খোলে নির্ধারিত সময়ের পর, বন্ধ হয় আগেই

কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলায় কমিউনিটি ২৭টি কমিউনিটি ক্লিনিক সময়সূচি অনুযায়ী চলছে না। সকাল নয়টা থেকে বিকেল তিনটা পর্যন্ত এসব ক্লিনিকে সেবা দেওয়ার কথা থাকলেও সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা তা মানছেন না। উপজেলার বেশির ভাগ কমিউনিটি ক্লিনিক সকাল ১০টার পর খোলে, বন্ধ হয় বেলা দেড়টার মধ্যে। ক্লিনিকগুলোতে উপজেলার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও পরিদর্শকদের নিয়মিত পরিদর্শনের কথা থাকলেও তাঁরা সে দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। এ কারণে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দরা।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঠিক সময়ে কমিউনিটি ক্লিনিক না খোলার অভিযোগে ১১টি ক্লিনিকে দায়িত্বরত কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডারের কাছে (সিএইচসিপি) কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় মোট ২৭টি কমিউনিটি ক্লিনিক আছে। ২০০৯ সালের জুলাই মাসে ২৫টি কমিউনিটি ক্লিনিক যাত্রা শুরু করে। পরে নতুন করে উপজেলার কুতুবজোম ইউনিয়নের ঘটিভাঙ্গা ও মাতারবাড়ি ইউনিয়নের সাইরারডেইল এলাকায় আরও দুটি কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ করা হয়। এসব ক্লিনিকে ২০১১ সালের ২০ অক্টোবর মাসে সিএইচসিপি নিয়োগ দেওয়া হয়।
প্রতিমাসে উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য পরিদর্শক, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, সহকারী সার্জন, উপসহকারী চিকিৎসা কর্মকর্তা ও সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শকদের কমিউনিটি ক্লিনিক পরিদর্শন করার নিয়ম থাকলেও তাঁরা নিয়মিত তা করছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে।
গত ১৩ মার্চ সকাল সাড়ে নয়টায় গিয়ে উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়নের ছনখোলাপাড়া, কেরুনতলী, পানিরছড়া, মোহরাকাটা, কালারমারছড়া ইউনিয়নের আঁধারঘোনা, বড়মহেশখালী ইউনিয়নের ফকিরাঘোনা, বড়ডেইল, জাগিরাঘোনা, জোড়াপুকুর, পৌর এলাকার পুটিবিলা ও মাতারবাড়ির মাইজপাড়ার অধিকাংশ কমিউনিটি ক্লিনিক বন্ধ দেখা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সকাল ১০টার পর এসব ক্লিনিক খোলা হয়। আবার বেলা দেড়টার পর ক্লিনিকগুলো বন্ধ হয়ে যায়।
মাতারবাড়ি মাইজপাড়া এলাকার বাসিন্দা বেলাল হোসেন বলেন, প্রায় সময় মাইজপাড়া ক্লিনিক বন্ধ থাকে। এ কারণে অনেক সময় ক্লিনিকে এসে রোগীরা সেবা না পেয়ে ফিরে যান। এ নিয়ে কয়েকবার উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেও কোনো কাজ হয়নি।
আঁধারঘোনা কমিউনিটি ক্লিনিকের দায়িত্বরত সিএইচসিপি সিদুল কান্তি মোহন্ত বলেন, প্রায় ২০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ক্লিনিকে আসতে হয়। সময়মতো যানবাহন না-পাওয়ার কারণে ক্লিনিক খুলতে একটু দেরি হয়।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য পরিদর্শক আবু জাফর বলেন, যথাসময়ে কমিউনিটি ক্লিনিক খোলার জন্য বেশ কয়েকবার সিএইচসিপিদের তাগাদা দিলেও কাজ হয়নি। ফলে চিকিৎসাসেবা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সুচিন্ত চৌধুরী বলেন, যথাসময়ে ক্লিনিক না-খোলার অভিযোগে ১১ জন সিএইচসিপির কাছে কারণ দর্শানোর চিঠি পাঠানো হয়েছে।
মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনোয়ারুল নাসেরও এসব ক্লিনিক বেশির ভাগ সময় বন্ধ থাকে বলে জানান। তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি দুপুর ১২টার পরে দুই দফা ১০টি ক্লিনিক পরিদর্শন করতে গিয়েছিলাম। তার মধ্যে মাত্র তিনটি ক্লিনিক খোলা পেয়েছি। বাকি সাতটি ক্লিনিক বন্ধ ছিল। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে উপজেলা স্বাস্থ্যকর্মকর্তাকে বলা হয়েছে।’