৪১ হাজার ৩৫০ জন থেকে ৬ জন

এ বছর জাতীয় গণিত অলিম্পিয়াডের জন্য সারা দেশ থেকে অনলাইনের মাধ্যমে নাম নিবন্ধন করেছিল ৪১ হাজার ৩৫০ শিক্ষার্থী। প্রথম পর্যায়ে অনলাইনে তিন ধাপে বাছাই অনুষ্ঠিত হয়েছে। এরপর বিভাগীয় অলিম্পিয়াডের বিজয়ী ৯০৯ জনকে নিয়ে গত ১১ মার্চ ঢাকার সেন্ট যোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলে অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় গণিত উৎসব।

করোনার ধাক্কায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর আবার ‘অফলাইনে’ গণিত উৎসব করার সুযোগ হলো। এবারের আয়োজনটি তাই আক্ষরিক অর্থেই ‘উৎসব’ হয়ে ওঠে।

জাতীয় গণিত উৎসবের সেরা ৪২ জন অংশ নেওয়ার সুযোগ পান জাতীয় গণিত ক্যাম্পে। সেখান থেকে বাছাই করা ১৮ জনকে নিয়ে হয় বিশেষ গণিত ক্যাম্প। আর সব শেষে বিশেষ ক্যাম্পের ফলাফলের ভিত্তিতে গণিত অলিম্পিয়াডের কোচ মাহবুব মজুমদারের সুপারিশ অনুযায়ী আইএমও ২০২২-এর জন্য ছয় শিক্ষার্থীকে নির্বাচন করা হয়। ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনায় এই পুরো আয়োজনের তত্ত্বাবধান করে বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটি।

যাদের কাঁধে লাল-সবুজ পতাকা

২০১৬, ২০১৭ ও ২০১৯ সালে জাতীয় গণিত উৎসবে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন এস এম এ নাহিয়ান। ২০২১, ২০২২—পরপর দুই বছর হয়েছেন চ্যাম্পিয়ন অব দ্য চ্যাম্পিয়নস। আইএমওতে এবারই প্রথম অংশ নিচ্ছেন তিনি। তবে নাহিয়ান জানান, সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করবেন।

এবারই প্রথম আইএমওতে যাচ্ছেন আরও একজন—আশরাফুল ইসলাম। ভালো ফল করে তিনিও যাত্রাটা স্মরণীয় করে রাখতে চান।

বাকি চারজন—তাহজিব, নুজহাত, তাহমিদ ও ফোয়াদ—এ বছর দ্বিতীয়বারের মতো আইএমওতে অংশ নিতে যাচ্ছেন। তাই তাঁদের ওপর প্রত্যাশাটা একটু বেশি। গত বছর ব্রোঞ্জ পদক জেতা তাহমিদ বলছিলেন তাঁর ব্যক্তিগত লক্ষ্যের কথা, ‘গতবারের চেয়ে এবার বেশি স্কোর করতে চাই।’

মাথা খাটাতে ভালোবাসেন বলেই হয়তো গণিতপ্রেমী এই শিক্ষার্থীরা সবাই-ই কমবেশি দাবা খেলতে ভালোবাসেন। তাই ফোয়াদ বলছিলেন, ‘দাবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ম্যাগনাস কার্লসেনের দেশ দেখব বলে আরও বেশি রোমাঞ্চ বোধ করছি।’

১৯৫৯ সালে রোমানিয়া থেকে শুরু হয়েছিল এই মেধার লড়াই—আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াড। আর এখন আইএমওকে বলা হয় সারা বিশ্বের প্রাক্‌-বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়াদের সবচেয়ে বড় মেধার লড়াই। অলিম্পিয়াডে পরপর দুই দিনে ছয়টি সমস্যার সমাধান করতে দেওয়া হয়। প্রতিটি সমস্যাই একেবারে মৌলিক।

বাংলাদেশ দলের জন্য শুভকামনা

গণিত অলিম্পিয়াডের সাধারণ সম্পাদক মুনির হাসান বলেন, ‘গণিত ও বিজ্ঞানকে কেন্দ্র করে দিনবদলের এক লড়াই আমরা শুরু করেছিলাম ২০০১ সালে। সে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে, যতক্ষণ না আমরা আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারি।’ নতুন প্রজন্মই এই লড়াইয়ে নেতৃত্ব দেবে।

এ বছর গণিত দলের প্রস্তুতি কেমন, জানতে চাইলে গণিত অলিম্পিয়াডের একাডেমিক সমন্বয়ক সাব্বির রহমান বলেন, ‘গত দুই বছর আইএমও অনলাইনে হওয়ায় এবারের অংশগ্রহণকারীদের জন্য নতুন পরিবেশে মানিয়ে পরীক্ষা দেওয়া একটি নতুন চ্যালেঞ্জ। তবে দলের প্রত্যেকেই অনেক ধাপ পার করে তাঁদের দক্ষতা প্রমাণ করে এসেছেন, তাই আমরা সবাই একটি ভালো ফল আশা করছি।’

গণিত অলিম্পিয়াডের সাধারণ সম্পাদক মুনির হাসান বলেন, ‘গণিত ও বিজ্ঞানকে কেন্দ্র করে দিনবদলের এক লড়াই আমরা শুরু করেছিলাম ২০০১ সালে। সে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে, যতক্ষণ না আমরা আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারি।’ নতুন প্রজন্মই এই লড়াইয়ে নেতৃত্ব দেবে।