বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

কেমন আছেন? ঢাকার অবস্থাই বা কেমন? এমন প্রশ্ন দিয়ে রুয়ান্থি গজধীরাই শুরু করেন কথোপকথন।

উত্তরে বলি ভালো আছি এখনো। ঢাকার অবস্থাও ভালো। আর সঙ্গে জানতে চাই তিনিই–বা কেমন আছেন?

রুয়ান্থি গজধীরা: আমি বেশ আছি। আপনি তো ঢাকা থেকে ইন্টারভিউ করছেন, তাই না?

প্রথম আলো: হ্যাঁ। আপনাকে আবারও অভিনন্দন। আপনার কালেকশনের ছবিগুলো দেখলাম। দুর্দান্ত। এবার আমরা তাহলে শুরু করি। আপনার ছেলেবেলা কোথায় কেটেছে?

রুয়ান্থি: পূর্ব শ্রীলঙ্কার আম্পারার এক প্রত্যন্ত গ্রামে বড় হয়েছি আমি। আমি আমার গ্রাম খুবই ভালোবাসি। আমার ডিজাইনে আমার গ্রাম, এখানে বড় হওয়ার অনুপ্রেরণা আছে।

default-image

প্রথম আলো: আমি একাধিকবার শ্রীলঙ্কা গিয়েছি। দাম্বুলাতে থেকেছি। খুবই সুন্দর জায়গা। ২০০৫ সালে গিয়েছিলাম ক্রিকেট কাভার করতে। ডে-নাইট ম্যাচ ছিল। পূর্ণিমার রাতে স্টেডিয়ামকে খুবই সুন্দর লাগে। সিগিরিয়াও গিয়েছি। তখন আমি ক্রীড়া সাংবাদিকতা করতাম। আর এখন ফ্যাশন আর লাইফস্টাইল নিয়ে কাজ করি। শ্রীলঙ্কায় আমার খুব সুন্দর স্মৃতি আছে। বন্ধুও আছে। ফ্যাশন ডিজাইনার আন্দ্রে স্তেফান জোয়াকিম। বিউটিশিয়ান নয়না করুণারত্নেও আমার পরিচিত। তিনি গত বছর ঢাকায় এসেছিলেন।

রুয়ান্থি: দুজনেরই নাম শুনেছি। তবে সরাসরি সাক্ষাৎ হয়নি। ওহ, আমি দুঃখিত আপনার মেসেজ আমি সময়মতো না দেখার জন্য। ফলে উত্তর দিতে দেরি হয়েছে।

প্রথম আলো: আপনি তো এওডির (একাডেমি অব ডিজাইন, কলম্বো) সদস্য?

রুয়ান্থি: হ্যাঁ।

প্রথম আলো:এডিওর প্রতিষ্ঠাতা লিন্ডা স্পিলওয়েলডের সঙ্গেও আমার পরিচয় আছে। ব্রিটিশ কাউন্সিলের একটা অনুষ্ঠানে দেখা হয়েছিল। তিনি দারুণ কাজ করছেন। তাঁকে আমার শুভেচ্ছা জানাবেন।

রুয়ান্থি: অবশ্যই। শ্রীলঙ্কায় ফ্যাশন ডিজাইন শিক্ষার ক্ষেত্রের তাঁর বিশেষ অবদান রয়েছে।

প্রথম আলো: আপনি তো ল্যান্ডেস্কেপ আর্কিটেকচারে ভর্তি হয়েছিলেন। তারপর ফ্যাশন ডিজাইনার হলেন। সেটা কীভাবে হলো। এই দুয়ের মধ্যকার সম্পর্কই বা কী?

রুয়ান্থি: আমি পড়াশোনা শুরু করি ল্যান্ডেস্কেপ আর্কিটেকচার নিয়ে। আমি পছন্দ করেই ভর্তি হয়েছিলাম। পড়তে গিয়ে দেখলাম বেশ কঠিন। এরপর বছর যেতে না যেতেই মনো হলো এই বিষয়ে পড়াশোনা করতে গিয়ে আমি একটা দুঃখী মানুষে পরিণত হয়েছি। সে যাত্রায় লাইব্রেরি আমাকে বাঁচিয়ে দেয়। আমি সারা দিন লাইব্রেরিতে পড়ে থাকতাম। আমি বই পড়তে খুবই ভালোবাসি। লাইব্রেরিতেই ফ্যাশন ডিজাইনের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়। আমি হাঁ করে ভোগ, এলের মতো ফ্যাশন ম্যাগাজিনগুলো গিলতাম। একদিন একটা ম্যাগাজিন টেনে নিয়ে পড়তে পড়তে মনে হলো, আমার এসব পড়তে এত ভালো লাগে, তাহলে আমি কোনো ফ্যাশনডিজাইন নিয়ে পড়াশুনা করছি না! এই সময়েই আমি একাডেমি অব ডিজাইনে (এওডি) আর্ট আর স্টাইলের ওপর একটা কর্মশালা করি। আমার খুবই ভালো লাগে। আমার ব্যাচে আমি সবচেয়ে ভালো ফল করি। এরপর পড়াশোনা শুরু করি। দেখা গেল, আমি স্কেচে খুবই ভালো। মাসখানেক ক্লাস করে আমি নিশ্চিত হই যে আমি আসলে ফ্যাশন ডিজাইনিং নিয়েই পড়তে চাই। এরপর আমি প্রথম বছরেই আর্কিটেকচার ছেড়ে ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ে ভর্তি হয়ে যাই।

default-image

প্রথম আলো: বাড়ি থেকে কিছু বলেনি?

রুয়ান্থি: আমি স্টেট ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হয়েছিলাম। ওখানে পড়াশোনা সম্পূর্ণ ফ্রি। আর সেটা শ্রীলঙ্কার সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একটা। সেটা ছেড়ে ডিজাইন নিয়ে পড়া আমার পরিবারের জন্য একটা বড় ধাক্কা ছিল। আমার বাবা খুবই আহত হলেন। আমার কথা শুনেই বাবা বললেন, ‘তুমি এটা করতে পার না, তোমার সামনে তোমার সমস্ত ক্যারিয়ার পড়ে আছে। ফ্যাশন এত বড় কিছু না।’ পরে আমি বাবাকে বোঝানো শুরু করি। একপর্যায়ে জিদ করে বলি, আমাকে যদি ফ্যাশন ডিজাইন নিয়ে পড়তে দেওয়া না হলে আমি পড়াশোনাই করব না। শুনে বাবার আর বলার কিছু ছিল না।

প্রথম আলো: আপনি তো তাহলে বেশ জেদি!

রুয়ান্থি: হ্যাঁ, বলতে পারেন। তবে আমি আমার মাকে আমার পক্ষে আনতে পেরেছিলাম। তিনি আমার রোল মডেল। খুবই সাহসী নারী। আর একটা মেয়ে সব সময়ই তার মাকে দিয়ে প্রভাবিত। মা বলেছিলেন, ‘আচ্ছা ঠিক আছে। তুমি যা চাও, তা–ই করতে পারো। আমি তোমার সঙ্গে আছি। আমি তোমার বাবার সঙ্গে এটা নিয়ে কথা বলব। যেটা তোমাকে খুশি করে, তুমি সেটাই করো।’ এরপর মায়ের উদ্যোগে তাঁরা আমার পড়াশোনার খরচ দিতে রাজি হন।

প্রথম আলো: এরপর আপনি কলম্বো এলেন?

রুয়ান্থি: আমি এর আগেও কলম্বো থেকেছি। কলম্বোর একটা বেসরকারি স্কুলে আমি পড়াশোনা করেছি।

প্রথম আলো: আপনি কেন মন্থর, টেকসই, রিসাইক্লিং ফ্যাশন নিয়ে কাজ করেন?

রুয়ান্থি: প্রথম বছরে জিনস নিয়ে একটা প্রজেক্ট চলছিল। আমার মনে হলো আউট অব দ্য বক্স কিছু করি। আর তখনই ঠিক করি, সাসটেইনেবল ফ্যাশন ডিজাইন নিয়ে কাজ করব। সবাই নতুন নতুন কাপড় কিনছিল। সেগুলো কেটে বাদ দেওয়া অংশ ময়লার ঝুড়িতে ফেলছিল। আর আমি সেই ফেলে দেওয়া নানা রকম টুকরা টুকরা জিনস নিয়ে কাজ শুরু করি। সেগুলোকে রিসাইক্লিং করি। নানা আইডিয়া নিয়ে নতুন নতুন নানা কিছু বানিয়ে জমা দিই। আর সবাই খুব পছন্দও করে। এভাবেও যে ভাবা যায়, কেউ ভাবেনি। আমি ফার্স্ট ইয়ার থেকেই অফ হোয়াইট গার্মেন্টস, কটন ফেব্রিক নিয়ে কাজ শুরু করেছিলাম। রিসাইক্লিং, আপসাইক্লিংয়ে আগ্রহ ছিল। সাসটেইনেবল ফ্যাশন ছাড়া আমি আর কিছুই ভাবিনি। আমি ভাবলাম, অন্যরা তো নানা কিছু বানাচ্ছে, পরছে। আমি এই সাইকেল শেষ হওয়ার পরে যা কিছু বেঁচে গেছে, থেকে গেছে, আশপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে, তাই দিয়েই বানাব। আর অন্যরা সেগুলো পরবেও।

default-image

প্রথম আলো: ওহ দারুণ! রি-ড্রেস ডিজাইন অ্যাওয়ার্ডের জন্য আপনি যে পোশাকের ছবিগুলো দিয়েছিলেন, সেগুলো আমি দেখেছি। খুবই চমৎকার।

রুয়ান্থি: ধন্যবাদ। রিড্রেস আমার ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে। আমি তখন দ্বিতীয় বর্ষে পড়ি। যুক্তরাজ্যের একজন শিক্ষক আমাকে রিড্রেস ডিজাইন অ্যাওয়ার্ডের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। আমি ওদের বেশ কিছু ওয়েবিনারে অংশ নিই। তখন আমি বুঝতে পারি যে সাসটেইনেবল ফ্যাশনের অনেক শাখা–প্রশাখা আছে। শুরুতে আমার মনে হচ্ছিল যে আমি তো আমার নিজের কাজের সীমানা অনেক ছোট করে আনলাম। পরে মনে হলো যে টেকসই ফ্যাশনের কোনো শেষ নেই। রিসাইকেল, আপসাইকেল, আউটসাইকেল—সবই হতে পারে। টেকসই ফ্যাশন নিয়ে কাজ করায় আমি আরও বেশি করে নতুন নতুন আইডিয়া নিয়ে সৃজনশীল, শৈল্পিক কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। আর পরিবেশের জন্যও দারুণ। একের ভেতর দুই!

প্রথম আলো: এ রকম ডিজাইন ভাবনা নিয়ে আপনার সহকর্মী, বন্ধু, শিক্ষকেরা কী বললেন?

রুয়ান্থি: আমার ক্লাসে কেবল আমিই এ রকম আইডিয়া নিয়ে কাজ শুরু করলাম। বন্ধুরা বলল, ‘তুই এগুলো কী উল্টাপাল্টা ভাবছিস! এসব তো পাবলিক খাবে না। এসব বিদেশে চলে। শ্রীলঙ্কা বা এই উপমহাদেশে চলবে না।’ ওদের কথা কিঞ্চিৎ সঠিক। কেননা এশীয়রা মনে করে, একবার যে পোশাক পরা হয়েছে, সেটা ‘গরিবেরা’ পরবে। অন্যরা পরবে। নিজে পরা মানে ‘জাত চলে যাওয়া’। একজন তো আমাকে বলেই ফেলল, ‘আচ্ছা, তুমি কি গরিবদের জন্য জামা বানাতে চাও? তোমার কি মাথা খারাপ হয়ে গেছে?’

তবে হ্যাঁ আমার শিক্ষকেরা খুবই অ্যাপ্রিশিয়েট করলেন। বললেন, ‘মহামারি বা এর কয়েক দশক পরে বিশ্বের ফ্যাশন মোড় ঘুরে এভাবেই ভাববে। তুমি সেটা আগেই ভাবছ। একসময় টেকসই ফ্যাশনই বিশ্বকে নেতৃত্ব দেবে। পরিবেশের ক্ষতি না করে পোশাকশিল্প, ফাশনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কোনো বিকল্প নেই। ভবিষ্যতের পোশাকশিল্পকে সেভাবেই এগোতে হবে। আমাদের রিসোর্সও কমে আসছে। সুতা উৎপাদনের ওপর চাপ বাড়ছে। সব মিলিয়ে তুমি যা ভাবছ, করছ, সেটা সেরা।’ আমার প্রদর্শনীর পর সবাই খুবই প্রশংসা করল। বলল, তুমি এই কাপড় কোথায় পেয়েছ? আমি বললাম, আমি আমার হোস্টেলের রুমের সামনে একটা বাকশো রেখে দিয়ে সবাইকে বলেছি যে ওদের পুরোনো জামাকাপড় যা আছে, যেগুলো ফেলে দেবে, সেগুলো জমা দিতে। সেগুলো দিয়েই আবার অক্সিডাইজ করে বানানো শুরু করলাম। এটা সবাইকে অনুপ্রাণিত করে।

এখন আমি স্নাতক সম্পন্ন করেছি। এখন দেখছি, প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা সবাই কমবেশি টেকসই ফ্যাশন নিয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছে। আমি তো আমার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে সব শেয়ার করি। আর সেটা পাবলিক। টেকসই ফ্যাশন নিয়ে যাঁরা আগ্রহী, তাঁরা আমার কাজ দেখে ইনবক্সে নানা কিছু জিজ্ঞাসা করে। আমি সাধ্যমতো তাঁদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করি। আমি কাজ শুরু করার পর আমার আশপাশের অনেকেই আগ্রহী হয়েছে। অনুপ্রাণিত হয়েছে। আমি ও একাডেমি অব ডিজাইনের (এওডি) সামনে একটা বাকশো ফেলে রেখেছি। যার যত পুরোনো কাপড় আছে, সেখানে ফেলে। আমি সেগুলো জোগাড় করি। ওরা আমাকে এভাবেই চেনে।

প্রথম আলো: শ্রীলঙ্কায় এথিক্যাল, টেকসই ফ্যাশন ডিজাইনের ক্ষেত্রে যাঁরা একদম প্রথম দিকে, আপনি তো তাঁদেরই একজন?

রুয়ান্থি: না, না। আমার আগে আরও কয়েকজন সাসটেইনেবল ফ্যাশন নিয়ে কাজ করেছেন। যেমন লোনালি রডরিগো। তিনিও একাডেমি অব ডিজাইনের অ্যালামনাই। আরও কয়েকজন আছেন। তবে তাঁরা ক্যারিয়ারে অনেকটা পথ ঘুরে তারপর টেকসই ফ্যাশনের কাছে ফিরেছেন। আর আমি ছাত্র অবস্থায়ই শুরু করেছি। আমি সাইটেইনেবল ছাড়া আর কোনো ফ্যাশন নিয়ে কাজ করব, এটা কখনো কল্পনাও করিনি।

default-image

প্রথম আলো: এবার একটু অন্য প্রসঙ্গে যাওয়া যাক। আপনার কাছে ফ্যাশনের মানে কী?

রুয়ান্থি: আমার কাছে এটা আসলে একটা আর্টফর্ম। যেমন ধরুন, আপনি যদি একই রকমের ১০টি ট্রাউজার বা শার্ট কিনে ১০ জনকে দেন, তাঁরা প্রত্যেকে একেক রকমভাবে পরবে, স্টাইল করবে। আমরা যা–ই পরি না কোনো, তার ভেতরেই নিজের ব্যক্তিত্বের সঙ্গে মানানসই স্টাইলিং করি। এর মধ্যে দিয়ে মানুষের মুড, ব্যক্তিত্ব এবং স্বাতন্ত্র্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

প্রথম আলো: সৃজনশীলতা আর ‘মাস প্রোডাকশন’—দুটিই জরুরি। আপনি কীভাবে দেখেন এই দুটি প্রক্রিয়াকে।

রুয়ান্থি: একটার সঙ্গে আরেকটার সম্পর্কযুক্ত। আমি মনে করি, মাস প্রোডাকশনকে উপেক্ষা করা যাবে না। কারণ, এটা একটা বাস্তবতাও। এর সঙ্গে কর্মসংস্থান, দেশের অর্থনীতি জড়িয়ে রয়েছে। অন্যদিকে একজন ডিজাইনার হিসেবে আমি সৃষ্টি করতে পছন্দ করি। আমি খুবই প্র্যাকটিক্যাল ডিজাইনার। আমি কেবল আমাকে বিশ্বাস করি। আমি আগে ভাবি। স্কেচ করি। আবারও ভাবি, কীভাবে এটা থেকে একটা টেকসই ফল পাওয়া যেতে পারে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সেটা ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি গ্রহণ করে। আবার অনেক সময় করে না। আর এটাই স্বাভাবিক। তবে এমন কিছু করতে চাই, যেটা ভবিষ্যতে প্রোডাকশনে এসব টেকনিক ব্যবহার করা হবে।

প্রথম আলো: পুরুষ ও নারীদের শরীরের জ্যামিতি আলাদা। আপনি কাদের জন্য পোশাক তৈরি করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

রুয়ান্থি: আমার বানানো পোশাক সাধারণত ইউনিসেক্স। যাতে সবাই পরতে পারে। আমি লিঙ্গনিরপেক্ষ ফ্যাশনে বিশ্বাসী। আমি কোনো রেসট্রিকশনে বিশ্বাসী নই। আমি গ্রহণযোগ্যতায় বিশ্বাসী। তবে আমার কিছু বিশেষভাবে বানানো ড্রেসও আছে। সেগুলো কেবল নারী বা কেবল পুরুষের জন্য। লিঙ্গের ঊর্ধ্বে গিয়ে যে ফ্যাশন, আমি সেটায় বিশ্বাসী। আমি এমন সব পোশাক বানাতে পছন্দ করি, যেটা লিঙ্গভেদে সবাই পরতে পারবে। আমি নারী বা পুরুষ সবার জন্যই পোশাক বানাতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। কোনো জেন্ডার প্রেফারেন্স নেই। আমি অনেক ‘ওভারসাইজড’ পোশাক বানাই। যাতে খুব সহজেই সবাই পিক করতে পারে। আমি মূলত নারীদের পোশাক বানানোর জন্য প্রশিক্ষণ নিয়েছি। তবে আমি সবার জন্য বানাই।

default-image

প্রথম আলো: এখন তো আপনি পোশাক বানান নির্দিষ্ট শ্রেণির মানুষের জন্য। একেবারে সাধারণ, গণমানুষের জন্য সাসটেইনেবল পোশাক বানানো কী সম্ভব?

রুয়ান্থি: এখনো হয়তো না। কেননা অনেক কাজ করতে হয়। খরচ বেশি পড়ে যায়। তবে আমি যে পোশাক বানাই, সেটা খুবই সুন্দর আর দীর্ঘ সময় ব্যবহারেও নষ্ট হবে না। তবে আরও অনেকে আগ্রহী হলে, এই কাজগুলো যখন একটা ইন্ডাস্ট্রির মতো করে গড়ে উঠবে, তখন খরচ, সময়, শ্রম কমে আসবে। তখন সেটা গণমানুষের হতে পারে। আমরা সে জন্যই কাজ করছি।

প্রথম আলো: রি–ড্রেস ফ্যাশন কম্পিটিশন সম্পর্কে বলুন।

রুয়ান্থি: এটা বিশ্বের সবচেয়ে বড় সাসটেইনেবল ফ্যাশন কম্পিটিশন। প্রতিবছর ইকো ফ্রেন্ডলি ফ্যাশনকে তরুণ ফ্যাশন ডিজাইনারদের কাছে জনপ্রিয় করে তুলতে এই প্রতিযোগিতা হয়। বিভিন্ন সমস্যা ও তার সমাধান নিয়ে আলাপ করা হয়। নতুন প্রজন্মকে শিক্ষিত আর সচেতন করে তোলাও এই প্রতিযোগিতার উদ্দেশ্য। কেননা আজ থেকে বিশ–ত্রিশ বছর পর আমরাই বিশ্বের ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিকে লিড করব। তাই এখানে বিশ্বের ফ্যাশন নিয়ে পড়াশোনা করা ছাত্রদের আমন্ত্রণ জানানো হয়।

প্রথম আলো: রি–ড্রেস কম্পিটিশনে আপনার কালেকশনগুলো কোত্থেকে অনুপ্রাণিত?

রুয়ান্থি: অনেক কিছু থেকে। এর ভেতর অন্যতম হলো আমার জাপান ভ্রমণ। টোকিওর এক ফ্যাশন জাদুঘরে আমি প্যাচওয়ার্কের একটা কিমোনো দেখেছিলাম। সেটি পাঁচ প্রজন্মের ব্যবহার করা। সেটা একটা টেকসই আর আরামদায়ক ফেব্রিকে বানানো। প্রায় ‘টাইমলেস গার্মেন্ট’। আমি ভাবলাম, আমিও এমন কিছু বানাতে চাই, যেটা গুণমানে উন্নত হবে, আরেক প্রজন্ম পরের প্রজন্মের হাতে গৌরবের সঙ্গে তুলে দেবে। আর আমি সে রকম কিছু করেছি। ডেনিম দিয়েই করেছি। এটা এমন একটা কাপড় যে আপনি বছরের পর বছর ব্যবহার করতে পারবেন। আর আপনি ব্যবহারের পর আপনার সন্তানের হাতে তুলে দিতে পারবেন। আপনাকে আমি যেটা পাঠিয়েছি, সেটা আমার গ্র্যাজুয়েশন কালেকশন। রি–ড্রেস করেছি। আমি প্রকৃতি থেকেও অনুপ্রেরণা নিই। আবার চলমান সংস্কৃতি থেকেও প্রেরণা পাই। আর আমি সিম্পল, মিনিমালিস্টিক আইডিয়া নিয়ে কাজ করতে ভালোবাসি। আমার লক্ষ্যই থাকে যথাসম্ভব কম রিসোর্সে যত ভালো কাজ করা।

default-image

প্রথম আলো: সামনে আপনার পরিকল্পনা কী?

রুয়ান্থি: আমি নতুন নতুন কাপড় নিয়ে কাজ করতে চাই। এবার হ্যান্ডলুম সুতি কাপড় নিয়ে কাজ করব। আমি যে কাপড়টা ব্যবহার করব, সেটা আমার নিজেরই তৈরি করা। পরিবেশের কোনো ক্ষতি করে না। হ্যান্ডলুমের যে অবস্থা, তাতে মনে হয় হ্যান্ডলুম শ্রীলঙ্কায় আর কয়েক দশক টিকবে। কিন্তু আমি এটাকে দীর্ঘস্থায়ী করতে চাই। এই কাপড় বানাতে প্রচুর সময়, শ্রম, এনার্জি দিতে হয়। তাই এর আগে যাঁরা আগ্রহ নিয়ে শুরু করেছিলেন, তাঁরা মাঝপথে ছেড়ে নিয়ে অন্য ব্র্যান্ড নিয়ে কাজ করেছেন। আমি শ্রীলঙ্কান ঐতিহ্যকেই নতুনভাবে উপস্থাপন করব। অনেকটা গল্প বলার ঢঙে। সেটা টেকসই আর আরামদায়ক—দুটিই হবে। যেমন প্যান্টও বানানো যাবে। শাড়িও। আমি লেগে থাকতে চাই। এটাকে আবারও জনপ্রিয় আর লাভজনক করতে চাই। এর ভেতর একটা হ্যান্ডলুম আছে, যার নাম ‘দুম্বারা’। এটি ৬০০ থেকে ৭০০ বছরের পুরোনো। এটি হাতি, সাপ—এ রকম নানা প্যাটার্নের হয়। তাই এ রকম কাপড় দিয়ে গল্প বলা সহজ হয়। এর কিছু টেকনিক হারিয়ে গেছে। আমি আবার নতুন করে শুরু করতে চাই।

প্রথম আলো: এই কাপড় চওড়ায় কতটুকু?

রুয়ান্থি: তাঁতের ওপর নির্ভর করে। তবে দুম্বারা সাধারণত ৫০ ইঞ্চি।

প্রথম আলো: এটা কি মেশিনে বানায়, না হাতে?

রুয়ান্থি: ‘দুম্বারা’ পুরোটাই হাতে তৈরি।

প্রথম আলো: সুতি?

রুয়ান্থি: ‘দুম্বারা’ সুতি কাপড়। অন্য হ্যান্ডলুমগুলোর কিছু আছে সিল্ক। হ্যান্ডলুম শ্রীলঙ্কাতে বিলুপ্তপ্রায়। বিছানার চাদর, কুশনের কভারে ব্যবহৃত হয়। তবে আমি এর ব্যবহারে বৈচিত্র্য আনতে চাই। যেমন প্রথমিকভাবে আমি ভাবছি হ্যান্ডলুমের প্যান্ট বানাব। এটি দারুণ সম্ভাবনাময় একটা কাপড়।

প্রথম আলো: আপনার পছন্দের কাপড় কী?

রুয়ান্থি: ডেনিম। অনেক ধরনের ডেনিম আছে। আমি ডেনিম নিয়ে সহজেই যেকোনো ঝুঁকি নিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। এটা বানাতেও কম এনার্জি লাগে। আর খুবই টেকসই। ডেনিমের আবার সম্ভাবনা অনেক; ডেনিমকে আমরা সেভাবে ব্যবহার করিনি। আর ডেনিমের টুকরো টুকরো কাপড় দিয়েও নানা কিছু করে ফেলা যায়।

প্রথম আলো: আপনার ডিজাইনে সবার আগে কোন ব্যাপারটা মাথায় আসে? প্রেরণা, ফেব্রিক নাকি ডিজাইন?

রুয়ান্থি: সবার আগে আমার নিজের আইডিয়া। এরপর অনুপ্রেরণা। এরপর আমি দেখি এগুলোর সঙ্গে কোন ফেব্রিক মানানসই সেটা দেখি। সর্বশেষে ডিজাইন করি। আমি টেকসই কিছু তৈরির জন্য আমার রিসোর্স নিয়ে গবেষণা করি। প্রায়ই আমি একাধিক ফেব্রিক ব্যবহার করি। কেননা আমি তো রিসাইকেল করি। আমার কাপড় কম। যে কাপড় যেটুকু আছে, সেটা সেটুকু ব্যবহার করেই কিছু তৈরি করতে হয়।

default-image

প্রথম আলো: আপনার কি মনে হয় যে ডিজাইন করা আর কবিতা লেখা অনেকটা একই ব্যাপার?

রুয়ান্থি: আমি সেটা বলব না। কেননা আমি কবিতা লিখতে জানি না। আমি বলব, এটা পেইন্টিংয়ের মতো। কারণ, আমি আঁকতে জানি। আমি ফ্যাশন ডিজাইনিংকে বিশাল ক্যানভাস ধরে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাই। বলতে চাই, এটা টেকসই, ইকো-ফ্রেন্ডলি জীবনযাপনের সময়। না হলে আমরা ধ্বংস হয়ে যাব। প্রকৃতিই টিকে থাকবে না। তাই আমাদের এখন থেকেই পৃথিবীর কথা ভাবতে হবে। নিজের টিকে থাকার জন্যই জীবনযাপন পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে হবে। আমি জানি, সব সময় সাসটেইনেবল হওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু যতটা সম্ভব আমাদের করতে হবে। সেই সচেতনতাটুকু আমার ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ের মাধ্যমে ছড়িয়ে দিতে চাই। তবে টেকসই ফেব্রিক একটু খরচসাপেক্ষ। কিন্তু এটা জনপ্রিয় হয়ে উঠলে এমন আর থাকবে না। আমার মনে হয়, এই ধারণা একদিন পৃথিবীকে বদলে দেবে। তখন আমি কোথায় থাকব জানি না।

প্রথম আলো: আপনি কোত্থেকে কাজের অনুপ্রেরণা খোঁজেন?

রুয়ান্থি: প্রকৃতি, ইতিহাস আর সংস্কৃতি থেকে। প্রকৃতিই সবকিছুর উৎস। এ ছাড়া পূর্বের সংস্কৃতি দিয়ে আমি অনুপ্রাণিত। বিশেষ করে জাপান, শ্রীলঙ্কা আর ভারতের। প্রকৃতির কাছাকাছি এমন যেকোনো কিছু থেকেই আমি প্রেরণা পাই। সাদামাটা জীবনের কাছাকাছি যে ফ্যাশন, সেটি আমাকে খুব টানে।

default-image

প্রথম আলো: আপনি আপনার সৃজনশীলতার মধ্য দিয়ে কী বার্তা দিতে চান?

রুয়ান্থি: ফ্যাশন নিয়ে কাজ করি এ জন্য নয়, আমি মানুষ হিসেবে বলতে চাই। বলতে চাই আমরা যেভাবে বিশ্বকে বিষাক্ত করে চলেছি, এই খেলার শেষটা ভালো হবে না। সব শেষ হয়ে যাবে। ইতিমধ্যে আমাদের দেরি হয়ে গেছে। এখন সময় টেকসই পরিবর্তনের। আমাদের জীবনযাপন হওয়া উচিত মিনিমালিস্টিক। আমি সাসটেইনেবল প্রোডাক্ট কিনলাম, আর প্লাস্টিকের বোতলে পানি খেয়ে সেটা ছুড়ে ফেলে দিলাম, তাহলে তো হলো না। এটা কোনো ট্রেন্ড না যে দুদিন ফলো করলাম, আর হয়ে গেল। আপনি নিজে পরিবেশবান্ধব জীবন যাপন করবেন, অন্যকেও উৎসাহিত করবেন। আপনার এই ছোট ছোট উদ্যোগই একসময় বিশাল পরিবর্তন আনবে।

প্রথম আলো: আপনি যেভাবে চিন্তা করছেন, আপনার কী মনে হয়, এভাবে কতজন চিন্তা করে?

রুয়ান্থি: খুব কম মানুষ করে। প্রায় কেউই করে না। ওরা বলে, এটা নাকি সম্ভবই না। সব সময় টেকসই ব্যবহার্য দিয়ে জীবন যাপন করা যায় না। ওরা বলে, ‘যে কাপড় অন্য কেউ একবার ব্যবহার করেছে, সেটা আমি কেন ব্যবহার করব?’ এ ধরনের মানসিকতা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। এই যাত্রার শুরু থেকেই আমি কখনোই ভাবিনি যে আমি কত দূর যাব, কতটা পারব—আমি কেবল আমার কাজটা করে গেছি। আমি নিজেও শতভাগ পরিবেশবান্ধব নই। আমিও ইলেকট্রনিকস ব্যবহার করি। তবে আমি যতটা পারি, চেষ্টা করি। আমি নিজে প্লাস্টিক ব্যবহার করি না। অন্যদেরকেও বলি, তারা যেন পলিথিনের ব্যাগ না ব্যবহার করে। আমি যদি খুব সামান্য কোনো প্রভাবও ফেলতে পারি, সেটাও একসময় বড় পার্থক্য গড়ে দেবে।

প্রথম আলো: রি–ড্রেসের সফলতার পর আপনার পরিবারের প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল?

রুয়ান্থি: তাঁরা তো খুবই খুশি। তাঁর এখন আমাকে নিয়ে গর্ব করে। আমার যাত্রার শুরু থেকে আমার মায়ের সমর্থন ছিল। আমার মা–বাবা দুজনই টেকসই জীবন যাপন করেন। বাবা প্রচুর গাছ লাগান। এটা–সেটা ফেলে দেওয়া জিনিস নিয়ে আপসাইকেল করেন। অল্প কয়েকটা জামাকাপড় তাঁর। তিনি ভেষজ, ঔষধি গাছও লাগান। কেমন জীবন যাপন করা উচিত, তাঁর আদর্শ উদাহরণ আমার মা–বাবা।

প্রথম আলো: আপনি কি নিজেকে ফ্যাশন অ্যাকটিভিস্ট মনে করেন?

রুয়ান্থি:আমি হতে চাই। সে জন্যই কাজ করে যাচ্ছি। আমি আমার কাজের মাধ্যমে মানুষকে পরিবেশ বিষয়ে সচেতন করতে চাই। টেকসই পোশাকশিল্পের কোনো বিকল্প নেই। আমি সব সময় নিজের যা কিছু ছিল, তাই নিয়েই সন্তুষ্ট ছিলাম। আমার যা আছে, সেখান থেকেই আমার যা কিছু প্রয়োজন, সব মেটাতাম। সে সবই আমার জন্য যথেষ্ট ছিল। আমার বিশ্বাস, নিজের শিকড়ের কাছে ফিরতে পারলে অনেক দূর যাওয়া যায়। তাই আমি প্রতিবার, প্রত্যেক কালেকশনে নিজের শিকড়ের কাছে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করি।

প্রথম আলো: আপনার কি মনে হয় যে এখনই সময় পশ্চিমাদের জানানো যে আমরাও সাসটেইনেবল ফ্যাশন নিয়ে কাজ করছি? বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়া ও পূর্ব এশিয়ার মানুষেরা?

রুয়ান্থি: আমরা কিন্তু অতীতে খুবই আত্মনির্ভরশীল ছিলাম। আমরা স্থানীর খাবার খেতাম। এখানে উৎপাদিত সুতা দিয়ে এখানেরই তৈরি পোশাক পরতাম। হাজার বছর ধরে এ অঞ্চলের মানুষ নিজেদের পোশাক, সুতা—সবই নিজেরা তৈরি করছে। এখন তো ইউরোপ, নেদারল্যান্ডস আর স্ক্যানডেনেভিয়ান দেশগুলো টেকসই ফ্যাশনের জন্য সুনাম অর্জন করেছে। অন্যদিকে এশীয়রা এ ক্ষেত্রে ‘প্রধান অপরাধী’। কিন্তু আমাদের পরিবেশবান্ধব জীবনযাপনের একটা লম্বা ইতিহাস আছে। আমাদের এখন টাওয়ার বেয়ে নেমে মাটির কাছাকাছি প্রকৃতিকে সঙ্গে নিয়ে জীবন যাপন করতে হবে।

default-image

প্রথম আলো: ডিজাইনের ক্ষেত্রে আপনার আইডল কারা?

রুয়ান্থি:খুব কম। কারণ, আমি যে ধরনের স্ট্রাকচারাল ডিজাইন করি, সেটা সারা বিশ্বে খুব বেশি মানুষ করে না। তবে একাধিক জাপানি ডিজাইনার আছেন, এই তালিকায়—ইজে মিয়াকি, ইয়োজি ইয়ামামোতো, জুনাইয়া ওয়াতানাবে। তাঁরা খুবই অর্গানিক ওয়েতে টেকসই আর আরামদায়ক পোশাক বানান। এটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ। আর শ্রীলঙ্কায় আছেন দুজন। তাঁদেরই একজন লোনালি রডরিগো। লোনালি সাসটেইনেবল ফ্যাশন ডিজাইনার। তিনি প্রাকৃতিক রং ব্যবহার করে ডিজাইন করেন। তাঁর ব্র্যান্ডের নাম ‘আম্মা’, মানে মা।

প্রথম আলো: পশ্চিমা বিশ্বের কেউ নেই? ইউরোপ বা আমেরিকার?

রুয়ান্থি: হ্যাঁ, স্টেলা ম্যাককার্টনি। তিনি প্রাণীর প্রতি নৃশংসতাকে ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি থেকে বিদায় করেছেন। প্রাণীর শরীর থেকে পাওয়া কোনো কিছুকেই তিনি তাঁর ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ের অংশ করেননি। আর দেখিয়েছেন, তাতে কিছু আটকে থাকেনি। কোনো অসুবিধা হয়নি। তাঁর এই ধারণাকে ফ্যাশন শো আর ফ্যাশন উইককে বিপ্লবের পর্যায়ে নিয়ে গেছেন। আর টেকসই ফ্যাশনকে হাই-ফ্যাশনে, বিশ্ব ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিতে জনপ্রিয় করেছেন।

প্রথম আলো: আপনার প্রিয় পোশাক কী?

রুয়ান্থি: কিমোনো, শাড়ি। কারণ কিমোনো সেলাইয়ের পর খুব বেশি কিছু করার নেই। বানানো খুবই সহজ, পরলে ভালো দেখায়, আবার টেকসইও। আর শাড়ি তো টেকসই পোশাকগুলোর ভেতর অন্যতম। ব্যবহৃত শাড়ি দিয়ে আবার যেকোনো কিছু বানানো যায়।

প্রথম আলো: বাংলাদেশের ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি সম্পর্কে আপনার কী ধারণা?

রুয়ান্থি: বাংলাদেশে অনেক গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি আছে জানি। আর তারা পশ্চিমা বিশ্বের জন্য পোশাক বানায়। আমি ‘রানা প্লাজা’র দুর্ঘটনা নিয়েও জানি। সারা বিশ্বের ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিতে সেই ‘স্যাডনেস’ ছড়িয়ে পড়েছিল। অনেক শ্রীলঙ্কান ফ্যাশন ডিজাইনারও বাংলাদেশে কাজ করেন। বোধ হয় ভালোই করছে বাংলাদেশের ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি। আমি সরাসরি কাজ করিনি বাংলাদেশের সঙ্গে। আশা করি ভবিষ্যতে করব।

default-image

প্রথম আলো: আমি জানতে চাইছিলাম ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি সম্পর্কে ধারণা আছে কি না?

রুয়ান্থি:না, খুব একটা ধারণা নেই। তবে বাংলাদেশ থেকে আপনি যখন যোগাযোগ করেছিলেন, আমি খুবই অবাক হয়েছিলাম। আর আমার খুবই ভালো লেগেছিল এটা ভেবে যে বাংলাদেশের ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিতে আমার নাম পৌঁছে গেছে।

প্রথম আলো: মহামারিকাল আপনাকে কী শেখাল?

রুয়ান্থি: মহামারির মধ্যেই আমি নিজের ফ্যাক্টরি করলাম। এই সময় আমরা বাইরে বের হতে পারিনি। নিজের যা আছে, তাই দিয়েই মাসের পর মাস চলেছে। এই সময়টা আমাদের স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে শিখিয়েছে। এই সময়টা আমাকে আমার যা আছে, সেটাকে অ্যাপ্রিশিয়েট করা শিখিয়েছে। শিখিয়েছে বাইরে যাওয়া, মানুষের সঙ্গে কথা বলা, আড্ডা দেওয়া—এই সহজ, সাধারণ জীবনটা স্পেশাল। এটাকে ‘টেকেন ফর গ্রান্টেড’ করে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

প্রথম আলো: অনেক ধন্যবাদ।

রুয়ান্থি:আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ।

অনুলিখন: জিনাত শারমিন

ছবি: রুয়ান্থি গজধীরার কাছ থেকে পাওয়া

লাইফস্টাইল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন