তৈরি পোশাকের দোকানে চাকরি

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি খাত হলো তৈরি পোশাক খাত। বর্তমানে শুধু দেশীয় চাহিদা মেটানোর জন্যই রয়েছে কয়েক শ তৈরি পোশাক বিপণনের দোকান। এদের বেশির ভাগেরই রয়েছে দেশব্যাপী একাধিক শাখা। তৈরি পোশাক বিক্রির এসব দোকানে আকর্ষণীয় বেতনের পাশাপাশি রয়েছে নানান সুযোগ-সুবিধাও।
যেসব পদে লোক নেওয়া হয়
তৈরি পোশাক বিক্রির দোকানগুলোতে সাধারণত সেলস এক্সিকিউটিভ, ক্যাশ ম্যানেজার, গ্রাফিকস ডিজাইনার, আইটি, ফ্যাশন ডিজাইনার ইত্যাদি পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন আউটলেট পরিচালনার জন্য ব্রাঞ্চ ম্যানেজার, ফ্লোর সুপারভাইজার ইত্যাদি পদে লোকবল নিয়োগ হয়।
শিক্ষাগত যোগ্যতা
পদ ভেদে শিক্ষাগত যোগ্যতা একেক রকমের হয়ে থাকে। এ ব্যাপারে ফ্যাশন হাউস একস্ট্যাসির হেড অব অপারেশন মো. আবুল কালাম আজাদ খান জানান, সেলস এক্সিকিউটিভ পদে আবেদনের জন্য প্রার্থীকে কমপক্ষে এইচএসসি পাস হতে হয়। এ ছাড়া ব্রাঞ্চ ম্যানেজার, ক্যাশ ম্যানেজার ইত্যাদি সিনিয়র পদের জন্য কমপক্ষে স্নাতক হতে হয়। ক্যাশ ম্যানেজারের জন্য ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীরা অগ্রাধিকার পেয়ে থাকেন। এ ছাড়া গ্রাফিকস ডিজাইনার, ফ্যাশন ডিজাইনার, আইটি ইত্যাদিতে নিজ নিজ ক্ষেত্রে কমপক্ষে স্নাতক হতে হয়। সেই সঙ্গে কারও পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকলে তাঁদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। তবে নবীনদেরও সমান সুযোগ দেওয়া হয়। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের।
নিয়োগপ্রক্রিয়া
নতুন কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে বিভিন্ন পত্রপত্রিকা ও অনলাইনে বিজ্ঞাপনের পাশাপাশি নিজ নিজ আউটলেটে বিজ্ঞপ্তি লাগানো হয়ে থাকে। এ ছাড়া বিভিন্ন কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে লিফলেট বিতরণ করা হয়ে থাকে। এ ব্যাপারে আড়ংয়ের সিওও মোহাম্মদ আবদুর রউফ জানান, তাঁদের বিভিন্ন ব্রাঞ্চে বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ৩০০ কর্মী কাজ করছেন। বিভিন্ন ব্রাঞ্চে প্রতি মাসেই কিছু না কিছু নিয়োগ হয়ে থাকে, তবে এই সংখ্যা বিভিন্ন উৎসব, যেমন ঈদ এলে দ্বিগুণ হয়ে যায়। সে ক্ষেত্রে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর আগ্রহীদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জীবনবৃত্তান্ত জমা দিতে হয়। সেখানে যাচাই-বাছাইয়ের পর শর্ট লিস্টেড প্রার্থীদের মধ্য থেকে ভাইভা ও ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকে।
বেতন
তৈরি পোশাক বিপণনের দোকানগুলোতে পদ ও নিয়োগের ভিত্তিতে বেতনকাঠামো ওঠানামা করে। এই ব্যাপারে একস্ট্যাসির মো. আবুল কালাম আজাদ খান জানান, খণ্ডকালীন চাকরির ক্ষেত্রে একজন সেলস এক্সিকিউটিভের বেতন হয় প্রায় সাড়ে ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা আর ফুলটাইমের ক্ষেত্রে সাড়ে ৮ থেকে সাড়ে ৯ হাজার টাকা পর্যন্ত। এ ছাড়া ক্যাশ ম্যানেজার ও ব্রাঞ্চ ম্যানেজারের বেতন হয় ১৪ থেকে ১৬ হাজার টাকা, আইটি ও গ্রাফিকসের ক্ষেত্রে কাজের ক্ষেত্র ও ধরন অনুযায়ী বেতন ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। আড়ংয়ের মোহাম্মদ আবদুর রউফ জানান, অর্জিত ছুটি, মাতৃত্বকালীন ছুটি, অসুস্থতার কারণে ছুটির পাশাপাশি যোগ্যতা অনুযায়ী বছর শেষে পদোন্নতির সুযোগ রয়েছে। এ ছাড়া অতিরিক্ত কাজের জন্য ওভারটাইম এবং রাতের ডিউটিতে অফিসের তরফ থেকে পরিবহনসুবিধাও দেওয়া হয়ে থাকে।