পারমিতা

অলংকরণ: তুলি
অলংকরণ: তুলি

শরৎচন্দ্রের দেবদাস উপন্যাসের পার্বতী নামটা আমার খুব প্রিয়। তাই পারমিতার নামটা আমার কাছে ‘পারু’ হয়ে যায়। পারুদের এই শহরে পা প্রায় দুই বছর। আমার বাসার পাশেই ওদের বাসা। চলতে-ফিরতে বহুবার দেখা হয়, একজন আরেকজনের পাশ দিয়ে হেঁটে যাই। তবে কোনো দিন কথা হয় না।
পারু পার্টটাইম চাকরি করে। আমার একই অবস্থা। পারু চাপা স্বভাবের। আমি লাজুক। ঘুরেফিরে দুজনের চোখাচোখি হয়, মনে মনে তৃপ্তির ঢেকুর গিলি। দুজনের ভালো লাগাটা নীরবেই বাড়ে।
এই ভালো লাগার শুরু প্রথম দেখায়। সেদিন ভেবেছিলাম, হয়তো শুধুই ভালো লাগা। অপেক্ষায় ছিলাম কত দিন ভালো লাগাটা থাকে তাই দেখার। কিন্তু দিনে দিনে রোগটা বেড়ে যায়, দু-এক দিন পারুর দেখা না পেলে। ওর অফিসের আশপাশে ঘুরঘুর করি।
লুকোচুরিতে কেটে গেছে দুই বছর। সেদিন ভাবলাম আজ বলব ‘বলি বলি’ কথাটা। পারুকে চায়ের নিমন্ত্রণ জানালাম। চা—পানের দাওয়াত গ্রহণ করল সে। তখনই হাওয়া দেয় স্বপ্নকথা।
‘দুই বছর আগের একটা কথা বলতে চাই!’
‘জি, বলেন।’
‘আপনি কি হ্যাঁ বলবেন!’
‘হ্যাঁ বলতেই হবে?’
‘হ্যাঁ।’
‘তাহলে হ্যাঁ’
হাসতে থাকে পারমিতা। আমার পারু।

মিজানুর রহমান

ঢাকা