
শহরে বা গ্রামে বাইসাইকেল এরই মধ্যে দারুণ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। বাহন হিসেবে ঢাকার রাস্তায় প্রতিদিনই ছেলেমেয়েদের সাইকেলের টুং টাং চোখে পড়বে। চীনের তৈরি ফনিক্স থেকে ভারতের হিরো বাইসাইকেলের জায়গা এখন দেশি প্রতিষ্ঠানের দখলে।

শুরু থেকেই বাইসাইকেলে নানা ধরনের পরিবর্তন হয়েছে। ১৮৮০-৯০ সময়কালেই কাঠের ফ্রেমের বাইসাইকেল রূপ নেয় বর্তমানে প্রচলিত আকারে। সেই সময়ের সেফটি বাইসাইকেল নামক পরিবর্তনগুলো এই বিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। রাস্তায় বাইসাইকেলে চলার সময় নিজের সুরক্ষার জন্য হলেও নানা ধরনের অনুষঙ্গ ব্যবহার করা দরকার, যেগুলো আবার ফ্যাশনেবলও। হেলমেট, নি-ক্যাপ থেকে শুরু করে বাইসাইকেলের সাজসজ্জায় বেল, চেইন, গিয়ার বা লাইট-অনেক কিছুই পৃথকভাবে যুক্ত করে নিতে পারেন।
এর মধ্যে হেলমেট তো অবশ্যই জরুরি। এ জন্য সঠিক মাপের হেলমেট পরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হেলমেট পরার পর যেন মাথা ও হেলমেটের মধ্যে ফাঁকা জায়গা না থাকে। আরামদায়ক পোশাকই বেছে নেওয়া উচিত বাইসাইকেল চালানোর সময়ে। আটোসাঁটো নয়, একটু ঢিলেঢালা প্যান্ট বা ট্রাউজারই শ্রেয়। দৈহিক সুরক্ষার জন্য পরে নিন প্যাটলা ব্রেস, যা হাঁটুর নিচের অংশে পরতে হয়। আর হাঁটুর সুরক্ষার জন্য নি-ব্রেস ব্যবহার করুন। এলবো ব্রেস অর্থাৎ কনুই সুরুক্ষার জন্য এই ব্রেস পরতে হয়। এ ছাড়া প্যান্ট বা ট্রাউজারের নিচের দিকটিকে চেপে রাখার জন্য ট্রাউজার অ্যাংকেল বেল্ট পরা হয়। এটি পরলে প্যান্টের নিচের অংশটি বাইসাইকেলের সঙ্গে বা চেইনে ঘষা লেগে নষ্ট হওয়ার শঙ্কা থাকে না। এর ব্যবহারে প্যাডেল করতেও সুবিধা হয়। জুতোর ক্ষেত্রে হালকা গড়নের টেনিস শু, স্ট্র্যাপ বেল্টের স্যান্ডেল শু পরলে আরাম পাবেন। কারও হাত ঘামলে গ্লাভস ব্যবহার করতে পারেন।
কাছে বা দূরে যেখানেই যাওয়া হোক না কেন, সঙ্গে পানির বোতল রাখা উচিত। এ ছাড়া সাইক্লিংয়ের জন্য অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসের মধ্যে রয়েছে হেলমেট, হেডলাইট, বাইক পামস, বৃষ্টির দিনের জন্য মাডগার্ড, রিপেয়ার কিটস। হ্যান্ডেলবারের সঙ্গে আলগা আয়না লাগিয়ে নেওয়া যেতে পারে। সাইক্লিং কম্পিউটারও এই হ্যান্ডেলবারের সঙ্গে লাগিয়ে নেওয়া যায়।
সবার শেষে বললেও যাঁরা বাইসাইকেল চালান, তাঁদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ জিনিসটি হলো সাইকেলের নিরাপত্তার জন্য লক বা তালা। অনেক ধরনের তালা পাওয়া যায়। যেমন ইউলক, চেইন লক, অ্যা কেব্ল লক, ও লক ইত্যাদি। তবে ইউ লক নামের তালাগুলোই সবচেয়ে ভালো। বেশি দাম দিয়ে হলেও ভালো দেখে তালা কেনা উচিত। তা না হলে আপনার প্রিয় এবং প্রয়োজনীয় বাইসাইকেলটি যেকোনো জায়গা থেকেই চুরি হয়ে যেতে পারে।
বাইসাইকেলের খুঁটিনাটি জিনিসপত্রের সবচেয়ে বড় বাজারটি হলো পুরান ঢাকার বংশালে। বংশালে শুধু বাইসাইকেলের জন্যই রয়েছে পৃথক বাজার। কম দামে ভালো মানের জিনিসপত্র পাওয়া যায় এখানে। তবে বংশালে গেলে বাজারে একটু ঘুরে দরদাম করেই কেনা উচিত। এ ছাড়া রাজধানীর নিউমার্কেট, গুলশান-১ নম্বর, স্টেডিয়াম মার্কেটসহ খেলাধুলার সরঞ্জামাদি পাওয়া যায়, এমন ছোট-বড় সব দোকানেই পাওয়া যাবে বাইসাইকেলের এই জিনিসগুলো।
দরদাম
হেলমেট পাবেন ৮০০-১০০০ টাকার মধ্যেই। জ্যাকেট কিনতে চাইলে দাম পড়বে ১৫০০-২০০০ টাকা। ট্রাউজার অ্যাংকেল বেল্ট ১৫০ টাকা। মাথায় পরার লাইট ১০০০ টাকা। গ্লাভস ৫০০-১০০০ টাকা। পানির বোতল ধরনভেদে ৩০০-৬০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাবে।