আইসক্রিম স্বাস্থ্যসম্মত খাবার কি না, এ নিয়ে তর্ক আছে। প্রচুর চিনি ও চর্বিযুক্ত এই খাবার ডায়াবেটিস কিংবা স্থূলতার রোগীদের জন্য ক্ষতিকর। তবে মুটিয়ে যাচ্ছেন এমন লোকজনও আইসক্রিম না খেয়ে পারেন না। চকলেটের প্রলেপ দেওয়া চকবার বা ক্যারামেল স্বাদের আইসক্রিমই যে কেবল উচ্চ ক্যালরিযুক্ত তা নয়, সব ধরনের আইসক্রিমেই প্রচুর ক্যালরি থাকে। আইসক্রিমকে ক্যালরি বোমাও বলা যেতে পারে। তবে যাঁরা আইসক্রিমের মতো খাবারে আসক্ত, তাঁরা বুঝে-শুনে আইসক্রিম খাবেন। জেনে নেবেন কত ক্যালরিযুক্ত আইসক্রিম খাচ্ছেন। খাওয়ার পর সেই অনুযায়ী ক্যালরি না পোড়ালে আইসক্রিম আপনার জন্য বিপদের কারণ হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইউনাইটেড স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব এগ্রিকালচারের (ইউএসডিএ) গবেষণা থেকে জানা গেছে, আধা কাপ বা ৬৬ গ্রাম ভ্যানিলা আইসক্রিমে ১৩৭ ক্যালরি ও ১০০ গ্রাম আইসক্রিমে ২০৭ থেকে ২৫০ ক্যালরি থাকে। প্রচুর স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খান ও সক্রিয় জীবনযাপন করেন এমন লোকজন দিনে একটা করে আইসক্রিম খেলে তেমন স্বাস্থ্যসমস্যা হওয়ার কথা নয়।
আইসক্রিমের মূল উপাদানগুলো হলো দুধ, চিনি, চর্বি, কর্ন সিরাপ এবং কৃত্রিম রং ও গন্ধ। এক কাপ আইসক্রিমে ১৫ গ্রাম চর্বি, ৩২ গ্রাম শর্করা ও ৪ গ্রাম প্রোটিন থাকে। ভিটামিন এ, রিবোফ্লোবিন, ভিটামিন বি১২, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস এবং লোহার মতো ভিটামিন ও খনিজ লবণ থাকে। এর পাশাপাশি আইসক্রিমে প্রচুর ক্যাফেইন থাকে।
কিছু সতর্কতা: চর্বি ও চিনি থাকায় ডায়াবেটিস এবং হৃদ্রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য আইসক্রিম ক্ষতিকর। অনেক স্থানে সড়ক ও ফুটপাতে বিক্রি হওয়া আইসক্রিম অশোধিত জল দিয়ে তৈরি হয়। এ জন্য এসব আইসক্রিম থেকে জীবাণু সংক্রমণের ভয় থাকে। ভেজাল আইসক্রিমে ক্ষতিকর কৃত্রিম রংও ব্যবহার করা হয়, যা ক্যানসারের মতো রোগ সৃষ্টি করে। আইসক্রিমের চিনি ভেঙে মুখের ভেতরে পাইরুভিক ও ল্যাকটিক অ্যাসিড তৈরি হয়। এই দুটি উপাদান দাঁতের এনামেলের জন্য ক্ষতিকর। তাই আইসক্রিম খাওয়ার পর বাচ্চাদের মুখ ভালো করে ধুয়ে দিতে হবে। আর প্রাপ্তবয়স্ক যাঁরা আইসক্রিম খাচ্ছেন, তাঁরা লক্ষ রাখবেন, আইসক্রিমে কত ক্যালরি থাকে। আইসক্রিম খেয়ে হাঁটুন আর ক্যালরি পোড়ান।
প্রধান পুষ্টি কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক জেনারেল হাসপাতাল