স্যামসাং ও ইন্টেলিজেন্ট মেশিনস লিমিটেডের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং হসপিটালিটি পার্টনার রেডিসন ব্লু–এর সৌজন্যে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল ডিজিটাল মার্কেটিং পেশার ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ধারণা দেওয়ার পাশাপাশি আগ্রহী করে তোলা।

আয়োজক এমআইবিসির সভাপতি শাহরিয়ার আদিব মুঠোফোনে জানালেন, ‘এ নিয়ে দ্বিতীয়বার আমরা মার্ক্সেলেন্স আয়োজন করলাম। করোনার জন্য আগের আসরটি অনলাইনে করতে হয়েছিল। তবে দেশের বাইরের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ এবারই প্রথম। উপমহাদেশের চারটি দেশ থেকে প্রায় ৪৮টি দল অংশগ্রহণ করেছে, এটা আমাদের জন্য বিশাল ব্যাপার। বিদেশি শিক্ষার্থীরা অনলাইনে প্রেজেন্টেশন দিয়েছে। তাঁদের জন্যই আমরা ফেসবুক লাইভে কর্মশালা করিয়েছি, যেখানে করপোরেট দুনিয়ার বিশেষজ্ঞরা তাঁদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন।’

এনএসইউ এমআইবিসির উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রভাষক মাহতাব মুনতাজেরী। তিনি মনে করেন, এ রকম আয়োজন থেকে আয়োজক ও প্রতিযোগী—দুই পক্ষেরই অনেক কিছু শেখার থাকে। বলছিলেন, ‘কাগজে-কলমে পরিকল্পনা থেকে শুরু করে একটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার সুন্দরভাবে শেষ করা—পুরোটা শিক্ষার্থীরাই দেখভাল করে। ফ্যাকাল্টি অ্যাডভাইজার হিসেবে আমি পরামর্শ দিই। কীভাবে পরিকল্পনা করতে হয়, নেতৃত্ব দিতে হয়, স্পনসর খোঁজা, মানুষের কাছে নিজের ভাবনাটা তুলে ধরা, এমন অনেক দক্ষতা শিক্ষার্থীরা এসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে শেখে। প্রতিযোগীদেরও অনেক কিছু শেখার সুযোগ ছিল। বিশেষ করে করপোরেট জগতের বিশেষজ্ঞদের কথা শুনতে পারা নিশ্চয়ই ওদের জন্য বিশেষ পাওয়া।’

ফাইনালে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল মোট ছয়টি দল। শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ‘টিম সিনবাদ অ্যান্ড কোম্পানি।’ এ দলের সদস্যরা হলেন আহাদ সিদ্দিক, আসিফুর রহমান, শীষ এহসান ও আলী এল ওয়াহিদ। এরা সবাই ঢাবির ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। দ্বিতীয় ও তৃতীয় হয়েছে যথাক্রমে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘টিম ফ্রিক অ্যান্ড গ্রিক’ এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের ‘টিম গেমপ্ল্যান’।

‘দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী হয়েও এত বড় প্রতিযোগিতায় আমরা প্রথম হয়েছি, ভাবতেই ভালো লাগছে। নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির আয়োজনটা বেশ ভালো লেগেছে। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সব কার্যক্রম তারা নিখুঁতভাবে সাজিয়েছে। বিশেষ করে তাঁদের আতিথেয়তা আমাদের মুগ্ধ করেছে,’ বলছিলেন চ্যাম্পিয়ন দলের দলনেতা আহাদ সিদ্দিক। তবে আহাদ মনে করেন, এ ধরনের বড় প্রতিযোগিতায় প্রেজেন্টেশনের বাইরে কিছু মাঠ পর্যায়ের কাজ থাকলে ভালো হয়।

আয়োজকেরা মনে করেন, এ ধরনের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা আয়োজনের আগে সঠিক প্রস্তুতি নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাবের সঙ্গে যোগাযোগ, তাঁদের শিক্ষার্থীদের রুটিন জেনে নেওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে তাঁদের ধারণা দিলে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগী পাওয়া অনেকটা সহজ হয়ে যায়।

জীবনযাপন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন