সে সময় ব্রিটিশ সরকার আমেরিকার জনগণের মনোভাব বুঝতে পারেনি বা বুঝেও গুরুত্ব দেয়নি। ব্রিটেন সরকারের এ উদাসীনতা আমেরিকার জনগণের ব্রিটিশবিরোধী মনোভাবকে চাঙা করে তোলে। ফলে ১৭৭৫ সালে আমেরিকার ১৩টি উপনিবেশ মিলে যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলে। খণ্ড খণ্ড যুদ্ধে অবতীর্ণ হয় ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে। এসব যুদ্ধে জর্জ ওয়াশিংটনের নেতৃত্বে আমেরিকান বাহিনী সাফল্য অর্জন করে। সক্ষম হয় বিভিন্ন শহর থেকে ব্রিটিশ বাহিনীকে বিতাড়িত করতে।

১৭৭৬ সালের ৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্র স্বাধীনতা ঘোষণা করলে ব্রিটিশ সরকার আমেরিকায় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক সৈন্য পাঠায়। প্রবল যুদ্ধে ব্রিটিশরা বিভিন্ন জায়গা পুনর্দখল করতে সক্ষম হয়। তখন আমেরিকার সাহায্যে এগিয়ে যায় ব্রিটেনের দীর্ঘদিনের শত্রু ফ্রান্স, যারা ব্রিটেনকে দুর্বল করে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার চেষ্টা করছিল।

এরপর ১৭৭৯ সালে স্পেন আমেরিকার পক্ষে যোগ দেয়। আমেরিকার উপকূলে রাশিয়া দুটি যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়ে আমেরিকার যুদ্ধের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করে। তা ছাড়া ইউরোপের কিছু দেশ গোপনে আমেরিকাকে অস্ত্র ও রসদ সরবরাহ করতে থাকে। ফলে যুদ্ধের মোড় ঘুরে যায় এবং বিভিন্ন স্থানে ব্রিটিশ বাহিনী পরাজিত হতে থাকে।

আমেরিকার স্বাধীনতাযুদ্ধের ইতিহাসে ১৭৮১ সালের ১৯ অক্টোবর দিনটি ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। এই দিনে ব্রিটিশ জেনারেল লর্ড কর্নওয়ালিস আট হাজার সৈন্যসহ ভার্জিনিয়ার ইয়র্কটাউনে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন এবং যৌথ বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হন। যদিও অন্যান্য অঞ্চলে যুদ্ধ অব্যাহত ছিল কিন্তু এই আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে কার্যত আমেরিকায় ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটে।

দীর্ঘ আট বছর ধরে চলা যুদ্ধ শেষে পরাজিত ব্রিটিশরা আমেরিকার সঙ্গে শান্তি আলোচনার প্রস্তাব দেয়। ১৭৮২ সালে শান্তি আলোচনা শুরু হয় এবং ১৭৮৩ সালের ৩ সেপ্টেম্বর স্বাক্ষরিত হয় ‘প্যারিস চুক্তি’। এ চুক্তির মাধ্যমে ব্রিটেন যুক্তরাষ্ট্রকে একটা স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

ইতিহাসের প্রথম ঔপনিবেশিক দেশ হিসেবে আমেরিকা তাদের প্রভু ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে এবং জয়লাভ করে। মূলত আমেরিকার এই জয়ের মাধ্যমে ব্রিটিশ আধিপত্যবাদের পতনের সূচনা হয়।