
তথ্যপ্রযুক্তির বিশ্ব অঙ্গনে বাংলাদেশের তরুণদের সাফল্য নতুন কিছু নয়। অনেক তরুণই নানা ধরনের উদ্যোগ নিয়ে নিজের জন্য যেমন সফলতা বয়ে আনছেন, তেমনি দেশকেও এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন সামনের দিকে। স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে নিরন্তর কাজ করে যাওয়া এমনই এক তরুণ খালেদ বিন এ কাদের। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে পাস করে এই তরুণ অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজিতে উচ্চশিক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচনটা তাঁর জন্য কঠিনই ছিল, জানালেন খালেদ। কারণ কুইন্সল্যান্ড ইউনিভার্সিটি ছাড়াও আরও সাতটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পূর্ণাঙ্গ বৃত্তিতে পড়ার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। উচ্চতর শিক্ষার জন্য তিনি যেসব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পূর্ণাঙ্গ বৃত্তি পেয়েছেন, তাঁর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়, মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি, সিডনি ও ওলংগং ইউনিভার্সিটি।
বুয়েটে পড়েছিলেন নগর অঞ্চল পরিকল্পনা বিষয়ে। তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে পড়াশোনা না করলেও বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রথম থেকেই প্রোগ্রামিংয়ে আগ্রহ বাড়ে খালেদের। আর সফলতার প্রমাণও দিয়েছেন এ কাজে। আন্তর্জাতিক প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা টপ কোডারে একাধিকবার সেরা হওয়ার পাশাপাশি গুগলের প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা কোডজ্যামেও শীর্ষ প্রোগ্রামার হয়েছেন। স্নাতক তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে না হলেও স্নাতকোত্তর সফটওয়্যার প্রকৌশল বিষয়েই পড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া খালিদ ২০১৩ সাল থেকেই আন্তর্জাতিক একাধিক সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করছেন। আউটসোর্সিংয়ে প্রোগ্রামিংয়ের কাজের স্বীকৃতিও পেয়েছেন। ২০১২ সালে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) সেরা ফ্রিল্যান্সারের পুরস্কার পেয়েছেন তিনি।
নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে চাকরি করে নিজের মেধা ও সৃজনশীলতাকে কাজে লাগানো যায় না বলে তাঁর অভিমত। বর্তমানে একটি ভার্চ্যুয়াল প্রতিষ্ঠান চালাচ্ছেন। পড়াশোনার পাশাপাশি আউটসোর্সিংয়ের নানা ধরনের কাজ করছেন।
নিজেই উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার পেছনে স্বপ্নকে প্রধান কারণ বলে মনে করেন খালেদ। পেয়েছেন পরিবারের সহযোগিতাও। বললেন, ‘আমার বাবা ও পরিবার সব সময়ই আমাকে নিজের মতো করে কাজ করাকে উৎসাহ দিয়েছে। এ উৎসাহ আর কাজের প্রতি প্রচণ্ডভাবে লেগে থাকাই আমাকে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সহায়তা করছে।’
তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিপুল সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে খালেদ বলেন, প্রতিযোগিতা সব সময়ই থাকবে—তাই বলে ভয়ে পিছিয়ে থাকলে হবে না। সাহস আর নিজের কাজের দক্ষতার ওপর ভরসা রেখে এগিয়ে গেলেই সাফল্য আসবে। যেকোনো নতুন উদ্যোগেই সফলতা পেতে সময় লাগে। যতক্ষণ পর্যন্ত সফলতা না আসবে, ততক্ষণ লেগে থাকার পরামর্শ তাঁর। বললেন, ‘স্বপ্নকে পুঁজি করে লক্ষ্য ঠিক রেখে পরিশ্রম করে যেতে হবে। আর ছিনিয়ে আনতে হবে সাফল্যকে।’ সমালোচনাকে স্বাগত জানিয়ে নিজের লক্ষ্যে অবিচল থাকলে যে সফলতা পাওয়া যায়, এমনটাও তাঁর বিশ্বাস। গত দুই বছরে বাংলাদেশ থেকে বহির্বিশ্বে আউটসোর্সিংয়ের কাজের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী অনেকের মধ্যেই একজন তিনি। এখন লক্ষ্য সামনে এগিয়ে যাওয়ার, দেশের জন্য কিছু করার।