আজকাল কি অনেক ভুল করছিস?

: *পারব না, *চ্যাটজিপিটিও। এত টাইপো! ছি ছি...

হায় মাবুদ! কিন্তু লাভ নাই। বানান ভুল হবেই। আরে ভাই, বানান তো আর ফেরেশতা না যে ভুল হবে না। তা ছাড়া বিজ্ঞানী ডোনাল্ড বসু ট্রাম্প বলেছেন, ভুল হচ্ছে একটা নাইস অ্যান্ড অ্যাট্রাকটিভ ব্যাপার! যত করবে তত শিখবে। না শিখলেও ভুল করতে হবে, যাতে পরেরবার শেখা যায়। আমাদের টার্গেট সব সময় নেক্সট! 

সেবার আমার এক সম্পাদক বড় ভাইয়ের জন্য মেয়ে দেখতে আমি, বড় ভাই আর তার এক বন্ধু গেলাম। মেয়ে অনার্সে পড়ে। বসার ঘরে দেয়ালে নানান রকম হাতের কাজের কারুকার্য। কোনোটায় সেলাই করে লেখা, কোনোটায় আবার আঁকা। মোটামুটি মুগ্ধ হয়ে দেখছি আর নাশতা চিবাচ্ছি। হঠাৎ বড় ভাইয়ের খাওয়া বন্ধ হয়ে গেল, চোখ স্থির, হাত খানিক কাঁপছে। ভাইয়ের মৃগীরোগ আছে নাকি? না তো!

: কী হ‌ইছে ভাই? শরীর খারাপ লাগছে?

ওনার বন্ধু বলল, ‘গত রাতে উল্টাপাল্টা কিছু খেয়েছিলি? কী রে! কথা বল!’ 

ভাইয়ের মুখে কোনো রা নেই‌, চোখ এখনো এক দিকে স্থির, হাতে ধরে রাখা বিস্কুট মুখেও যাচ্ছে না, প্লেটে নামছেও না। ভাই কথা বলার চেষ্টা করছেন, কিন্তু শব্দ আসি আসি করেও বেরোচ্ছে না।

‘ওখানে লেখা—ভালোবাসলেই ঘর বাঁধা যাই না, ভালোবেসে ঘর বাঁধলেই সুখী হ‌ওয়া যাই না।’

বন্ধু ভাইয়ের হাত পানি দিয়ে মালিশ করতে লাগলেন। ভাই মনে হয় একটু স্বাভাবিক হচ্ছেন। এই তো…একটু একটু শব্দ বের হচ্ছে।

বলুন ভাই, কেমন লাগছে…

ভাই আঙুল উঁচিয়ে দেয়ালে সাজানো একটা ওয়ালমেট দেখিয়ে বললেন, ‘ওখানে লেখা—ভালোবাসলেই ঘর বাঁধা যাই না, ভালোবেসে ঘর বাঁধলেই সুখী হ‌ওয়া যাই না।’

বন্ধু ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে আছে, আমি বন্ধুর দিকে তাকিয়ে আছি, ভাই ওয়ালমেটের দিকে তাকিয়ে আছে, মেয়ে তখন আমাদের সামনে এসে পরস্পর মুখ চাওয়াচাওয়ি দেখে ভিরমি খেয়ে গেছে। কী বলবে বুঝতে না পেরে ফ্লোরের দিকে তাকিয়ে আছে। 

বিস্কুটটা খানিক কসরত করে গলাধঃকরণ করে বাকিটা কোনোরকমে প্লেটে রেখে ভাই মেয়েটির দিকে তাকিয়ে, ‘আসি, ভালো থাকবেন। আসসালামু আলাইকুম।’ বলেই হনহন করে বেরিয়ে গেলেন। বেরিয়ে বন্ধুকে বললেন, ‘দ্রুত হাঁট, চল বাসায় চলে যায়’ বলেই নিজের মুখ চেপে ধরলেন।

নাহ্‌, এ–যাত্রায় মনে হয় আর বিয়ে খাওয়া হলো না।

আরও পড়ুন
আরও পড়ুন
আরও পড়ুন
আরও পড়ুন
আরও পড়ুন
আরও পড়ুন
আরও পড়ুন
আরও পড়ুন
আরও পড়ুন
আরও পড়ুন
আরও পড়ুন
আরও পড়ুন
আরও পড়ুন
আরও পড়ুন
আরও পড়ুন
আরও পড়ুন
আরও পড়ুন
আরও পড়ুন