কারণ কী

খাদ্যনালি থেকে পাকস্থলী, ক্ষুদ্রান্ত্র, বৃহদন্ত্র হয়ে পায়ুপথ অবধি যেকোনো স্থানে সমস্যার জন্য রক্ত যেতে পারে। পায়ুপথে রক্তপাতের পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারে পাইলস, অ্যানাল ফিসারের মতো সুপরিচিত সমস্যা থেকে পাকস্থলী বা অন্ত্রের ক্যানসার-জাতীয় গুরুতর রোগ। যেকোনো বয়সেই ঘটতে পারে এমন ঘটনা। বয়সভেদে কারণের তারতম্য আছে। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে সাধারণ কারণ হচ্ছে পাইলস ও অ্যানাল ফিসার। মলাশয় ও পায়ুপথের রক্তনালি স্ফীত হওয়াকে বলে পাইলস। আর পায়ুপথের ভালভ ফেটে যাওয়ার সমস্যার নাম ফিসার। অন্ত্রে ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ বা প্রদাহ থেকেও পায়ুপথে রক্তপাত হতে পারে। সাধারণ বাংলায় একে বলে রক্ত আমাশয়। অন্যান্য কারণের মধ্যে আছে বৃহদন্ত্রের পলিপ, ক্ষুদ্রান্ত্র বা বৃহদন্ত্রের প্রদাহজনিত রোগ আইবিডি (ইনফ্লেমেটরি বাওয়েল ডিজিজ), অন্ত্রের যক্ষ্মা বা টিবি, অন্ত্রে লিমফোমা, বৃহদন্ত্রের ক্যানসার। এ ছাড়া বৃহদন্ত্রে পকেট বা ডাইভারটিকুলা, বৃহদন্ত্রের কোনো কারণে রক্ত সঞ্চালন কমে যাওয়া, কোলাইটিস, রেডিওথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে সৃষ্ট কোলাইটিসও হতে পারে রক্তপাতের কারণ। পাকস্থলীর আলসার বা ক্ষত, প্রদাহ, টিউমারজনিত কারণে এবং লিভার সিরোসিসের রোগীর পায়ুপথে রক্তপাত ঘটা অস্বাভাবিক নয়।

শিশুদের ক্ষেত্রে বৃহদন্ত্রের সংক্রমণ, বিশেষ করে রোটা ভাইরাসজনিত সংক্রমণের কারণে পায়ুপথে রক্তপাত সবচেয়ে বেশি হয়। শিশুদের এই সমস্যার আরেকটি অন্যতম কারণ হলো মলাশয় বা বৃহদন্ত্রের পলিপ। এ ছাড়া অন্ত্রের এক অংশ আরেক অংশে প্রবেশ করে সৃষ্ট প্রদাহ বা ইন্টাসাসেপশন, জন্মগ্রত ত্রুটির কারণে মেকেলস ডাইভারটিকুলাম বা অন্ত্রে ডাইভারটিকুলোসিস হয়ে শিশুদের এ ধরনের রক্তপাত হয়। শিশুদের আইবিডি হওয়াও অস্বাভাবিক নয়।

শনাক্ত হবে কীভাবে

যে কারণে বা যে পরিমাণেই যাক না কেন, পায়ুপথে রক্তপাত একবার হলেও গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দ্রুত কারণ নির্ণয় করা জরুরি। অভিজ্ঞ চিকিৎসক ডিজিটাল রেকটাল এক্সামিনেশন করে বা পায়ুপথ আঙুল দিয়ে পরীক্ষা করে পাইলস, ফিসার, মলাশয়ে কোনো টিউমার বা পলিপ আছে কি না, অনুমান করতে পারেন। এ ছাড়া খালি চোখে দেখা না গেলেও মলে রক্ত আছে কি না, দেখতে অকাল্ট ব্লাড টেস্টও করা যায়। মলাশয় বা বৃহদন্ত্রে আলসার, টিউমার, পলিপ, টিবি, ক্যানসার, আইবিডি ইত্যাদি নির্ণয়ে প্রক্টস্কপি বা কোলনোস্কপির মতো পরীক্ষা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এন্ডোস্কপির সাহায্যে খাদ্যনালি, পাকস্থলী ও ক্ষুদ্রান্ত্রের উপরিভাগের সমস্যা শনাক্ত করা হয়। ক্ষুদ্রান্ত্রের সম্পূর্ণ অংশ পরীক্ষা করে দেখতে ব্যবহৃত হয় এন্টেরোস্কপি।

চিকিৎসা

পায়ুপথে রক্তপাত হলে রোগের ইতিহাস, পায়ুপথ পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সঠিক কারণ নির্ণয় করার পর শুরু হবে চিকিৎসা। তবে রোগীর রক্তক্ষরণ অনেক বেশি হলে আগে রক্ত দিয়ে চিকিৎসা করতে হবে। পাইলস, ফিসার ইত্যাদি রোগ এখন ওষুধ ও জীবনাচরণ পরিবর্তনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। ইসোফেজিয়াল ভ্যারিক্স (লিভার সিরোসিসের ক্ষেত্রে), পলিপ, আলসার ইত্যাদি হলে এন্ডোস্কপিক চিকিৎসার মাধ্যমে রক্তপাত নিয়ন্ত্রণ করা যায়। তবে পাকস্থলী বা বৃহদন্ত্রের টিউমার হলে এবং অন্যান্য আরও কিছু ক্ষেত্রে শল্য চিকিৎসা করা দরকার পড়ে।

লেখক: আইবিডি ক্লিনিক কো–অর্ডিনেটর, গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

জীবনযাপন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন