আমার ঈদের স্মৃতি
আমি আমার ছোটবেলার ঈদের কথা বলব। আমার ঈদটা একটু আলাদা। আমাদের বাড়িতে অনেকগুলো ঘর আছে। প্রতি ঈদে সব ঘরেই ছেলে মেয়ে এসে বাড়ি ভরে যেত। ঈদের কিছুদিন আগে থেকে সবাই আসতে শুরু করত। অনেক ভালো লাগত। বাড়িটা লোকজনে গমগম করত। অনেক আনন্দ হই-হুল্লোড় হতো, সবাই অনেক খুশি। কিন্তু আমার মনে খুশি ছিল না।
আমার চাচারা যখন আসত আমার চাচাতো ভাইবোনদের জন্য অনেক কিছু নিয়ে আসত। নতুন জামা, খেলনা, কসমেটিকস। কিন্তু আমার বাবা আসে না কেন? সবার বাবা আসে কত কিছু নিয়ে, সবাইকে কত আদর করে, আমার বাবা কবে আসবে একটা নতুন জামা নিয়ে?
মার কাছে মাঝেমধ্যে বায়না করতাম একটা নতুন জামার জন্য, মা কিছু বলত না শুধু নীরবে কাঁদত। তখন মনটা খুবই খারাপ লাগত। যখন কারও বাবাকে দেখি তার ছেলে/মেয়েকে বাজারে নিয়ে আদর করে কিছু কিনে দেয় তখন এত খারাপ লাগত যা বোঝানোর ভাষা আমার কাছে নেই, শুধু চোখের জল ছাড়া। মা-কে কিছু বলতাম না বা বুঝতে দিতাম না কারণ মার অনেক খারাপ লাগবে এই ভেবে। এই সব দেখতে দেখতে চলে আসে ঈদ।
ঈদের আগের দিন আমার খালা আমার জন্য নতুন একটা জামা পাঠাত। জামা দেখে এত খুশি হতাম যা বলার ভাষা আমার জানানেই। ঈদের দিন সকালে আমার এক চাচা আমাকে নিয়ে বাজারে যেত এবং সাবান কিছু কসমেটিকস কিনে দিত। তবুও বাবার কথা খুব মনে পরতো। মাঝে মাঝে মনে মনে বলতাম বাবা তোমাকে কিছু আনতে হবে না, তুমি শুধু আসো।
ঈদের দিন সকালে সবাই গোসল করে নতুন জামা পরে সেজেগুজে বড়দের কাছে সালামি চাইতাম। বড়রা আমাদের লাইন করে দাঁড় করিয়ে ৫ টাকা ১০ টাকা সালামি দিত। তারপর সেমাই খেতাম। সালামির সব টাকা মা হাতে দিয়ে দিতাম। দুপুরে পোলাও মাংস খেয়ে সবার সাথে ঘুরতে যেতাম। রাতে যখন ঘুমাতে যেতাম তখনো বাবাকে খুব মনে পরতো। এইভাবে কেটে যেত আমার ছোট বেলার ঈদ।