এইটা কেমনে সম্ভব!

আপনি কোথায় যান, কী খান, কীভাবে খান, কী চাকরি করেন, বেতন কত, সেই চাকরি কীভাবে পেলেন, প্রেম করছেন কি না, বিয়ে করছেন না কেন, বাচ্চা নিচ্ছেন না কেন…আপনার সমস্ত ইনফরমেশন আপনার কোনো না কোনো আত্মীয় জানে। শুধু যে জানে তা-ই না, সবকিছু তারা গল্পের আসরে ফাঁসও করে দেয়। তথ্য ফাঁসের এই ব্যাপারটা একটা ঐতিহ্যের মতো। এই বঙ্গদেশে আপনি কোনোভাবেই নিজের প্রাইভেসি রক্ষা করতে পারবেন না। তাতে আপনি বিরক্ত বা হতাশ, যা-ই হন না কেন। 

তবে একটা নিউজ আপনার এই প্রাইভেসিবিষয়ক দুশ্চিন্তার জীবনে কিছুটা হলেও স্বস্তির পরশ বুলিয়ে দিতে পারে। 

সম্প্রতি পত্রিকার নিউজ, নিজের মুঠোফোনের ফাঁস হওয়া তথ্য দেখে মন্ত্রী বললেন, এটা কীভাবে সম্ভব!

নিউজটা এ রকম— 

দেশের মানুষ মুঠোফোনে কার সঙ্গে কথা বলেন, কী বার্তা পাঠান, কোথায় কোথায় যান—এসব তথ্য টাকা দিলেই জানা যায়। রীতিমতো ওয়েবসাইট খুলে নাম নিবন্ধন করে তা বহুদিন ধরে বিক্রি হয়। 

যাঁরা বিক্রি করেন, তাঁদের কাছে ৬ সেপ্টেম্বর পাঠানো হয়েছিল একজন মন্ত্রীর নম্বর। দেওয়া হয়েছিল তাঁদের দাবি করা টাকা। কয়েক ঘণ্টা পরই পাওয়া যায় সেই মন্ত্রীর মুঠোফোনের কল ডিটেইলস রেকর্ড (সিডিআর)। সিডিআরে মন্ত্রী তিন মাসে কার সঙ্গে কত সময় কথা বলেছেন, কখন কথা বলেছেন, কথা বলার সময় তিনি কোথায় অবস্থান করেছেন ইত্যাদি নানা গোপন তথ্য রয়েছে। 

সিডিআর আসল কি না, তা জানতে ৭ সেপ্টেম্বর গেলাম মন্ত্রীর দপ্তরে। সিডিআর দেখানোর পর মন্ত্রী নিজের মুঠোফোন বের করলেন। মিলিয়ে দেখলেন। তারপর অবাক হয়ে বললেন, এটা কীভাবে সম্ভব! তাহলে তো কেউ নিরাপদ নয়। [প্রথম আলো, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬]

এই হচ্ছে অবস্থা। দেশের মন্ত্রীই যখন তথ্য ফাঁসের ঘটনায় অবাক হয়ে বলেন, এটা কীভাবে সম্ভব, তখন আপনি আর কী করবেন! আপনি বরং নিশ্চিন্তে যা করার করে যান। কোনো আত্মীয় আপনার তথ্য জেনে ফেললে বিরক্তি চেপে রেখে মন্ত্রীর মতো আকাশ থেকে পড়ার ভান করে দশবার বলবেন, আয়হায়, এইটা কেমনে সম্ভব! দেখবেন, ভালো লাগবে।