জেলেপাড়ার দুঃখগাথা

জলকন্যা নাটকের একটি দৃশ্য
জলকন্যা নাটকের একটি দৃশ্য

সমুদ্রপাড়ের জেলেপাড়া। নুন আনতে পান্তা ফুরায় বাসিন্দাদের। তবু তারা স্বপ্ন দেখে, একদিন নৌকা আর জাল হবে। মনের আনন্দে মাছ ধরবে। মুক্ত হবে মহাজনের রাহুগ্রাস থেকে। কিন্তু স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যায়। জেলেজীবনের এমন দুঃখ আর বঞ্চনার কাহিনি জলকন্যা। ২১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে এ নাটকের মঞ্চায়ন করে অরিন্দম নাট্য সমপ্রদায়। এটি তাদের ২৮তম প্রযোজনা ।
নাটকে বাংলাদেশের একটি অখ্যাত জেলে গ্রামের কথা তুলে আনা হয়। সমুদ্রের ঢেউ আছড়ে পড়ে যে গ্রামের সীমানায়। বাতাসে লোনাজলের গন্ধ। গ্রাম আর বেলাভূমিজুড়ে ভরা জোয়ারের কানাকানি। মাছের মৌসুম, সমুদ্রের পাড়ে নানা মানুষের ভিড়। একে একে ফিরছে মাছভর্তি নৌকাগুলো। বাবা, মা, বউ, ছেলে, মেয়ের অধীর অপেক্ষা। সেই সঙ্গে অপেক্ষা মহাজন ও আড়তদারদের। পরিবারের চেয়ে তাদেরই উৎকণ্ঠা যেন বেশি। নাটকে দেখানো হয়, বাংলাদেশের সব জেলে গ্রামকে ঘিরে রেখেছে কিছু অসাধু মহাজন। এদের দুষ্টুচক্র থেকে বেরিয়ে আসার কোনো পথ নেই। দারিদ্র্যের সুযোগ নিয়ে জেলেদের আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলেছে তারা। বছরের পর বছর এই চক্রের মধ্যে ঘুরপাক খেতে থাকে জেলেরা। তবুও জেলেরা বেঁচে থাকে। সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনার মধ্যে দিয়ে টেনে নিয়ে যায় জীবন। তারা গান গায়, পূজা করে, উৎসব আনন্দে মেতে ওঠে।
নাটকটি রচনা করেছেন মান্নান হীরা। নির্দেশনা দিয়েছেন আকবর রেজা। বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন বাপ্পা চৌধুরী, শহীদুল মালিক, শেখ আনিস মঞ্জুর, নাজিম উদ্দিন চৌধুরী, আবদুল আজিজ, সাইফুল আলম, কংকন দাশ, বিবি আয়েশা, সামিনা চৌধুরী, জান্নাতুন নাঈম, আবুল কালাম প্রমুখ। নাটকের আলোক পরিকল্পনা করেছেন মুনির হেলাল। মঞ্চ পরিকল্পনায় ছিলেন আহামেদ নেওয়াজ।