কুকুর ও নেকড়ের ন্যায়বিচার বোধ!

খেলা বা প্রতিযোগিতায় নিরপেক্ষ বিচার বরাবরই প্রত্যাশিত। একদল বিজ্ঞানী দাবি করছেন, কুকুর ও নেকড়ের মতো প্রাণীর মধ্যেও একই আচরণ বা বৈশিষ্ট্য রয়েছে। তাদের মধ্যে একটি প্রাণীকে কোনো নির্দিষ্ট কাজের জন্য বেশি পুরস্কার দিলে অন্যটি জিনিসপত্র ছুড়ে রীতিমতো অসন্তোষ দেখায়।
পক্ষপাতের প্রতি এভাবে বিতৃষ্ণা প্রকাশের ব্যাপারটা কুকুরেরা মানুষের কাছ থেকেই শিখেছে বলে ধরে নেওয়া যায়। কিন্তু বনের প্রাণী নেকড়ের মধ্যেও একই আচরণ অবাক হওয়ার মতো বিষয়। নেকড়ের আচরণ থেকে এটা স্পষ্ট, কুকুরকে পোষ মানানোর আগে থেকেই প্রাণীদের মধ্যে অবিচার প্রত্যাখ্যানের বৈশিষ্ট্য ছিল।
বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, ন্যায়বিচারের চেতনা মানুষের পারস্পরিক সহযোগিতার ক্রমবিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। গবেষকদের অনুমান, মানুষ ছাড়া অন্যান্য আদি প্রাণীর মধ্যেও এই বৈশিষ্ট্য ছিল। ২০০৮ সালে একাধিক পরীক্ষায় কুকুরের মধ্যে একই ধরনের সংবেদনশীলতার ইঙ্গিত মিলেছে। আর নতুন গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, এটা নেকড়ের স্বভাবের গভীরেও প্রোথিত আছে। কারেন্ট বায়োলজি সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদন বলছে, একইভাবে পালিত কুকুর ও নেকড়ের ওপর গবেষকেরা পর্যবেক্ষণ চালান। এই দুই প্রজাতির দুটি করে প্রাণীকে পাশাপাশি খাঁচায় রেখে ভেঁপুজাতীয় যন্ত্র বাজাতে দেন। থাবা দিয়ে চেপে ভেঁপু বাজানোর জন্য কুকুর বা নেকড়েটিকে তাঁরা পুরস্কৃত করেন। পরে একই কাজের জন্য তাদের একটিকে পুরস্কারবঞ্চিত রাখেন। এ সময় দেখা যায়, একটা প্রাণীকে বেশি গুরুত্ব বা পুরস্কার দিলে আরেকটি তা টের পায় এবং নির্ধারিত কাজটা চালিয়ে যেতে অনিচ্ছা প্রকাশ করে।