সাকিবের এক লুকেই যে বাসমালিকদের বাজিমাত, সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে কেউই জানেন না সাকিব আদতে কোন রুটের বাসের কন্ডাক্টর। অনেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গুগলে সার্চ করেও সাকিবের বাস–সম্পর্কিত কোনো তথ্য জোগাড় করতে পারছেন না।

রাস্তার পাশে বসে কান্নারত এক তরুণীর কান্নার হেতু জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘ভাই, ৩০ দিন মেয়াদের ২০ জিবি ইন্টারনেট মাত্র ২ ঘণ্টায় শেষ করেছি স্রেফ “সাকিব কোন রুটের বাসে কাজ করে” লিখে গুগল সার্চ দিয়ে। সকাল থেকে এখানে দুরবিন নিয়ে বসে আছি কোনো বাসের ভেতর সাকিবকে দেখা যায় কি না, সে আশায়। কিন্তু কিছুই পেলাম না। প্লিজ, আপনি একটু যান এখন। আমাকে আরও তিন ঘণ্টা কেঁদে কিছুটা হালকা হতে হবে।’

এদিকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া এক তরুণী অন্য রকম স্বপ্ন দেখছেন। ‘একটু থামুন’–এর ফেক প্রতিনিধিকে দেখামাত্রই দৌড়ে সামনে এসে বলেন, ‘আপনি এখানে কেন এসেছেন, সেটা আমি ভালো করেই জানি। হ্যাঁ, আমিও সাকিবকে ভালোবাসি। আমি স্বপ্ন দেখি এমন একদিনের, যেদিন লোকাল বাসে ভাড়া নিতে এসে আমার সঙ্গে সাকিবের দেখা হয়ে যাবে, আমি তাঁকে প্রপোজ করব। এরপর ফেব্রুয়ারি মাসে ভালোবাসা দিবসে আমাদের ভালোবাসা নিয়ে “বাসে আসার গল্প” নামে নাটক বের হবে। উফ্, আর ভাবতে পারছি না!’ বলেই নিজের স্কুটি ফেলে বাসের পেছনে ছুটতে লাগলেন তিনি।

default-image

এ ছাড়া সারা ঢাকা শহরের সব বাসস্টেশনে সকাল থেকেই অসংখ্য তরুণীকে ভিড় করতে দেখা গেছে। সাকিব কোন রুটের বাসের কন্ডাক্টর, সেটা না জানা সত্ত্বেও ফার্মগেটের বাসের লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন কেন? এমন প্রশ্ন করতেই এক তরুণী বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই আমার জীবনের লক্ষ্য ছিল একজন বাসের কন্ডাক্টরকে বিয়ে করব। সেই কন্ডাক্টরের খোঁজেই আজ বের হলাম। আর ভালোবাসা যেহেতু অন্ধ, সেহেতু আমাকে আমার মনের মানুষের বাসের রুট জানার দরকার নাই। আমার খোঁজে সে ঠিকই একদিন আমার সামনে আসবে, আর বলবে, “এই আপা, কোইত্থেইকা উঠছেন? তাড়াতাড়ি ভাড়াটা হাতে লন”।’

একটু থামুন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন