রসের আলো এত্ত নিলাজ, এত্ত গাড়ল-গোঁয়ার;
বোঝেই না, হায়—কখন ভাটা, কখন আসে জোয়ার।
কখন কোথায় থামতে হবে, কখন কোথায় শুরু;
পান্থপথের সাহস দেখে কোঁচকে কেবল ভুরু।
কত্ত রকম কাণ্ড করি, হয় না তবু বশ;
আটাশ বছর পরেও ওদের চুইয়ে পড়ে রস।
রসের হাঁড়ি, যশের হাঁড়ি—ফুরোচ্ছে না ওদের;
রাষ্ট্রে ওরা বিষের ফোড়া, কিসের ওপর? গোদের।
মুহুর্মুহু মিছিল-মিটিং—শূন্য দশক থেকেই;
যাচ্ছে তবু লিখেই ওরা, যাচ্ছে ওরা এঁকেই।
দেশের মানুষ ঘুমায় কেন—উঠুন এবার, জাগুন;
‘আলো’র নাচন বহাল কেন লাগার পরও আগুন?
অশ্ববেগে ছুটবে কেন ভস্ম হওয়ার পরও;
সকল কিছুর ঊর্ধ্বে ওরা? সবার চেয়ে বড়?
আমরা তবে ধঞ্চে নাকি, ঢাকায় আসা ভেসে?
গড়তে না-হোক, ভাঙতে পারি— সকল কিছু— হেসে।
পারছি না আর এদের নিয়ে, বেদের মেয়ে জোছন;
জিদের জোশে কান্দি বসে, অশ্রু না-যায় মোছন।
বন্ধ ছিল রসের আলো, ছাপবে নাকি আবার;
যুক্ত হলো নতুন জ্বালা, কম্ম হলো কাবার!
নতুন করে কাটবে ফোড়ন, মারবে আবার খোঁচা;
আমরা যারা ঊর্ধ্বনাসিক, আবার হব বোঁচা!
রাষ্ট্রজুড়ে ঘুরছে শনি, শনির পরই রবি;
শিক্ষা নিবি কখন তোরা? মানুষ কবে হবি?
থামলি না আর, নামলি না আর, নামল যখন সবে;
করব কী আর, বলব কী আর, তোদের দিয়েই হবে!
নিটোল পায়ে রিনিক্স, আবার নিটোল পায়ে ঝিনিক্স;
রসের আলো কাছিম যেন, আগুনচাপা ফিনিক্স।
চাঁদের হাসি বাঁধ ভেঙেছে, ফিরল রসের আলো;
তোমরা যারা যুবক আছ, ইউরেনিয়াম ঢালো;
হায়, আল্লাহ্! আমরা, খালেদ, আগেই ছিলাম ভালো।