শতরঞ্জি শত বছরেও আধুনিক
আজকের আধুনিক জীবনধারাতেও মানানসই, কার্যকর এবং দেশজ শিল্পধারার এক নান্দনিক উপকরণ শতরঞ্জি। শীত মৌসুমে অন্দরে অনন্যতা আনতে পারেন শতরঞ্জির ছোঁয়ায়।
ত্রয়োদশ শতাব্দীর কথা। রংপুর অঞ্চলে তখন শতরঞ্জিশিল্পের দারুণ পসার। একটা সময় দেশের বাইরেও ব্যাপক পরিমাণে রপ্তানি হতো শতরঞ্জি। শত বছরের এই শিল্প আজও হারায়নি গ্রহণযোগ্যতা। আজকের আধুনিক জীবনধারাতেও মানানসই, কার্যকর এবং দেশজ শিল্পধারার এক নান্দনিক উপকরণ শতরঞ্জি। শীত মৌসুমে অন্দরে অনন্যতা আনতে পারেন শতরঞ্জির ছোঁয়ায়।
মূলত তিন ধরনের শতরঞ্জি তৈরি করা হয়ে থাকে—সুতির সুতা, উল আর পাটের আঁশ দিয়ে তৈরি। বসার ঘর, পারিবারিক ঘর, শিশুর ঘর—সব জায়গাতেই দারুণ মানানসই শতরঞ্জি। কার্পেটের বিকল্প হিসেবে মেঝেতে তো বটেই, আরামদায়ক ও দৃষ্টিনন্দন আসন হিসেবেও শতরঞ্জি দারুণ। শীতের নিষ্প্রাণ আবহাওয়ায় উজ্জ্বল রঙের শতরঞ্জি ঘরে আনতে পারে উষ্ণতার আমেজ, রঙের পরশ। শতরঞ্জির এমন নানা সুবিধার কথা জানালেন ঢাকার গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের শিল্পকলা ও সৃজনশীল শিক্ষা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাবিহা মোনালিসা।
শতরঞ্জির কতশত সুবিধা
কৃত্রিম তন্তুর কার্পেট পরিষ্কার রাখা বেশ ঝক্কির। এ ছাড়া ভারী বলে এদিক–সেদিক সরাতে হলেও মুশকিলে পড়তে হয়। অন্যদিকে শতরঞ্জি পরিষ্কার করা যায় সহজেই, প্রয়োজনে এদিক-সেদিক সরিয়েও নানান কাজে লাগানো যায়। ২০ থেকে ৩০ ফুট পর্যন্ত হতে পারে শতরঞ্জির আকার। জ্যামিতিক মোটিফ, জামদানি মোটিফ বেশি ব্যবহার করা হয় শতরঞ্জিতে। নানা রঙের, আকারের এবং সুন্দর নকশার শতরঞ্জি থেকে বেছে নিতে পারেন আপনার পছন্দেরটি। এমনভাবে বাছাই করে নিতে পারেন, যাতে ঘরের অন্যান্য জিনিসপত্রের সঙ্গে মানিয়ে যায়। ঘরের পর্দা, কুশন কভার, বিছানার চাদর প্রভৃতির সঙ্গে রঙের সামঞ্জস্য থাকলে ভালো দেখাবে।
শীতকালে
শীতের সময়টা শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েন বাড়ির অন্যরা। ঠান্ডা মেঝেতে হাঁটলে ঠান্ডা লেগে যাওয়ার ভয়, আবার ঘরে মোজা বা জুতা পরে চলাফেরা করতেও হয়তো অস্বস্তি। ঠান্ডা মেঝে ঢেকে রাখাটা কিন্তু স্মার্ট সমাধান। শিশুরা খেলনা ছড়িয়ে নিয়ে বসতে পছন্দ করে। হাত-পা ছড়িয়ে মেঝেতেই হয়তো বসে গেল আঁকিবুঁকি করতে। শিশুর মনের মতো জায়গায় একটা শতরঞ্জি নিয়ে বিছিয়ে দিলেই শীতের দিনেও শিশুর এই স্বাধীনতায় বিরাম নেই। রঙিন শতরঞ্জি শিশুর জন্য বেশ আকর্ষণীয়। তবে শতরঞ্জির ওপর দৌড়ঝাঁপ না করাই ভালো।
ঘরে ঘরে শতরঞ্জি
বসার ঘর বা খাবার ঘরে ফ্লোরম্যাট বা কার্পেটের বিকল্প হিসেবে শতরঞ্জি ব্যবহার করা যায়। বসার ঘরে সেন্ট্রাল টেবিলের সামনে কিংবা দুই পাশ থেকে লম্বাটে, আয়তাকার শতরঞ্জি বিছিয়ে দিতে পারেন।
শোবার ঘরে ব্যবহৃত ম্যাটের বিকল্প হতে পারে শতরঞ্জি।
একই ঘরে রাখতে পারেন একাধিক শতরঞ্জিও। ঘরের বিভিন্ন ফাঁকা জায়গার জন্য সুবিধা অনুযায়ী বিছিয়ে নিন পছন্দের শতরঞ্জি।
ব্যবহারে বৈচিত্র্য
বসার ঘরের এক কোণে কিংবা পারিবারিক ঘরে বসার আয়োজন হতে পারে শতরঞ্জিতেই। শতরঞ্জি বিছিয়ে তার সঙ্গে রেখে দিন মানানসই কয়েকটি কুশন। আরামসে বসতে পারবেন।
শতরঞ্জি বিছিয়ে খাবার পরিবেশনও করা যেতে পারে। টেবিলম্যাট বা রানার হিসেবে শতরঞ্জি দৃষ্টিনন্দন।
দেয়াল সাজাতেও কাজে লাগাতে পারেন শতরঞ্জি। দেয়ালসজ্জার জন্য বাঁধাই করে নেওয়া যেতে পারে।