কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আগে

আপনি স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে কলেজে উঠছেন বা কলেজ শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হচ্ছেন, ঠিক এমন সময় আপনি দেখা পাবেন নানা ধরনের জ্ঞানীর। এঁরা আপনার চাচার ফুফুর মেয়ের জামাইয়ের ভাবির ভাই-টাইপ আত্মীয়স্বজন। আপনার জীবনের এমন টার্নিং পয়েন্টগুলোতে তাঁরা আপনার জন্য ব্যাকুল হয়ে যাবেন এবং কোন কলেজের তুলনায় কোন কলেজ ভালো, কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা কেমন হয়, কোন ক্যাম্পাসের ছেলেমেয়েরা কীভাবে চলাফেরা করে—সবই তাঁরা বলে দিতে পারবেন অনায়াসে।

default-image

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ না পেলে

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স না পেলেও কিছু জ্ঞানীর দেখা পাবেন। তাঁরা আপনাকে নানা ধরনের জ্ঞানমূলক উপদেশ দিতে আসবেন এবং সেটা সম্পূর্ণ নিঃস্বার্থে ও ‘শুধু কোম্পানির (পড়ুন নিজেদের) প্রচারের জন্য’।

মোবাইল ফোন বা ল্যাপটপ কেনার সময়

default-image

আপনার আশপাশের মানুষজন জানতে পারল, আপনি মোবাইল ফোন বা ল্যাপটপ কিনবেন। অথবা আপনি এমন কিছু লিখে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিলেন। সঙ্গে সঙ্গেই কমেন্টের বন্যায় ভেসে যাবেন আপনি। ‘এই কোম্পানির না কিনে ওই কোম্পানির কেনো’, ‘এই মোবাইল ফোন গরম হয় বেশি, ওই মোবাইলে চার্জ থাকে না, এটার ক্যামেরা ভালো’—নানা ধরনের জ্ঞান দিয়ে আপনাকে মুহূর্তে বিশারদও বানিয়ে
দেবেন তাঁরা। (তাঁদের এসব রিভিউ ভিডিও করে ইউটিউবে ছেড়ে দিলে অবশ্য ভালো ভিউ পাওয়া সম্ভব।)

হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন ও প্রয়াণদিবসের আগে–পরে

default-image

নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন কিংবা প্রয়াণদিবসের আগে–পরে ফেসবুকেই পাবেন এই জ্ঞানীদের দেখা। মিনিট পাঁচেক ফেসবুক স্ক্রল করলে কমপক্ষে তিন–চারটি স্ট্যাটাস পাবেন হুমায়ূনকেন্দ্রীক। সেসব স্ট্যাটাসের মূল বক্তব্য হলো হুমায়ূন কতটা বড় কিংবা কতটা ক্ষুদ্র লেখক। এই দুটি দিনের আগে–পরে হুমায়ূন আহমেদ যেন ইলাস্টিক! কেউ তাঁকে টেনে বড় করতে চায় তো কারও লক্ষ্য ছোট করা। হুমায়ূন আহমেদ নিয়ে অবশ্যই আলোচনা–সমালোচনা হবে। তবে এই দুটি দিনে দুই পক্ষের জ্ঞানীরা এমন সব কথা বলবেন, শুনে মনে হবে—এই দেশে কত জ্ঞানী! কত জ্ঞানী! কাজকর্মে অবশ্য তাঁদের নমুনা বিরল!

একটু থামুন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন