৩. কোরিয়ার সরকারি বৃত্তির জন্য কী কী যোগ্যতা লাগে?

দক্ষিণ কোরিয়ার গ্লোবাল কোরিয়া স্কলারশিপ কর্মসূচির মাধ্যমে ভর্তির সুযোগ আছে। এই বৃত্তির জন্য শিক্ষা ও গবেষণাক্ষেত্রে আগ্রহ থাকতে হবে। যাঁরা স্নাতক পর্যায়ে পড়তে আসবেন, তাঁদের জন্য পড়াশোনার পাশাপাশি গণিত অলিম্পিয়াডসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও মেধাভিত্তিক আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা বিবেচনা করা হয়। সরকারি বৃত্তির খোঁজখবর ও আবেদন প্রক্রিয়া প্রতিবছর সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়। চোন্নাম ন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করছেন দ্যুতি কুণ্ডু। তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ কোরিয়ায় মাস্টার্স পর্যায়ে পড়ার জন্য একাডেমিক ও গবেষণার কাজে সংশ্লিষ্টতাকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়। আমি মাস্টার্স লিডিং টু পিএইচডি কর্মসূচিতে পড়ছি। কোরিয়ান বৃত্তিগুলো প্রতিযোগিতামূলক হয়। সব মিলিয়ে ১০-১৫ জন শিক্ষার্থী পড়ার সুযোগ পান বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে। আন্তর্জাতিক জার্নাল বা গবেষণাপত্রে প্রকাশনা আছে, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন, এমন শিক্ষার্থীদের বৃত্তির সুযোগ বেশি থাকে।’

৪. আর কী কী বৃত্তি আছে?

সরকারি বৃত্তির পাশাপাশি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বৃত্তি আছে। এই বৃত্তি পেতে হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে নজর রাখতে হবে। কিস্টের পোস্টডক গবেষক ড. সিয়াম উদ্দিন বলেন, ‘আমি এখানে ভর্তির সময় ফান্ডেড প্রোগ্রামে ভর্তির সুযোগ পাই। আমার টিউশন ফি, বিমাসহ অন্যান্য খরচ বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই দেওয়া হয়।’

৫. কোরিয়ায় পড়তে হলে কোরিয়ান ভাষা কি শিখতেই হয়?

ইংরেজি ও কোরিয়ান, দুই ভাষায়ই পড়া যায়। তবে কোরিয়ান ভাষায় সুযোগ বেশি। কুকমিন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ পড়ুয়া শিক্ষার্থী তাইজুল ইসলাম বলেন, ‘আমি লেভেল থ্রি পর্যায়ের কোরীয় ভাষা শিখে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েছি।’ স্নাতক পর্যায়ে পড়তে চাইলে কোরীয় ভাষানির্ভর কোর্সের সংখ্যা বেশি থাকে।

৬. কোরিয়ায় জীবনযাত্রার ব্যয় কেমন?

অন্যান্য দেশের চেয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার জীবনযাত্রার মান বেশ ভালো। সে কারণে জীবনযাত্রার ব্যয়ও তুলনামূলক বেশি। বিশেষ করে রাজধানী সৌল ও বড় শহরের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার জন্য জীবনযাত্রার ব্যয় বেশি হয়। ড. সিয়াম উদ্দিন বলেন, ‘আমি সাত বছরের বেশি সময় সৌলে আছি। সৌলের শিক্ষার্থীদের জীবনযাত্রার ব্যয় মাসে ৭০০-৮০০ ডলারের মতো। আর অন্যান্য শহরে ৩৫০-৪৫০ ডলারের মতো খরচ হয়।’ পিএইচডি গবেষক দ্যুতি কুণ্ডু বলেন, ‘আপনাকে বুঝতে হবে, দক্ষিণ কোরিয়া পৃথিবীর অন্যতম ধনী ও উন্নত দেশ। এখানে শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমান সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকে। আর কোরিয়ার স্বাস্থ্যসেবা, বিনোদন, জীবনের নানা আয়োজন আধুনিক বলেই জীবনযাত্রার ব্যয় বেশি।’

৭. কেউ বৃত্তি ছাড়া পড়তে চাইলে খরচ কেমন?

দক্ষিণ কোরিয়ায় নিজ অর্থায়নে পড়তে পারেন। তবে স্নাতক পর্যায়ে পড়ার সুযোগ অনেক কম। ন্যাশনাল ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা পড়ার সুযোগ পান। বিবিএ পড়ুয়া শিক্ষার্থী তাইজুল ইসলাম জানান, এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের খরচ তুলনামূলক কম। তবে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের খরচ অনেক বেশি বলে নিজ খরচে পড়া কঠিন। ব্যাচেলর পর্যায়ে কেউ নিজ খরচে পড়তে চাইলে তাঁর টিউশন ফি ও জীবনযাত্রার জন্য খরচ জোগাড় করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় ভেদে স্নাতক পর্যায়ে টিউশন ফি হয় চার থেকে পাঁচ হাজার ডলার (প্রায় ৩ লাখ ৭০ হাজার-৪ লাখ ৬৫ হাজার টাকা)। পোস্টডক গবেষক ড. সিয়াম উদ্দিন বলেন, মাস্টার্স পর্যায়ের টিউশন ফি চার থেকে ছয় হাজার ডলার। পিএইচডি পর্যায়ে টিউশন ফি হয় তিন থেকে চার হাজার ডলার।

৮. ঘরে বসে কীভাবে কোরীয় ভাষা শিখতে পারি?

নানা মাধ্যম থেকে বাংলাদেশে কোরীয় ভাষা শেখার সুযোগ আছে। ইন্টারনেটের বিভিন্ন ওয়েবসাইটের মাধ্যমে শিখতে পারেন। ইউটিউবে টিউটোরিয়াল দেখে শেখেন অনেকেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক ভাষা ইনস্টিটিউটে কোরীয় ভাষা শেখেন অনেকে। কোরীয় চলচ্চিত্র বা ওয়েব সিরিজও কিন্তু ভাষা শেখার ক্ষেত্রে আপনাকে সাহায্য করবে।

৯. দক্ষিণ কোরিয়ায় পড়ালেখার পাশাপাশি কাজ করার সুযোগ আছে কি?

আছে। ইমিগ্রেশনের সময়ই কাজের সুযোগের জন্য আবেদন করতে হয়। ছুটির দিনে শিক্ষার্থীরা ঘণ্টা ধরে কাজ করতে পারেন। তবে সপ্তাহের অন্যান্য দিন মিলে ২০ ঘণ্টার বেশি কাজ করার নিয়ম নেই শিক্ষার্থীদের জন্য। বড় বড় শহরে কাজের সুযোগ বেশি পাওয়া যায়। ছোট শহরে তুলনামূলক কম। আর কাজের জন্য ভাষা জানা গুরুত্বপূর্ণ। কোরীয় ভাষা জানা থাকলে কাজের সুযোগ বাড়ে। রাজধানীসহ দুই-তিনটি বড় শহরে ইংরেজি ভাষা জানলেও আপনি কাজ পাবেন। পিএইচডি গবেষক দ্যুতি কুণ্ডু বলেন, যাঁদের ভাষাগত দক্ষতা বেশি, তাঁদের কাজের সুযোগ বেশি। বিভিন্ন গবেষণাগারে সহকারী হিসেবে কাজ করতে পারেন। আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোতেও নিয়মিত কাজের সুযোগ মেলে।

১০. কোরিয়ায় পড়ালেখা করে সে দেশে চাকরির সুযোগ কেমন?

যাঁরা তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বা প্রকৌশলসংক্রান্ত বিষয়ে পড়েন, তাঁদের কাজের সুযোগ বেশি। স্যামসাং বা হুন্দাই মটরস, এলজি ইলেকট্রনিকসসহ বিভিন্ন বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে কাজের সুযোগ আছে। ব্যবসায় প্রশাসন বা মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের কাজের সুযোগ তুলনামূলক কম। কিস্টের পোস্টডক গবেষক ড. সিয়াম উদ্দিন বলেন, ‘আমি পিএইচডি শেষ করে গবেষণায় যুক্ত হয়েছি। দক্ষিণ কোরিয়ার চাকরি বেশ প্রতিযোগিতামূলক। এখানে গবেষণা ও পেশাদারির মূল্য অনেক। যাঁরা কোরিয়ায় আসতে চান, পড়তে চান, তাঁদের এসব বিষয় মাথায় রাখতে হবে।’

জীবনযাপন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন