১৯৮১ সালে বোকা জুনিয়র্সে যোগ দেন ম্যারাডোনা। তাঁর তেলেসমাতিতে চ্যাম্পিয়ন হয় ক্লাবটি। এরপর ইউরোপে গিয়ে খেলেন বার্সেলোনা, নাপোলি ও সেভিলা ক্লাবের হয়ে। অল্প দিনের জন্য আর্জেন্টিনার নেয়েলস ওল্ড বয়েজ ক্লাবে খেলার পর ১৯৯৫ সালে ফিরে যান বোকা জুনিয়র্সে।

ম্যারাডোনা ১৯৮২, ১৯৮৬, ১৯৯০ ও ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপে খেলেছেন। ১৯৮২ সালের বিশ্বকাপে হাঙ্গেরির বিপক্ষে দুটি গোল করা ছাড়া বলার মতো তেমন কিছু নেই। ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে ম্যারাডোনা আবির্ভূত হন স্বমহিমায়। কোয়ার্টার ফাইনালে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে স্মরণীয় দুটি গোল করেন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। প্রথম গোলটি করেন হাত দিয়ে, যা ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল নামে পরিচিত। এই বিতর্ক পেছনে ফেলে মাত্র ৪ মিনিট পরে মিডফিল্ড থেকে বলের দখল নিয়ে মাঠের অর্ধেকেরও বেশি অংশ পাড়ি দিয়ে এবং একে একে পাঁচজন ডিফেন্ডার এবং গোলরক্ষককে কাটিয়ে শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ গোলটি করেন জাদুকর। এরপর সেমিফাইনালে আরও দুটি গোল করে একক কৃতিত্বে ফাইনালে নিয়ে যান আর্জেন্টিনাকে। ফাইনালে গোল না করলেও জয়সূচক গোলের পেছনে রাখেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা এবং টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার ওঠে তাঁরই হাতে।

১৯৯০ সালের বিশ্বকাপেও ম্যারাডোনা ঝলক দেখা গেছে। তবে ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে নজরকাড়া সাফল্যের পর ওই বিশ্বকাপে ব্যাপকভাবে ফাউলের শিকার হন তিনি। দ্বিতীয় পর্বে ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যারাডোনার অসাধারণ পাস থেকে ক্যানিজিয়া একমাত্র গোলটি করেন। ফাইনালে জার্মানির কাছে বিতর্কিত পেনাল্টিতে হেরে যায় আর্জেন্টিনা। ড্রাগ পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়ে ম্যারাডোনা ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপ শেষ করতে পারেননি। গ্রুপ পর্ব থেকেই ছিটকে পড়ে তাঁর দল।

ম্যারাডোনা ২১ বছরের পেশাদার ক্যারিয়ারে ৪৯০টি ম্যাচ খেলেছেন, গোল করেছেন ২৫৯টি। এর মধ্যে আর্জেন্টিনার হয়ে ৯১ ম্যাচে গোল করেন ৩৪টি। শেষ ম্যাচটি খেলেন ১৯৯৭ সালের ২৫ অক্টোবর।

২০০৮ সালে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের কোচের দায়িত্ব পান ম্যারাডোনা। ২০১০ সালের বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে জার্মানির কাছে ৪ গোলে পরাজিত হওয়ার ফলে তাঁর চুক্তির মেয়াদ আর বাড়ানো হয় না। এরপর বেশ কিছু ক্লাবে কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

গত শতাব্দীর সেরা খেলোয়াড় নির্বাচন করার সময় ফিফা ইন্টারনেটে একটি জরিপ চালায়। সেখানে ৫৩ দশমিক ৬ শতাংশ ভোট পেয়ে ম্যারাডোনা শতাব্দীর সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন। ২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর বুয়েনস এইরেসেরে টাইগ্রে শহরে মারা যান ম্যারাডোনা। তবে ফুটবল জাদুকর ছায়া হয়ে সব সময় আর্জেন্টিনা দলের সঙ্গেই আছেন, আর আছেন কোটি ভক্তের হৃদয়ে।