ছোট বেলার এক ঈদ

ছোট ছিলাম তখন। কত ছোট তা মনে নেই। ঈদ এর দিন তখন আমার প্রথম টার্গেট থাকত বাড়ির বড়দের সালাম দিয়েই টাকা ছিনতাই করা। সেবার কি কারণে যেন মন টা খুব খারাপ ছিল। দাদু বললেন, কিরে মিষ্টিবাবু মন খারাপ? আমি মাথা নাড়লাম, হু। ঠিকাছে চল তোকে একখানে নিয়ে যাই। কোথায়? কোথায় তা যদি আগেই বলে দেই তাইলে তো মন ভাল হবে না, চল আগে মাঠের নামাজ পরে আসি। চলো। আমি আর দাদু নামাজ পরে হাটতে লাগলাম।

গন্তব্যটা দাদু জানলেও আমি জানতাম না। তাই চুপচাপ হাটছিলাম। একটা সময় পা লেগে গেল। দাদু বললেন, কি. ? পা লেগে গেছে নাকি রে মিষ্টিবাবু? আমি মাথা নেড়ে বললাম হু। আয় কোলে আয়। আমি দাদুর কোলে চড়ে আরও অনেকক্ষণ গেলাম। এরপর দেখতে পেলাম এক বিশাল নদী। দাদু, এটাই কি সেই জায়গা? হু, কি ভালো লাগছে? না। কি বলিস? হু। বাতাস টাও না? হু, বাতাস টা ভালো। হুম, তাহলে চল, নৌকায় উঠি।

কাঁদকাঁদ স্বরে বলে উঠেছিলাম বয় লাগে, আমি আবার তখন ভ উচ্চারণ করতে পারতাম না। দাদু তখন একটা কথা বলেছিলেন যেটা ছিলো আমার কাছে আজ পর্যন্ত এক স্মরণীয় কথা। কথাটি তিনি এভাবে বলেছিলেন, শোনো মিষ্টিবাবু, জীবনটা এমন একটা পরীক্ষা, যেখানে তোমাকে সবাই বুঝবে না, কেউ কেউ হয়তো বুঝবে, তাদের মধ্যেও অনেকে থাকবে যারা তোমায় ভুল বুঝবে। আবার তোমাকে তারা জেনে না জেনেও প্রচুর কষ্ট দেবে। তাই বলে বসে থাকলে হবে না, জীবন টা বহমান। এটা চলবেই, ছোট এই জীবনটা ইনজয় করতে শেখ। চল, নৌকায় উঠে মজা করি। চলো দাদু। তারপর সেদিন খুব মজা করেছিলাম দাদুর সঙ্গে। নৌকায় উঠে আমি দাঁড় বেয়েছিলাম, নৌকার কিনারে বসে পা পানিতে ডুবিয়েছিলাম।

আজকের এই ঈদটায় দাদুকে দরকার ছিল। খুব বিষণ্ন ভারাক্রান্ত মন আজ আমার। তবে, একটা কথার প্রমাণ আজ করছি। কথাটা হ‌ুমায়ূন আহমেদের। তিনি বলেছিলেন, মানুষ মারা গেলে যা হয়, তা শোক বটে তবে তা স্মৃতির শোক....... সবই স্মৃতির শোক.... .