প্রেম মানে না কোনো বাধা। সেখানে চ্যাম্পিয়নস লিগ তো কোনো বিষয়ই নয়! অবশ্য বার্সেলোনা গতবারই ইউরোপা লিগের প্রতি তাদের গোপন প্রেম প্রকাশ করে দিয়েছিল। কিন্তু অবিশ্বাসী এই বিশ্ববাসী, এমনকি স্বয়ং ইউরোপা লিগও বিশ্বাস করেনি বার্সেলোনার এই আকস্মিক ভালোবাসা। তাই গতবারই ইউরোপা লিগ বার্সেলোনাকে বলেছিল, তুমি যদি সত্যিই আমাকে ভালোবেসে থাকো, তাহলে আরও একবার ওই হতচ্ছাড়া চ্যাম্পিয়নস লিগকে ছেড়ে দিয়ে আমার কাছে এসো। আমি তোমার অপেক্ষায় রইলাম!

সেই প্রেমের প্রমাণ দিতেই বার্সেলোনার সর্বকালের সেরাদের একজন জাভি হার্নান্দেজের হাত ধরে ইউরোপা লিগের উদ্দেশে ঘর ছাড়ল বার্সেলোনা।

এ ব্যাপারে জাভি হার্নান্দেজকে ইমোতে কল করা হলে তিনি বলেন, ‘বার্সেলোনার সঙ্গে চ্যাম্পিয়নস লিগের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের হলেও এখন হঠাৎই আমরা বুঝতে পারলাম যে আমাদের প্রকৃত ভালোবাসা আসলে ইউরোপা লিগ ছিল। পরিবার আর ফ্যানদের চাপে পড়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের সঙ্গে থাকতে হয়েছিল। তবে সেটা আর হতে দেওয়া যায় না। আমরা আমাদের ভালোবাসার কাছেই ফিরছি। আমাদের জন্য দোয়া করবেন।’

এদিকে ইউরোপা লিগের প্রতি বার্সেলোনার হঠাৎ উথলে ওঠা ভালোবাসা অনেকেই সন্দেহের চোখে দেখছেন। অনেকেই বলছেন, প্রেমের টানে নয়, বরং রোনালদোর টানেই নাকি বার্সেলোনা ইউরোপা লিগে যাচ্ছে। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক তারকার প্রতি বার্সেলোনার গোপন ভালোবাসা থাকতে পারে, এ কথা ‘একটু থামুন’-এর প্রতিনিধিরও বিশ্বাস হচ্ছিল না। তাই তিনি আবারও ইমোতে কল করলেন বার্সেলোনা শিবিরে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তা বলেন, ‘রোনালদোকে ভালোবাসার প্রশ্নই আসে না। আমরা ইউরোপা লিগের প্রেমে পড়েছি, রোনালদোর প্রেমে নয়।’

অন্যদিকে বার্সেলোনা চ্যাম্পিয়নস লিগ ছেড়ে চলে যাওয়ায় হতাশায় দিন কাটাচ্ছে বার্সেলোনা সমর্থকগোষ্ঠী। শোকে নিজের প্রেমিকার সঙ্গেই কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছে অনেকে। এমনই এক হতাশ তরুণের সঙ্গে ইমো ভিডিওতে কথা হয় ‘একটু থামুন’-এর প্রতিনিধির। চোখ লাল, বালিশ ভেজা এবং ঘরের সাউন্ডবক্সে বাজতে থাকা ‘এমনও তো প্রেম হয়, যা চোখের জলে কথা কয়’। এ রকম এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির মধ্যে শুয়ে থেকে তিনি বলেন, ‘বার্সেলোনা শুধু ইউরোপা লিগের ভালোবাসাটাই দেখল। আমাদের ভালোবাসাটা দেখল না। বুঝলি না তুইইই হোয়াট ইজ লাভ!’