মামদানি সেজে ১০০ ডলার পুরস্কার

জোহরান মামদানিছবি: সংগৃহীত

চেহারা নিয়েও রাজনীতি হয়, নিউইয়র্কে মেয়র হওয়া যায় নির্বাচনে, আবার কৌতুকও করা যায়। মেয়রের লুক-অ্যালাইক হওয়া যায় ওয়াশিংটন স্কয়ার পার্কে। গত রোববার, ৩০ আগস্ট ২০২৬, সেখানেই সেই দ্বিতীয় পথটা খোলা ছিল। পুরস্কার এক শ ডলার। প্রশ্ন একটাই—প্রিয় পিৎজা কী?

জোহরান মামদানি এখন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র। গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রী, তরুণ, সোশ্যাল মিডিয়ায় চলতি মুখ। তাঁর চুল, দাড়ি, স্যুট, এমনকি নিক্সের জার্সি পর্যন্ত এখন লুক-অ্যালাইক প্রতিযোগিতার বিষয়। শতাধিক মানুষ জড়ো হলেন সেই সাদৃশ্য দেখতে। পার্কে পারমিট নেই, পুলিশ সরিয়ে দিল। প্রতিযোগিতা সরে গেল ফুটপাতে। গণতন্ত্রের এই ছোটখাটো স্থানান্তর নিউইয়র্কে নতুন নয়।

ওয়াশিংটন স্কয়ার পার্কে প্রতিযোগীরা। হাত নাড়ছেন ফুস্কাও
ছবি: সংগৃহীত

বিজয়ী হলেন আমাদেও ফুস্কা। বয়স চল্লিশ, পেশায় কমেডিয়ান। মামদানির চেয়ে ছয় বছরের বড়, কিন্তু লুকটা তাঁরই কাছাকাছি। স্যুটের ভেতরে নিক্সের জার্সি—মেয়র যেদিন চ্যাম্পিয়নশিপ উদ্‌যাপন করেছিলেন, সেই লুক। ভিড় হাততালি দিল। এক শ ডলার গেল তাঁর পকেটে। তিনি আগে থেকেই মামদানির লুক-অ্যালাইক হয়ে ভিডিও করেন। এবার সেই লুকেই জিতলেন।

ওয়াশিংটন স্কয়ার পার্কে প্রতিযোগীরা। হাত নাড়ছেন ফুস্কাও
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিযোগীরা এসেছিলেন নানা সাজে। কেউ বাদামি স্যুট—মামদানির নির্বাচনী পোশাক। কেউ রুপার আংটি, লাল-কালো টাই। একজন শার্ট খুলে অ্যাপ্রন পরে দাঁড়ালেন। মামদানি একসময় ‘মিস্টার কার্ডামম’ নামে র‍্যাপ করতেন, সেই স্মৃতি। রাজনীতিবিদের পুরোনো গানও এখন কস্টিউম।

প্রশ্ন ছিল পিৎজা নিয়ে। উত্তর যা-ই হোক, জিতলেন যিনি বেশি হাততালি পেলেন। নীতি নয়, লুক। ইশতেহার নয়, ইশারা। নিউইয়র্কের তরুণেরা মেয়রকে ভোটও দেন, তাঁর লুক-অ্যালাইকও খোঁজেন। দুটোই ভালোবাসা।

জোহরান মামদানি
ছবি: এআই দিয়ে বানানো

বাংলাদেশে এমন প্রতিযোগিতা হলে প্রশ্নটা বদলে যেত। প্রিয় পিৎজার বদলে প্রিয় ভর্তা, কিংবা প্রিয় নেতার প্রিয় গান। কিন্তু মূলকথা একই থাকত—ক্ষমতার মুখ যখন চেনা হয়ে যায়, মানুষ সেই মুখের লুক-অ্যালাইক খুঁজে বেড়ায়। কখনো ব্যঙ্গে, কখনো ভালোবাসায়, কখনো এক শ ডলারের লোভে।

এপি অবলম্বনে এআইয়ের সহায়তায় লেখা।