আমরা আশায় ছিলাম, সাক্ষাৎকারের কোনো এক পর্যায়ে দিনে ১৪ বার বলার মতো একটা সত্য কথা বলবেন অভিনেতা ফারুক আহমেদ। তিনি বলেছেন। আর এই সত্য কথাটা ফারুক আহমেদের মুখ থেকে কোনো রকম ছল-বল-কৌশল ছাড়াই বের করে এনেছেন আহমেদ ইশতিয়াক।
• ফারুক ভাই, কেমন আছেন?
• আমি তোমার কোন কালের ভাই? আমারে স্যার ডাকবা!
• আচ্ছা। সরি, স্যার! কেমন আছেন?
• ভালো। কী জন্যে ডাকছ, শর্টকাটে বলো। অধিক কথায় কোনো সার্থকতা নাই। আমি অধিক কথা পছন্দও করি না!
• রেগে যাচ্ছেন কেন? এখানে আসার সময় কি বিরাট ‘ফাডাফাডি’ কিছু হইছে?
• না, তুমি উল্টাপাল্টা প্রশ্ন করলে বিরাট ‘ফাডাফাডি’ হবে!
• সোজা প্রশ্নই করি। আপনাকে নিয়ে অনেক মিম হয়। লোকে বলে, আপনি মিম–সাম্রাজ্যের মুকুটহীন সম্রাট। আপনার কেমন লাগে?
• খুব ভালো। আনোয়ার হোসেন যেমন সিরাজউদ্দৌলার মুকুটহীন সম্রাট, আমি মুকুটহীন মিম সম্রাট। আর মিম সম্রাজ্ঞী হতে পারে মিম…বিদ্যা সিনহা মিম!
• হা হা! এবার ভয়ে ভয়ে একটা প্রশ্ন। উড়ে যায় বকপক্ষীর তৈয়ব কারও ধার ধারে না, ব্যক্তি ফারুক আহমেদ কারও ধার ধারে?
• অন্য কারও ধার ধারি না, শুধু স্ত্রীর ধার ধারি!
• তাহলে মুকুটহীন সম্রাটের ওপরও একজন সম্রাট আছেন!
• সম্রাজ্ঞী!
• তাকে কি কখনো বলেন, ‘ধুরু ছাতা, ভাতই খাব না?’
• আমি ফার্মের কিছু খাই না। রাতে খেতে বসে ফার্মের মুরগি দেখলেই বলি, ‘ধুরু ছাতা, ভাতই খামু না।’
• তখন উনি কী বলেন?
• প্রথমে বলে, ‘খাইয়ো না।’ কিছুক্ষণ পর রিকোয়েস্ট করে, ‘খাও!’ কিন্তু তখনো আমার রাগ না কমলে লাথি দিয়ে প্লেট–গ্লাস ভেঙে ফেলি।
• কী বলেন এসব!
• হ্যাঁ। তখন আমার কন্যা বলে, ‘কী হইছে ওখানে?’ আমি বলি, ‘কিছু হয় নাই, মা। তোমার মায়ে প্লেট ভাঙছে!’
• বলেন কী! সত্যি?
• সত্যি কি না, বুইঝা লন। আসলে বউ যখন বলে, ‘নিজে রেঁধে খাও,’ তখন ভয়ে সুরসুর করে খেয়ে নিই!
• আচ্ছা আচ্ছা! অন্য প্রশ্নে যাই। আপনাকে নিয়ে বানানো মিম আপনি কাউকে পাঠান?
• হ্যাঁ। আমার প্রেমিকাকে পাঠাই।
• বুঝলাম না! অনেক আগের কথা নাকি?
• আমি সব সময় প্রেম করি। প্রেম সব সময় করা যায়। আমার বয়স ৭০–এর কাছাকাছি, এই বয়সেও প্রেম আসতে পারে।
• দিনে ১৪ বার বলার মতো একটা সত্য কথা বলছেন স্যার!
• অবশ্যই।
• হুমায়ূন আহমেদ স্যারের সাথে আপনার অনেক স্মৃতি। মজার একটা ঘটনা বলবেন?
• এক দুপুরে হুমায়ূন ভাই আমাকে ডাকলেন চ্যানেল আইতে। আমি গেলাম। হুমায়ূন ভাই বললেন, ‘বসো, নাটক দেখি (ওখানে এডিটিং হতো তাঁর নাটকের)। তারপর আমরা খাব। তুমি কি খেয়ে আসছ?’
আমি বললাম, হ্যাঁ। আসলে খাইনি। মিথ্যা বলেছি, যাতে আমার জন্য আলাদা ব্যবস্থা করতে না হয়। কিন্তু নাটক দেখার পর হুমায়ূন ভাই আমার হাত খপ করে ধরে বললেন, ‘খেতে বসো।’ তিনি হাত ছাড়েন না, আমিও বসি না। হুমায়ূন ভাই বললেন, ‘ফাজিল, তোমার গায়ে দেখি অনেক জোর!’
একপর্যায়ে আমি বসলাম। হুমায়ূন ভাই অনেক খাবার রাখতেন সামনে। নিজে কম খাইতেন কিন্তু খাওয়াতে পছন্দ করতেন। আমার পেটে তো ক্ষুধা। আমি চুপচাপ খেয়েই যাচ্ছি। হঠাৎ হুমায়ূন ভাই বললেন, ‘তুমি খেয়ে আসছ, তাতেই এত খাচ্ছ? না খেয়ে আসলে কী করতা?’
• হা হা! আচ্ছা, আমরা শেষ দিকে। আপনাকে নিয়ে যারা এত এত মিম বানায়, তাদের উদ্দেশে কিছু বলবেন?
• মিমারদের বলতে চাই, আমার ভালো ভালো জিনিসও আছে, সেগুলো বেশি বানাবেন। মানে ওই মিমটা এত বেশি চলে… অনেকে ভাবে, আমি সত্যিই নেশা করি। কিন্তু ইহা সত্য নহে! আমার নেশা দুইটা। প্রেম করা আর বই পড়া!
• তাহলে এটা নিয়ে একটু হলেও দুঃখ…
• আমি মারা গেলে লোকে বলবে, বিখ্যাত অভিনেতা ফারুক আহমেদ মারা গেছেন। তাঁর একটা বিখ্যাত ডায়লগ ছিল, ‘আমি তো লেখাপড়াই জানি না, গাঞ্জা খাইয়াই কূল পাই না, লেখাপড়া করুম কুন সময়!’ এটা কেমন না!
• স্যার, চিন্তা করবেন না। আমরা ব্যাপারটা দেখব। বলুন, মারা যাওয়ার পর আপনি কী শুনতে চান!
• কিচ্ছু না, শুধু মানুষের ভালোবাসা চাই।
• স্যার, আবেগে…
• কাইন্দা দিতে ইচ্ছা করতেছে? কান্দো, কান্দো। আমি যাই। বিদায়।