১৯৮৪ সালের নভেম্বরে ভূতাত্ত্বিকেরা নেভাদো দেল রুইজের কাছে ভূমিকম্পের ক্রমবর্ধমান মাত্রা পর্যবেক্ষণ করেন। এ ধরনের ভূমিকম্পকে অগ্ন্যুৎপাতের পূর্বলক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আগ্নেয়গিরির চূড়ায় সালফার জমা হওয়া ও আগ্নেয়গিরি থেকে ছাই নির্গত হওয়ায় ১৯৮৫ সালের অক্টোবরে জারি করা হয় সতর্কতা। তবে কর্তৃপক্ষ উচ্চমাত্রার অগ্ন্যুৎপাত হতে পারে, এমন ধারণা করতে ব্যর্থ হয়। ফলে আগ্নেয়গিরির আশপাশের মানুষদের সাধারণ প্রস্তুতি নিতে বলা হয়।

১৯৮৫ সালের ১৩ নভেম্বর বিকেলে নেভাদো দেল রুইজ বিস্ফোরিত হতে শুরু করে। আগ্নেয়গিরি থেকে লাভার স্রোত ৪ ঘণ্টায় প্রায় ১০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে মাটি ক্ষয় করে এবং গাছপালা ধ্বংস করে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। লাভার একটি প্রবাহ ৫০ কিলোমিটার দূরে লেগুনিলা নদীর অববাহিকায় আর্মেরো শহরটিকে কার্যত ঢেকে ফেলেছিল। শহরের মোট ২৯ হাজার বাসিন্দার মাত্র এক-চতুর্থাংশ প্রাণে বেঁচেছিল। আরেকটি প্রবাহ ক্লারো নদীর অববাহিকা দিয়ে নেমে চিনচিনা শহরের প্রায় ১ হাজার ৮০০ জনের প্রাণ কেড়ে নেয়।

এই অগ্ন্যুৎপাতে মোট ২৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয় এবং প্রায় ৫ হাজার মানুষ হয় আহত। পাঁচ হাজারের বেশি ঘরবাড়ি ধ্বংস হয় এবং পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় দুই লাখের বেশি মানুষ। নিঃসৃত পদার্থের মোট ওজন ছিল প্রায় ৩৫ মিলিয়ন টন।

বিজ্ঞানীরা সঠিকভাবে জানতেন না কখন অগ্ন্যুৎপাত ঘটবে। তা ছাড়া অগ্ন্যুৎপাতের সঠিক প্রতিরোধব্যবস্থা গ্রহণ করাও সম্ভব ছিল না। এই আগ্নেয়গিরিতে অগ্ন্যুৎপাত ঘটেছিল ১৪০ বছর আগে। ফলে অগ্ন্যুৎপাতের সম্ভাব্য বিপদ সম্পর্কে শহরবাসীদের ধারণা দেওয়া কঠিন ছিল। তা ছাড়া স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সম্ভাব্য পরিস্থিতির ভয়াবহতা সম্পর্কে নাগরিকদের সতর্ক করতে ব্যর্থ হয়।

এই দুর্যোগের অন্যতম ঘটনা হচ্ছে ওমায়রা সেনশেজ নামের ১৩ বছরের একটি মেয়ের মৃত্যু। মেয়েটি একটি বিধ্বস্ত ভবনের নিচে আটকা পড়ে। আড়াই দিন সংগ্রাম করে মারা যায় সে। মেয়েটিকে উদ্ধারে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয় কর্তৃপক্ষ। অগ্ন্যুৎপাতের হাজার হাজার মৃত্যুর ঘটনার মধ্যে মেয়েটির মৃত্যু পৃথিবীর মানুষকে বিশেষভাবে মর্মাহত করে। ওই কিশোরীর আটকা পড়ার ছবিগুলো বিশ্বব্যাপী বিপর্যয়ের প্রতীক হয়ে ওঠে।