এখন আবার নানা কনসার্ট শুরু হয়েছে। দীর্ঘ বিরতির পর আবার এই উত্তাল গানের মিছিলে শামিল হতে পারার অভিজ্ঞতা কেমন? কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানতে চেয়েছিলাম আমরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী আকিলা আলম ছোটবেলা থেকে সংগীতপ্রেমী। অবসরে, অঙ্ক কষার সময় কিংবা দূরে কোথাও বেড়াতে গেলে গান তাঁর শুনতেই হবে। একটু বড় হওয়ার পর থেকেই একটা কনসার্টে যাওয়ার, অনেকের সঙ্গে গলা মেলানোর ইচ্ছা। সময়, সুযোগ ও নিরাপত্তার অভাবে পরিবার থেকে কোনো দিন অনুমতি পাননি। ইউটিউবে ব্রিটিশ ব্যান্ড কুইনের লাইভ এইড কনসার্ট, ঢাকায় সাহানা বাজপেয়ীর ‘একটা ছেলে’ কিংবা রাফার ‘আকাশ পাঠাব’ দেখে-শুনে স্বপ্ন বুনেছেন শুধু। কিছুদিন আগে ঢাকা রক ফেস্ট অনুষ্ঠিত হওয়ার খবর শুনেই সিদ্ধান্ত নেন, এবার আর সুযোগ হাতছাড়া করা যাবে না। ইচ্ছাটা আরও তীব্র হয় যখন জানতে পারেন, ক্যানসারজয়ী ‘বেজবাবা সুমন’ও এবার মঞ্চে থাকবেন।

তারপর? আকিলা বলেন, ‘জীবনে প্রথমবারের মতো যখন সবার সঙ্গে “আকাশ পাঠাব” গানে গলা মেলাচ্ছিলাম, তখন অন্তর্মুখী লাজুক বন্ধুদেরও দেখেছি সব জড়তা ভুলে একই তালে মেতে উঠতে। সুমনের কণ্ঠে “তুমি তো দিয়েছিলে মোরে কৃষ্ণচূড়া ফুল” লাইভে শোনার অনুভূতি অসাধারণ। এই রোমাঞ্চ, অনেক মানুষের একাত্মতা—জীবন তো এই ছোট ছোট মুহূর্ত দিয়েই তৈরি।’

লাজিনা শেহরিন হক জীবনের প্রথম কনসার্ট এই বছরই পেলেন। এককথায় কনসার্ট তাঁর কাছে ‘উৎসব’!

‘ছোটবেলা থেকে শুনে আসছি, গান নাকি মানুষের মধ্যে একতা আনে। কনসার্টে গিয়ে নিজ চোখে তার প্রমাণ দেখে এলাম,’ বলেন লাজিনা। বাংলা গানের খুব বড় ভক্ত না হলেও ছোটবেলা থেকেই বড় ভাইয়ের কাছে শুনেছেন আর্টসেল, শূন্য, আরবোভাইরাসের গান। যেদিন সত্যিই তাঁদের চোখের সামনে দেখলেন, তখন বিশ্বাস হচ্ছিল না, কম্পিউটারের পর্দার ভেতর নয়, মাত্র কয়েক ফুট দূরেই আর্টসেলের সদস্যরা দাঁড়িয়ে আছেন। “অনিকেত প্রান্তর” গাইতে গাইতে গলা ভেঙে গেছে। তবু পরের কনসার্টের জন্য অধীর হয়ে অপেক্ষা করছেন তিনি। গলা ভাঙলে ভাঙুক!

করোনাকালের দীর্ঘ বিরতিতে মানুষের সমাগমে যাওয়ার অভ্যাস একরকম হারিয়েই গিয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া মাহজাবিন রশীদ বহু মানুষের এই সম্মিলিত আনন্দই উপভোগ করেছেন। বলছিলেন, বন্ধুরা মিলে গান গাইতে গাইতে মেঘ আর আকাশের দিকে তাকিয়ে মনে হয়েছে, ছোট্ট এই জীবনটা খুব একটা খারাপ নয়।

কদিন আগে কোক স্টুডিও বাংলার কনসার্টে গিয়ে মেতেছিলেন আরেক বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্র মীর হামিদুল হুসাইন। বললেন, ‘দীর্ঘ দুই বছর পর আবার বন্ধুরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একই সুরে মেতে ওঠার অনুভূতিটা আমার কাছে প্রাণ ফিরে পাওয়ার মতো। হাজারো তরুণের সঙ্গে আমিও মিলিয়ে গিয়েছিলাম সুরের মূর্ছনায়।’ নগরবাউলের সেই ‘দুষ্টু ছেলের দল’–এর সঙ্গে ভেসে হামিদুল সেদিন ভেসে গিয়েছিলেন নেমেসিসের গণজোয়ারে। তাঁর আশা, তারুণ্যের শক্তির মধ্য দিয়েই বেঁচে থাকবে সুস্থ সংস্কৃতির চর্চা।

জীবনযাপন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন