অস্ট্রেলীয় প্রামাণ্যচিত্রে বাংলাদেশের দুই মেয়ে

বাউলদের নিয়ে কাজ করছেন কিযী তাহনিন
বাউলদের নিয়ে কাজ করছেন কিযী তাহনিন

গত বছরের অক্টোবর মাসে একদিন হঠাৎ একটি ই-মেইল আসে কিযী তাহনিনের কাছে। অস্ট্রেলিয়ার টিভি চ্যানেল এবিসি কর্তৃপক্ষের পাঠানো সেই ই-মেইল পড়ে কিযী জানতে পারেন, সে দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এমন কয়েকজন শিক্ষার্থী খুঁজছে, যাঁরা উন্নয়নশীল দেশ থেকে তাদের দেশে উচ্চশিক্ষার জন্য পাড়ি জমিয়েছিলেন। পড়া শেষে আবার নিজ দেশে ফিরে এসেছেন এবং দেশের উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তাঁদের নিয়ে ধারাবাহিক প্রামাণ্যচিত্র তৈরির সিদ্ধান্ত নেয় অস্ট্রেলীয় সরকার। একইভাবে তারা যোগাযোগ করে বাংলােদেশর সালমা আক্তারের সঙ্গেও।
ধারাবাহিক এই প্রামাণ্যচিত্রে এবার তিনজন বাংলাদেশির কাজ ও অর্জন উঠে এসেছে। এঁদের মধ্যে দুজন হলেন কিযী তাহনিন ও সালমা আক্তার। আরেকজন চিকিৎসক মোহাম্মদ মুহিত। কিযী তাহনিন, বর্তমানে ঢাকায় জাতিসংঘ বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও উন্নয়ন বিভাগে কাজ করছেন। সরকারের সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্বে আছেন সালমা আক্তার। প্রথম আলোর পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়েছিল তাঁদের দুজনের সঙ্গে।

সালমা আক্তার
সালমা আক্তার

কিযী তাহনিন অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নের মোনাস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি বিভাগে স্নাতকোত্তর শেষ করেন। পড়া শেষ করে তিনি চান দেশে ফিরে এসে বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও উন্নয়নের মধ্যে একটা মেলবন্ধন সৃষ্টি করতে। বাংলাদেশে ফিরেই এ দেশের বাউল, কারুশিল্পী, থিয়েটারকর্মীদের নিয়ে কাজ করতে শুরু করেন তিনি। প্রথম আলোকে কিযী জানান, তাঁর ব্যক্তিগত জীবন এবং অর্জন নিয়ে যখন এই প্রামাণ্যচিত্রে কাজ করার প্রস্তাব পান, তখন একটি বিষয় নিয়ে ভাবেন। তাঁর মনে হয়, এখানে শুধু ব্যক্তি কিযী তাহনিন নন, তাঁর সঙ্গে উঠে আসবে বাংলাদেশের ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতির কথাও। তাই কাজটি করতে সানন্দে রাজি হয়ে যান।
চারদিকের সবকিছুকে ইতিবাচকভাবে দেখার চেষ্টা করেন তিনি। তাঁর মতে, ‘এক জীবনে অনেক কিছু করার আছে। মাঝেমধ্যে মনে হয়, জীবনটা আসলে জীবনের চেয়েও বড়। মানুষ ফুরিয়ে যায় কিন্তু তাঁর করে যাওয়া কাজ তো ফুরায় না।’ জাতিসংঘে চাকরির আগে কিছুদিন একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছিলেন তিনি। দেশের জন্য আরও বড় পরিসরে কিছু করার ভাবনা ছিল মনে। এখন সেই যাত্রাই চলছে।
সালমা আক্তার বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পুরকৌশলে স্নাতক শেষ করেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ থেকে এমবিএ পাস করেন। এরপর ২০১১ সালে সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে পড়তে যান। পরের বছরই দেশে ফিরে আসেন। নারী নেতৃত্ব নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী। ‘স্টোরি অব মাই লাইফ প্রামাণ্যচিত্রে তারা শুধু আমার ব্যক্তিগত জীবন নয়, আমার ভাবনা, কাজ, দর্শন, অভিজ্ঞতা, অর্জন এবং স্বপ্নকে তুলে ধরেছে।’ প্রথম আলোকে বলেন সালমা।
এ বছর ৪ মার্চ এবিসি চ্যানেলের পক্ষ থেকে চার সদস্যের একটি দল শুটিংয়ের জন্য ঢাকায় হাজির হয়। দলের প্রধান, হাইতির চিত্রনির্মাতা মেরি অঞ্জ হোমগ্রিন সিলভেইন। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) সঙ্গে কাজ করছেন দীর্ঘদিন। প্রথম আলোকে তিনি জানান, বাংলাদেশে কাজ করার অভিজ্ঞতা অসাধারণ। আর কিযী তাহনিন ও সালমা আক্তারকে তথ্যচিত্রের বিষয় হিসেবে বেছে নিয়েছেন কারণ, সবার চেয়ে একটু ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে যাঁরা সমাজের জন্য কাজ করছেন, তেমন তিনজনকে নিয়েই তাঁরা তিনটি আলাদা প্রামাণ্যচিত্র তৈরি করছেন। এই দুজনের কাজের বিষয় এবং ভাবনাও কিছুটা আলাদা।
বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ করতে এই দুই তরুণের যে স্বপ্ন ও অর্জন, তা এই তথ্যচিত্রের মাধ্যমে পৌঁছে যাবে পৃথিবীর অগণিত দর্শকের কাছে।

চলছে প্রামাণ্যচিত্রের শুটিং। ছবি: সংগৃহীত
চলছে প্রামাণ্যচিত্রের শুটিং। ছবি: সংগৃহীত