default-image

খাবার ঘর

খাবার ঘরে সবচেয়ে বেশি পরিবর্তন এসেছে খাবার টেবিল–চেয়ারের নকশায়। তবে টেবিলের চেয়ে চেয়ারের নকশার পরিবর্তনটা এখন চোখে পড়ছে বেশি। টেবিলের নকশা যদি চৌকোনা বা আয়তাকার হয়, তাহলে অনেকেই বসার জায়গায় ব্যবহার করছেন বেঞ্চ। কখনো আয়তাকার টেবিলের দুই দিকেই বেঞ্চের ব্যবহার করছেন। আবার কখনো টেবিলের একদিকে বেঞ্চের ব্যবহার করে অপর দিকে রাখছেন চেয়ার। খাবার ঘরে হালকা নকশার ফার্নিচার দেখা যাচ্ছে বেশি। ছোট আকৃতির ক্রোকারিজ ক্যাবিনেটের ব্যবহার বাড়ছে খাবার ঘরে। ব্যস, এই অল্প আসবাবেই পরিপূর্ণ হচ্ছে খাবার ঘরের সাজ।

এদিকে টেবিলজুড়ে লোকজ মোটিফের ব্যবহার যেমন দেখা যাচ্ছে, তেমনি আবার অনেকেই টেবিলটপে করছেন নানা ধরনের রানারের ব্যবহার। টেবিলের মাঝে কেউ রাখছেন গাছ। আবার ঘরকে নরম আলোয় রাঙিয়ে তুলতে কেউ করছেন মোমের ব্যবহার।

বসার ঘর

অন্দরসাজে সবচেয়ে বেশি পরিবর্তন আসছে আসবাবে। আর সেই রেশ ধরে বসার ঘরের আসবাবেও আসছে বেশ পরিবর্তন। অন্দরসজ্জাবিদ গুলশান নাসরীন চৌধুরী বলছিলেন, এখন স্লিম ফিট বা হালকা নকশার আসবাব বেশি চলছে। সেটা কখনো তৈরি হচ্ছে কাঠ দিয়ে, আবার কখনো রট আয়রনে। কাঠের আসবাবে বার্নিশের রঙের ব্যবহার চলছে বেশি। যদিও কিছুদিন আগপর্যন্ত লেকার পলিশের আসবাবের চল ছিল বেশি। পাশাপাশি ইদানীং আসবাবে লোকজ মোটিফের ব্যবহার বেশ দেখা যায়। বসার ঘরের দেয়াল যদি এক রঙের হয়, তাহলে সোফার কুশন কভার এবং পর্দায়ও থাকছে সেই রঙের প্রাধান্য।

default-image

হালকা রঙের দেয়াল, হালকা রঙের আসবাবের সঙ্গে কনট্রাস্ট সোফার কভার ও কুশন কভার ব্যবহার করতে পারেন। খুব বেশি আসবাবের ব্যবহার এখন বসার ঘরে দেখা যায় না। সোফা, টেবিল, দেয়ালে লাগানো টিভিতেই পরিপূর্ণ হয় বসার ঘরের সাজ। তবে ভারী আসবাবের পরিবর্তে ছোট ছোট অনুষঙ্গের ব্যবহার বাড়ছে বসার ঘরে। বেত–বাঁশের ঝুড়ি বা কাঠের বাক্সের মতো অনুষঙ্গ ব্যবহৃত হচ্ছে প্রয়োজনীয় জিনিস রাখতে। আর অন্দরসাজে গাছের ব্যবহার তো থাকছেই।

বারান্দা

বছর কয়েক আগেও প্রিয়জনদের বার্তায় ভরে থাকত লেটারবক্স। তবে এমনটি এখন আর দেখা যায় না। আচ্ছা ভাবুন তো, এমন একটি লেটারবক্স যদি শোভা পায় আপনার বারান্দায়? হ্যাঁ, বারান্দার অন্দরসজ্জায় এখন যুক্ত হচ্ছে এমনই নানা অনুষঙ্গ। গাছপালার পাশাপাশি বারান্দার দেয়ালে স্থান করে নিচ্ছে হারিয়ে যাওয়া চিঠির বাক্স। এ ছাড়া বারান্দায়ও ব্যবহৃত হচ্ছে নানা ধরনের আসবাব। অন্দরসজ্জাবিদ সাবিহা কুমু বলছিলেন, সবার বাসায়ই পুরোনো টুল বা টেবিল থাকে। চাইলে নিজের হাতে রং করে এগুলো বারান্দায় রাখতে পারেন। ছোট ছোট টি–পট, ফুলদানি আর কলম–ডায়েরি সাজিয়ে রাখতে পারেন টেবিলে। বারান্দার আয়তন বেশি ছোট হলে মেঝেতেই করতে পারেন বসার আয়োজন। সে ক্ষেত্রে মেঝেতে কুশন বিছিয়ে তার ওপর জড়িয়ে নিতে পারেন গামছার কাপড়। এবার মাটির চাড়িতে পানি দিয়ে কিছু গাছ বা লতাপাতা রেখে দিলেই পরিপূর্ণ হবে বারান্দার সাজ।

শোবার ঘর

শুধু বসার ঘরই নয়, শোবার ঘরেও দেখা যাচ্ছে হালকা আসবাবের চল। ছোট শোবার ঘরের অন্দরসজ্জার ক্ষেত্রে প্রাধান্য পাচ্ছে লো হাইট বা নিচু খাট। আবার বড় শোবার ঘরে অনেকেই মাল্টি ফাংশনাল আসবাব ব্যবহার করছেন। যেমন দিনে যে আসবাবটি ভাঁজ করে ডিভান বা সোফা হিসেবে ব্যবহার করছেন, রাতে তা–ই হয়ে যাচ্ছে শোবার খাট।

default-image

আলোকসজ্জায় ল্যাম্পশেডের পাশাপাশি ফেইরি লাইটের ব্যবহার দেখা যাচ্ছে এখন। জবরজং ড্রেসিং টেবিলের পরিবর্তে দেয়ালজুড়ে আয়নার ব্যবহার করছেন অনেকে। এই আয়নার চারদিকে অনেকেই জুড়ে দিচ্ছেন মরিচবাতি। আয়নার নিচের দেয়ালে প্রসাধনী রাখতে কেউ আবার জুড়ে দিচ্ছেন ছোট তাক। এক রঙের ভারী পর্দার পরিবর্তে দুই রঙের পর্দার ব্যবহার বেশি দেখা যায় শোবার ঘরে। দুই পাশে উজ্জ্বল আর মাঝখানে ভারী রং—শোবার ঘরে ব্যবহার করতে পারেন এমন পর্দা।

রান্নাঘর

রান্নাঘরের অন্দরসাজে কিচেন–ক্যাবিনেটের ব্যবহার তো আছেই, তবে এখন সেই ক্যাবিনেটের রং ও নকশা নিয়ে চলছে নানা নিরীক্ষা। এই যেমন ক্যাবিনেটে দরজাগুলোকে রাঙানো হচ্ছে নানা রঙে। আবার ক্যাবিনেটের দরজায় ঠাঁই পাচ্ছে লোকজ মোটিফ। রান্নাঘরের জানালায়ও অনেকে গাছের ব্যবহার করছেন। দেয়ালের রঙের ক্ষেত্রে সাদা বা হালকা সাদা রংই জনপ্রিয় হচ্ছে রান্নাঘরে।

default-image

ওপেন কিচেন বা খোলা রান্নাঘরের ধারণাটিও এখন বেশ জনপ্রিয়। তবে এই ধরনের রান্নাঘরে ভারী রান্না না করাই ভালো। আর যদি ভারী রান্নার জন্যই ওপেন কিচেন করে থাকেন, সে ক্ষেত্রে অবশ্যই কিচেন হুড ব্যবহারের পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

তবে রান্নাঘরে যদি ক্যাবিনেটের ব্যবস্থা না করতে পারেন, তাহলে দেয়ালজুড়ে বসিয়ে দিতে পারেন নানা ধরনের র‍্যাক বা তাক। এসবের মধ্যেই তৈজসপত্র সাজিয়ে রাখতে পারেন। টুকিটাকি জিনিস রাখতে রান্নাঘরের কর্নারে ছোট করে বানিয়ে নিতে পারেন এমন তাক।

জীবনযাপন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন