শেফালি শাহ (৪৮), বলিউড তারকা

৪৮ বছর বয়সে নারী অভিনয়শিল্পীদের ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যায় বলে ধারণা করেন অনেকে। অথচ সেই বয়সেই শেফালি শাহ আছেন ক্যারিয়ারের সেরা সময়ে। ২০২১ সাল ছিল তাঁর ক্যামেরার সামনে ব্যস্ততম সময়। ২০১৯ সালে মুক্তি পাওয়া, সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত সিরিজ ‘দিল্লি ক্রাইম’–এ মুখ্য চরিত্রে অভিনয়ের পর তাঁকে আর ফিরে তাকাতে হয়নি। শেফালি বলেন, ‘আগে পর্দায় ১৮ থেকে ২২ বছর বয়সী একটা নায়িকা চরিত্র ছিল। যার করার তেমন কিছু ছিল না। অথবা একটি বয়স্ক মা ছিল। যে জানতই না সে না থাকলে এই সিনেমার কিছু আসবে যাবে কিনা। অথচ বাস্তবের নারী চরিত্রগুলো কিন্তু মোটেও তেমন নয়। আমি এখন ঘরে বসে জামাকাপড়ে ফিট হওয়ার চেয়ে দিব্যি আমার বয়সী সত্যিকারের সব চরিত্র করছি। আমি এখন ৪৮–এ দাঁড়িয়ে তরুণ আমির চেয়ে দুর্দান্ত সব কাজ করছি।’

নীলম সোনি (৫২), জুয়েলারি ডিজাইনার ও অভিনেত্রী

নীলম সোনি আশি ও নব্বইয়ের দশকে বলিউডে অভিনয় করেছেন। তারপর হংকংয়ে গিয়ে জুয়েলারি ডিজাইনার হিসেবে সফল ক্যারিয়ার গড়েছেন। আবার ক্যামেরার সামনে ফিরেছেন ২৩ বছর পর। বললেন, ‘আগে যখন সেটে যেতাম, পরিচালক, সহকারী পরিচালক, লেখক, ক্যামেরাম্যান, স্পটবয়— সবাই ছিল পুরুষ। নায়িকা আর নায়িকার মা বা বান্ধবীরা পুরুষবেষ্টিত একটা পরিবেশে থাকত। এখন নারীরা কেবল ক্যামেরার সামনে নয়, ক্যামেরার পেছনেও গুরুত্বপূর্ণ কাজ করছে। বিশেষ করে নারীরা যদি নারীদের গল্প না লিখত, তাহলে তো পর্দায় সত্যিটা আসত না। আমাদের আরও বেশি করে নারী লেখক দরকার।’

ম্রুণাল ঠাকুর (২৯), বলিউড তারকা

বড় পর্দায় পা রাখার স্বপ্ন নিয়ে যাঁরা ছোট পর্দায় এসেছিলেন, আর ছোট পর্দা থেকে যাঁরা সফলভাবে বলিউডের বড় পর্দায় ডানা মেলেছেন, তাঁদের ভেতর ম্রুণাল অন্যতম। ম্রুণালের বাবা চেয়েছিলেন, মেয়ে যেন ডেন্টিস্ট হয়। আর ম্রুণাল চেয়েছিলেন অভিনেত্রী হতে। কিন্তু সাহস করে বাবাকে আর জানাতে পারেননি। বাবার ইচ্ছে অনুসারে ভর্তিও হয়েছিলেন ডেন্টাল কলেজে। ম্রুণাল যখন প্রথম বর্ষের ছাত্রী, সেই সময় মুক্তি পেল রাজকুমার হিরানি পরিচালিত ‘থ্রি ইডিয়টস’ সিনেমা। সেই সিনেমায় আর মাধবনের চরিত্রটি থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি বাবাকে গিয়ে বলে দেন মনের কথা। ডেন্টাল কলেজের পড়াশোনা ছেড়ে শুরু করেন মডেলিং আর অভিনয়। বললেন, ‘এখন আর কোনো “ফর্মুলা বা বক্স” নেই, যেখানে আমাকে ফিট হতে হবে। আমি নিজেকে ভেঙে-গড়ে নানাভাবে দেখতে পারি, দেখাতে পারি। নিজের ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ করতে পারি।’

মাসাবা গুপ্তা (৩৩), ফ্যাশন ডিজাইনার ও অভিনেত্রী

মাত্র ৩৩ বছর বয়সেই মাসাবা ভারতের সফলতম ফ্যাশন ডিজাইনারদের একজন। নেটফ্লিক্সের ‘মাসাবা মাসাবা’ সিরিজে তিনি দেখা দিয়েছেন মা, বলিউড তারকা নীনা গুপ্তার সঙ্গে। বললেন, ‘ওটিটি নারী অভিনেত্রীদের তাঁদের মেধা আর ক্ষমতার সর্বোত্তম ব্যবহারের দুয়ারে এনে দিয়েছে। আমি আশা করব, বলিউডও যেন তাদের তথাকথিত মাসলাদার সিনেমার ছক থেকে বের হয়ে আসে। নারীরা বাস্তবে যেমন সাহসী, ক্ষমতাবান, ভেঙেচুরে ছাই থেকে বেরিয়ে ফিনিক্স পাখি হয়ে আকাশে ওড়ে—এভাবেই দেখানো উচিত। প্রযোজক আর পরিচালকদের বলব, আপনারা তারকা নয়, যোগ্য অভিনয়শিল্পীকে নিয়ে কাজ করুন। কালো, মোটা, বয়স্ক, টিভি অভিনেত্রী, অমুকের তমুক—এগুলো ভুলে কেবল মেধা, সততা আর পরিশ্রমের দিকে নজর দিন।’

স্বস্তিকা মুখার্জী (৪১), বাঙালি অভিনেত্রী

২০০০ সাল থেকে টলিউডের সিনেমার একের পর এক প্রথাবিরোধী চরিত্রের ধারক ও বাহক হয়ে অসংখ্য অভিনয়শিল্পীর অনুপ্রেরণা হয়ে আছেন স্বস্তিকা মুখার্জী। অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি একের পর এক রংবেরঙের চরিত্র হয়ে করেছেন নারীবাদের রাজনীতি। বললেন, ‘দুই দশক ধরে আমি শুনে আসছি, হয় এই চরিত্রের জন্য আমি কম বয়সী, অথবা বেশি বয়সী। পরে আমি আমার বয়সটা ভুলে গিয়ে কেবল চরিত্রটি হয়ে ওঠার চ্যালেঞ্জ নিয়েছি। একসময় আমি যা-ই করতাম, পরিচালক বলত “ঠিক আছে”। কেউ সেকেন্ড টেকও চাইত না। আমি এমন সব চরিত্র খুঁজতাম, যেগুলো এক টেক–এ শট নেওয়া না হয়। এ জন্য আমি ভিন্ন ভাষার, ভিন্ন সংস্কৃতির, ভিন্ন পরিস্থিতির চরিত্র খুঁজতে থাকি। যে চরিত্রগুলোকে আমি চিনি না, কোনো দিন দেখিনি, আমি সেগুলো হতে চেয়েছি। আমি কঠিন সব চরিত্রকে পর্দায় রক্ত–মাংসের রূপ দেওয়ার চেষ্টা করেছি।’

প্রযুক্তা কোলি (২৮) ও কুশা কাপিলা (৩২), ইউটিউব তারকা

এই দুই তরুণী মাইক্রো পর্দার (ইউটিউব) তারকা। সেখান থেকে তাঁরা পা রেখেছেন ওটিটির পর্দার। ইন্ডাস্ট্রিতে কী বদল প্রয়োজন? জানতে চাইলে বললেন, তাঁরা ইন্ডাস্ট্রির সর্বক্ষেত্রে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের অন্তর্ভুক্তি চান। আর মেকআপ দিয়ে যেন নারীর ‘সৌন্দর্যের স্ট্যান্ডার্ড’ তৈরি করে না দেওয়া হয়। নারী দেখতে যেমন, মুখে দাগ বা ব্রন থাকলে যেন সেভাবেও দেখানো হয়। কেননা, সেগুলোই স্বাভাবিক আর মানুষ যেমন, তেমনভাবেই সবচেয়ে সুন্দর।