অস্কারের বয়স যখন নয় বছর, তখন গৃহপরিচারিকার কাছ থেকে ফরাসি ভাষা এবং গৃহশিক্ষিকার কাছ থেকে জার্মান ভাষা শিখে নেন। পারিবারিক শিক্ষার পর তাঁকে পোটোরা রয়্যাল স্কুলে ভর্তি করানো হয়। সেখানে তাঁর বুদ্ধিমত্তা ও সৃজনশীলতা দেখে শিক্ষকেরা মুগ্ধ হন।

১৮৭১ সালে অস্কার ওয়াইল্ড ডাবলিনের ট্রিনিটি কলেজে ভর্তি হন। ট্রিনিটি কলেজ সে সময় অন্যতম সেরা কলেজ হিসেবে খ্যাতি পেয়েছিল। এই কলেজে পড়ার সময় তিনি সাহিত্য চর্চা শুরু করেন এবং বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় লেখা পাঠাতে শুরু করেন। ১৮৭৪ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য ভর্তি হন ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানে গিয়ে তাঁর জীবন সম্পর্কে নতুন উপলব্ধি হয়। দুই শিক্ষক জন রাসকিন ও ওয়াল্টার প্যাটারের সহচার্যে তাঁর চিন্তাভাবনা হতে থাকে বিকশিত।

প্রথম শ্রেণির ডিগ্রি নিয়ে অক্সফোর্ড থেকে লন্ডনে ফিরে আসেন অস্কার। বিচিত্র পোশাক পরে ঘুরে বেড়াতে শুরু করেন বিভিন্ন স্থানে। অসাধারণ বাগ্মিতার জন্য অল্প সময়ের মধ্যে সবার পরিচিত হয়ে ওঠেন। এভাবে বছরখানেক কবিতার ওপর বক্ত‍ৃতা দিতে দিতে খ্যাতিও জুটে যায়। বক্ত‍ৃতা দেওয়ার আমন্ত্রণ পেয়ে ১৮৮২ সালে নিউইয়র্কে গিয়েছিলেন। ফিরে এসেছিলেন প্রচুর খ্যাতি আর অর্থ নিয়ে। ১৮৮৪ সালে লন্ডনের এক আইনজীবীর মেয়ে কন্সটেন্স লয়েডকে বিয়ে করেন। জন্ম নেয় তাঁদের দুই পুত্রসন্তান। যদিও তাঁদের দাম্পত্য জীবন সুখকর ছিল না।

প্রকৃত অর্থে অস্কারের সাহিত্যচর্চা শুরু ১৮৮৭ সালে, যখন তিনি ‘দ্য উইম্যানস ওয়ার্ল্ড’ পত্রিকা সম্পাদনার দায়িত্ব নেন। তখন লিখতে থাকেন গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ ও নাটক। মূলত নাটক লিখে খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছান অস্কার। তাঁর রচিত নাটক অভিনীত হতে থাকে বিভিন্ন থিয়েটারে।

১৮৯৫ সালে তাঁর বিরুদ্ধে সমকামিতার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দুই বছর জেলও খাটেন। জেল থেকে ছাড়া পেয়ে চলে যান প্যারিসে। জীবনের শেষ দিনগুলো সেখানেই কাটিয়েছেন। চরম দুর্দশা ও অর্থসংকটের মধ্যে ১৯০০ সালের ৩০ নভেম্বর প্যারিসের একটি হোটেলে মৃত্যু হয় এই সাহিত্যিকের। প্যারিসের বিখ্যাত ‘পের লা শেজ’ কবরস্থানে তাঁকে সমাহিত করা হয়।