চুয়াডাঙ্গার সবচেয়ে বড় বিদ্যাপীঠ চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ
চুয়াডাঙ্গা শহরের শহীদ রবিউল ইসলাম সড়কের পাশেই সোনারঙা ফটক। তাতে রুপালি অক্ষরে লেখা, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ। ভেতরে সুরম্য ভবন। জেলার প্রাচীনতম ও বৃহত্তম বিদ্যাপীঠ এই কলেজ। চুয়াডাঙ্গার শিক্ষা সম্প্রসারণে ৮০ বছর ধরে অবদান রেখে চলেছে। এইচএসসির ফলাফল অনুযায়ী যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অন্যতম সেরা প্রতিষ্ঠান এই কলেজ।
ফিরে দেখা
১৯৬২ সালের পয়লা আগস্ট স্থানীয় শিক্ষানুরাগীদের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় চুয়াডাঙ্গা কলেজ। শুরুতে স্থানীয় ভি জে সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণিতে মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ২২ জন শিক্ষার্থী নিয়ে শুরু হয় আনুষ্ঠানিক পাঠদান। ১৯৭৯ সালে জাতীয়করণের পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির নাম হয় চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ। প্রতিষ্ঠাকালীন অধ্যক্ষ ছিলেন রেজাউর রহমান। বর্তমানে অধ্যক্ষের দায়িত্বে আছেন এ কে এম সাইফুর রশীদ।
অবকাঠামো
১৩ একরের ক্যাম্পাসে উচ্চমাধ্যমিক ছাড়াও ১৩টি বিষয়ে স্নাতক (সম্মান), চারটি বিষয়ে স্নাতক (পাস) ও নয়টি বিষয়ে স্নাতকোত্তর পড়ার সুযোগ আছে। কলেজে এখন নিয়মিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১০ হাজার ৪৯ জন। শিক্ষক আছেন ৬৬ জন। এখানে অধ্যক্ষের কার্যালয় ও একাডেমিক ভবনসহ মোট নয়টি ভবন আছে। ছাত্র ও ছাত্রীদের জন্য আছে আলাদা হোস্টেল। আছে ১৫ হাজার বইয়ের পাঠাগার, ছাত্রীদের কমনরুম, চারটি ল্যাবরেটরি ও কম্পিউটার ল্যাব। মূল ফটক ঘেঁষেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। এখানে সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মানুষের প্রাণের মেলা বসে। জাতীয় ও স্থানীয় নানা ইস্যুতে আন্দোলন-সংগ্রামের সাক্ষী এই শহীদ মিনার। ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য বাড়াতে গড়ে তোলা হয়েছে সবুজ চত্বর। সেখানে ফুটেছে রং–বেরঙের ফুল। বিশাল খেলার মাঠ ও পুরোনো ভবনটিতে জড়িয়ে আছে হাজারো শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অসংখ্য স্মৃতি।
যাঁদের স্মৃতিধন্য
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ চুয়াডাঙ্গা কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া অর্থনীতি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান আইয়ুবুর রহমান ছিলেন এই কলেজের শিক্ষক। চিত্রগ্রাহক বেবী ইসলাম, জাতীয় ফুটবল দলের কৃতী খেলোয়াড় মাহমুদুল হক লিটন ও মামুন জোয়ার্দ্দার এই কলেজে পড়েছেন। এ ছাড়া প্রতিবছরই চুয়াডাঙ্গা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পেরোনো অনেক শিক্ষার্থী মেডিকেল কলেজ, বিভিন্ন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পান।
যেখানে নজর দরকার
শিক্ষার্থীরা জানান, কলেজটিতে ক্যানটিন নেই। লাইব্রেরিতে নেই নতুন বই। ছাত্রীদের থাকলেও ছাত্রদের কোনো কমনরুম নেই। শিক্ষকের সংখ্যা অপর্যাপ্ত। শূন্যপদগুলোতে শিক্ষক পদায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষের বাসা নেই, নেই শিক্ষকদের বাসভবন। শিক্ষার্থীরা জানালেন, অনলাইনে নিয়মিত ক্লাসের ব্যাপারেও করোনাকালে তেমন কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
সহশিক্ষা হতে পারে উদাহরণ
করোনার আগে সহশিক্ষা কার্যক্রমে সারা বছর সরব থাকত কলেজ প্রাঙ্গণ। কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান ড. আবদুল আজিজ বলেন, ‘আমাদের এখানে নিয়মিত সংস্কৃতি ও সাহিত্যচর্চা হয়। রচনা, বিতর্ক, হামদ-নাত ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এ ছাড়া বিএনসিসি, রোভার স্কাউট, স্বেচ্ছায় রক্তদান সংগঠন-বাঁধন ও প্রথম আলো বন্ধুসভার কার্যক্রম রয়েছে।’ বিভিন্ন প্রকাশনা ও জাতীয় দিবস উদ্যাপন ছাড়াও বর্ষবরণ, পিঠা উৎসব, বসন্ত উৎসব ও বইমেলার আয়োজন করা হয় চুয়াডাঙ্গা কলেজে। চাকতি নিক্ষেপ ও রচনা প্রতিযোগিতায় গত বছর জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন কলেজের দুই শিক্ষার্থী।
অধ্যক্ষ বললেন
অধ্যক্ষ এ কে এম সাইফুর রশীদ জানান, ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পেয়েছেন। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই করোনার কারণে ছুটির ফাঁদে পড়ে যায় কলেজ। মাঝে কিছুদিনের জন্য খোলা হলেও এখন আবার ছুটি চলছে। কলেজ খুললে নতুন করে পরিকল্পনা সাজিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি এগিয়ে নেওয়ার কথা ভাবছেন অধ্যক্ষ। তিনি বলেন, জেলার শিক্ষার মানোন্নয়নে কলেজটি ভূমিকা রাখছে। শিক্ষকদের আন্তরিকতা ও শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের সহযোগিতা পেলে এই প্রতিষ্ঠানে ঐতিহ্য ধরে রাখা সম্ভব।’