বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

নেত্রকোনার সুসং দুর্গাপুর উপজেলার ছোট্ট একটি গ্রাম বিরিশিরি। সোমেশ্বরীর কোল ঘেঁষে বয়ে চলা বিরিশিরিতেই মান্দি জনগোষ্ঠীর ঘরদোর। এই অঞ্চল সমন্ধে প্রথম জেনেছিলাম কবি রফিক আজাদের সূত্র ধরে। ১৯৯৭ সাল থেকে বছর পাঁচেক বিরিশিরি কালচারাল একাডেমির পরিচালক ছিলেন তিনি। সে সময় বিরিশিরি পর্ব নামে একটি কবিতার বইও লিখেছিলেন। সেই বইয়ের শব্দমালার মারফতই বিরিশিরি নামের সঙ্গে পরিচিত হয়ে কল্পনার চোখে তাকে দেখে একভাবে অনুভবই করে ফেলি। পরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগে পড়তে এসে মান্দি সম্প্রদায়ের কৃষ্টি–সংস্কৃতি নিয়ে নাটক লেখার প্রয়োজনে প্রথমবার চাক্ষুষ করি বিরিশিরি—সে–ও তো অনেককাল আগে, ২০১১ সালের কথা।

তখন বিরিশিরি গিয়েছিলাম নেত্রকোনা হয়ে, একটু ঘুরপথে। নেত্রকোনা ছাড়িয়ে বায়ানখালী, দেইডুকুন, গুদালিকান্দা আর জারিয়ার এবড়োখেবড়ো মাটি পেছনে ফেলে ঝাঞ্জাইল, লক্ষ্মীপুর কৃষ্ণর চর ও উৎরাইল পার হয়ে তবেই পৌঁছানো গেল বিরিশিরি বাজারে। যখনকার কথা বলা হচ্ছে, সে সময় বিরিশিরি যাওয়ার পথটির অবস্থা ছিল ভয়ংকর, সেই যাত্রার কথা মনে হলে কোমরের হাড়গুলো আজও যেন ঝনঝনিয়ে ওঠে! পরে এই অপুষ্টিতে ভোগা রাস্তার স্বাস্থ্যে উন্নয়নের স্পর্শ লেগে যথেষ্ট লাবণ্য এসেছে—সেটি অবশ্য আরও অনেককাল বাদে।

বিরিশিরি যাওয়ার আরেকটি পথও আছে। ময়মনসিংহ থেকে নেত্রকোনার শ্যামগঞ্জ পৌঁছে বাঁদিকের পূর্বধলা যাওয়ার রাস্তা ধরে জারিয়া হয়ে খুব সহজেই যাওয়া যায় বিরিশিরি গ্রামে। একসময় এই পথও ছিল দুস্তর। তবে এখন সেখানেও লেগেছে উন্নয়নের জেল্লা। ফলে ‘ঢাকা থেকে আপনি বাসে উঠবেন আর সাঁই করে চলে যাবেন’—এভাবেই বর্তমানে তরতর করে পৌঁছে যাওয়া যায় সোমেশ্বরীর তীরঘেঁষা বিরিশিরিতে। বছর তিনেক আগে যে সময় শেষবারের মতো এ স্থান দর্শন করার মানসে ঢাকার মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে বাসে চেপে বসেছিলাম, তার কিছুক্ষণ আগে এই সাঁই করে বিরিশিরি যাওয়ার কথা আমাকে বলেছিলেন আমারই এক বন্ধু।

default-image

তবে প্রথমবার কখনো যদি ঝাঁজালো দুপুরে বিরিশিরি বাজারে নেমে পড়া যায়, মনে হবে, ‘এলেম নতুন দেশে’। আমারও এমনই মনে হয়েছিল। নিস্তরঙ্গ একটি বাজার। মানুষগুলো কেমন যেন উদাস, আপন মনে কাজ করে যাচ্ছে। এখানে পৌঁছে এমন কিছু মানুষের সঙ্গে আমাদের দেখা হলো, যাঁদের আগে কখনো দেখিনি সরাসরি—চাপা নাক, অধিকাংশের গায়ের রং চাপা। প্রথম দেখাতেই আপনি বুঝতে পারবেন, এই মানুষগুলো সাধারণ বাঙালিদের চেয়ে একটু আলাদা। আর এই ‘আলাদা’ মানুষগুলোর চোখে খেলা করে আশ্চর্য রকমের সারল্য। চাওয়া–পাওয়া হ্রস্ব হওয়ায় জীবন তাঁদের কাছে চিরশান্তিময়। সবাই তাঁদের গারো বলে জানে, এমনকি তাঁরা নিজেরাও গারো বলে পরিচয় দিতেই ভালোবাসে নিজেদের। তবে জাতিগোষ্ঠীগত পরিচয়ে তাঁদের নাম মান্দি। একসময় এই জনপদে মান্দিদের ছিল নিজস্ব ধর্ম ও সংস্কৃতি, যাকে বলা হয় আদি সাংসারেক ধর্ম। কিন্তু কালের বিবর্তনে এখন সবাই যিশুখ্রিষ্টের অনুসারী, খ্রিষ্টধর্মে দীক্ষিত হয়েছেন। তবে আদি সাংসারেক দু–এক ঘর মানুষ এখনো টিকে আছেন—এমন তথ্য মাথায় করেই এসেছিলাম বিরিশিরিতে।

সেই ১০ বছর আগে বিরিশিরি বাজারে পা দিয়েই আমরা ঢুঁ মেরেছিলাম এক চায়ের দোকানে। চায়ের গরম কাপে চুমুক দিতেই প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন একজন, ‘কোথা থেকে আইছে?’

: ঢাকা।

: কই যাইবে?

লোকটি কথা বলছিলেন নিচুস্বরে, খানিকটা ভয়ে ভয়ে। চেহারা, গড়ন ও হাবভাব দেখে বুঝলাম, তিনি মান্দি সম্প্রদায়ের মানুষ। পরে আলাপে জেনেছিলাম, তাঁর নাম পিটার। স্থানীয় এক এনজিওতে কাজ করেন। আমাদের ‘সাহেবসুবা’ বেশভূষা দেখে খানিকটা কুঁকড়ে গিয়ে প্রশ্নটি করেছিলেন পিটার। হরদমই এখানে আসেন হরেক পর্যাটক। তাঁদের উদ্দেশ্যও ভিন্ন ভিন্ন। তাই বাজারে ‘নয়া মনিষ্যি’ দেখলেই তাঁরা তাঁর আগমনের কারণ জেনে শিওর হতে চান। এর পেছনে যে একধরনের জাতিগত অবিশ্বাস কাজ করে, সে গল্পও জেনেছিলাম পিটারের মুখে, তাঁর বিশ্বাস অর্জনের পর। আরও জেনেছিলাম, এসব মানুষ যাঁদের বিশ্বাস করে, তাঁদের জন্য নিজের কলিজাও কেটে দিতে কসুর করে না।

তো পিটারকে আমাদের অভিপ্রায়ের কথা বললাম, বিরিশিরি কালচারাল একাডেমিতে যাব। মান্দি ভাষার গান শুনব। আর কবি রফিক আজাদ ওই একাডেমির পরিচালক হওয়ার পর নিজের নাম বদলে এ অঞ্চলের মানুষের কাছে যিনি হয়েছিলেন রফিক মারাক; এখানে তিনি কেমনভাবে কাটিয়ে গেছেন, এই মওকায় তা–ও স্বচক্ষে দেখে আসা দরকার, নাকি!

রফিক আজাদ—রফিক মারাকের নাম বলতেই তেলেসমাতি কাণ্ড ঘটে গেল। খানিক আগে পিটার নামের যে মান্দি যুবক আমাদের দিকে একটু অবিশ্বাসের দৃষ্টিতে তাকিয়েছিলেন, তাঁর পুরু ঠোঁটে মুহূর্তেই হাসি খেলে গেল। ‘আসো, নিয়ে যাই,’ বলে আমাদের গাইডের ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেন তিনি। আর ‘আমার হাত ধরে নিয়ে চল সখা, আমি যে পথ চিনি না’র মতো করে আমরাও চললাম তাঁর পিছু পিছু। পিটারের সঙ্গে ততক্ষণে ভাব জমে গেছে আমাদের। খেয়াল করে দেখলাম, এই যুবক সরাসরি কোনো কথা বলার বদলে কথা বলেন ভাববাচ্যে। যেমন আলাপের পয়লা আমাদের তিনি প্রশ্ন করেছিলেন, ‘কোথা থেকে আইছে?’ বলেননি যে কোথা থেকে এসেছেন? পরে বুঝতে পেরেছি, বেশির ভাগ মান্দি সম্প্রদায়ের মানুষ কথা বলার সময় ভাববাচ্যে বাতচিত করেন, সর্বনাম পদের তোয়াক্কা অতটা করেন না এবং পুরো বাক্য একবারে না বলে ভেঙে ভেঙে বলেন।

খরদুপুরে বড় বড় রেইনট্রি গাছের ছায়া মাথার ওপর রেখে আমরা পৌঁছে গেলাম প্রত্যাশিত স্থানে। যাত্রাপথে রেইনট্রি দেখিয়ে পিটার মজার একটা কথা বললেন, ‘বৃষ্টিগাছ, সে–ও আমাদের দেবতা লাগে।’

বৃষ্টিগাছ! বৃষ্টিগাছ! গাছগুলোর দিকে তাকাতেই মনে হলো, রেইনট্রির অনুবাদ করলে তো বৃষ্টিগাছই হয়! এই সুউচ্চ বৃক্ষের এত মায়াবী নাম এই মান্দি মানুষজন দিয়েছেন! ভাবতেই মনের ভেতরে দুপুরের কড়া আলোগুলো কেমন যেন নরম হয়ে এল।

ভাগ্য সেদিন আমাদের সহায় ছিল। আমরা যখন কালচারাল একাডেমিতে উপস্থিত হলাম, তখন সেখানে গান চলছিল। গোলগাল মুখের টকটকে ফর্সা এক নারী হারমোনিয়াম বাজিয়ে গাইছেন, ‘সুন্দর সুবর্ণ তারুণ্য লাবণ্য/ অপূর্ব রূপসী রূপেতে অনন্য/ আমার দুচোখ ভরা স্বপ্ন/ও দেশ, তোমারই জন্য।’ আমরা পেছনে এসে দাঁড়াতেই সেই গায়িকা একবার আমাদের দিকে, আরেকবার পিটারের দিকে তাকালেন। পিটার তাঁকে চোখে চোখে কিছু একটা বলে দৃষ্টি হানলেন আমাদের পানে, ‘শান্তনাদির গলায় খুব দরদ যে...।’

শান্তনাদি মানে শান্তনা রাংসা। কালচারাল একাডেমির গানের শিক্ষক। তাঁর কাছে আমরা শোনার আবদার করলাম, মান্দি ভাষার একটি গান। এবার তিনি গেয়ে উঠলেন, ‘চিংআ বাংলা আসংনি/ ফান থি মেথ্রারাং/গিচ্ছাম বিদিং গিসোপো...।’ একটানা দুর্বোধ৵ সব শব্দে গেয়ে যাচ্ছেন। আমরা কিছুই মালুম করতে পারছি না দেখে তিনিই আবার গানের কথাগুলো বাংলায় অনুবাদ করে দিলেন গান শেষে, ‘আমরা বাংলাদেশের তরুণ–তরুণী/ পুরোনো স্থানে নতুনের আগমনী।’

পুরোনো, আদি সাংসারেক ধর্ম–সংস্কৃতি ছেড়ে মান্দিরা যে নতুন সংস্কৃতির পাটাতনে দাঁড়িয়ে আছেন, পুরোনো আর নতুন আদি সংসারেক ও খ্রিষ্ট—দুই ধর্ম–সংস্কৃতিকে একসঙ্গে নিয়েই যে দাঁড়িয়ে আছেন, এমনকি বাঙালি সংস্কৃতির অনেক কিছুই যে এখন এই জনগোষ্ঠীর সদস্যরা আত্তীকরণ করেছেন, ততক্ষণে আমরা তা বেশ বুঝে গেছি।

সেদিন বিকেলেই আমরা বিরিশিরি বাজারের এক প্রান্তে শান্তনা রাংসার বাড়িতে গেলাম। শান্তনা রাংসার স্বামী বিন্নামিন আরেং আমাদের অভ্যর্থনা জানান। বাড়ির ভেতরে ঢুকতেই সার সার কবর। জানা গেল, এগুলো তাঁদের পূর্বপুরুষের। মাতৃতান্ত্রিক মান্দি সমাজে আগে মেয়েরাই ছিল সংসারের কর্ত্রী। এখন অবশ্য তাঁদের সেই কর্তৃত্ব আর আগের মতো নেই। তবে অনেককালের সংস্কৃতি এবং বংশপরম্পরায় কর্তাভাব এখনো মিইয়ে যায়নি। এ সমাজে সন্তানেরা এখনো মায়ের পদবি নিয়ে বড় হয়। সেহেতু শান্তনা রাংসার মেয়ের নাম হলো কৃষ্টি চর্যা রাংসা। মেয়েটির সঙ্গে যখন কথা হলো, সে ছিল স্কুলের ওপরের ক্লাসের ছাত্রী। তার গলায়ও আমরা গান শুনেছিলাম। কিন্তু সেই গানে আদি মান্দি সুর অপেক্ষা বাংলা সংগীতের ঝংকারই ছিল বেশি। পরে আরও দুবার কৃষ্টি চর্যার সঙ্গে দেখা হয়েছে, প্রতিবারই দেখেছি, প্রভু যিশুর ক্রুশচিহ্ন নিজের হারের লকেটে ঠাঁই দিয়ে এই মেয়ে ওয়ানগাল্লা উৎসবে নেচেগেয়েও ক্রমে ‘আধুনিক’ হয়ে চলেছে।

মান্দি জনগোষ্ঠীর সৃষ্টির দেবতা তাতারা রাবুগা কীভাবে একসময় পৃথিবী সৃষ্টি করলেন—অধুনাকালের প্রেক্ষাপটে বিষয়টিকে উপজীব্য করে নৃত্যকী নামে একটি নাটক লিখেছিলাম সে সময়। কৃষ্টি চর্যা রাংসা ছিল আমার সে নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র।

আগেই বলেছি, প্রথমত নাটক লেখার প্রয়োজনেই আমার যাওয়া হয়েছিল বিরিশিরি। তখন ইয়ুথ মেন খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশন বা ওয়াইএমসিএর যে বাংলোয় ছিলাম, সেখানে রাতগুলো ছিল খুব নির্জন। পরেরবার গিয়ে জেলা পরিষদের বাংলোতেও থাকা হয়েছে। আর এখন ব্যক্তিমালিকানাধীন বেশ কয়েকটি বাংলোতে ভালো বন্দোবস্ত আছে থাকার জন্য।

সেবার আমরা বিরিশিরির পাশের বিজয়পুরের চীনামাটির পাহাড়েও গিয়েছিলাম। পরে আরও বেশ কয়েকবারও গিয়েছি সেখানে। অনেকের মতে, এটিই নাকি বিরিশিরির মূল আকর্ষণ। চীনামাটির পাহাড়ের নিচ দিয়ে বয়ে যায় নীলচে ও সবুজ পানির হ্রদ। কিন্তু এখানে দাঁড়িয়ে একাকী আবকাশ যাপনের সুযোগ একটু কম, মোটরবাইক বা ভ্যানে চেপে এই মানুষ আসছে তো ওই মানুষ যাচ্ছে, যেন মানুষই মানুষের মাথা খাচ্ছে। মাঝেমধ্যে কেউ পাহাড়ের গায়ে হেলান দিয়ে কিংবা দাঁড়িয়ে, বসে এমনকি শুয়েও একটার পর একটা ফটো তুলছে। ক্যামেরাওয়ালা মুঠোফোনের জমানায় ছবি তুলতে এখন তো আর পয়সাও লাগে না।

একইভাবে সোমেশ্বরী নদী পার হয়ে পিটার আমাদের নিয়ে গিয়েছিলেন রানিখং গ্রামে, ১৯১২ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি ক্যাথলিক গির্জা দেখাতে। রানিখং গির্জা নামে পরিচিত ওই ধর্মালয়টি বানানো হয়েছে পাহাড় কেটে সিঁড়ি তৈয়ার করে। একে সাধু যোসেফের ধর্মপল্লিও বলা হয়। আমরা যখন গির্জার সবচেয়ে উঁচু পাটাতনে এসে দাঁড়ালাম, দেখলাম, পিটারের চোখে ভর করেছে এক অপার্থিব ভক্তিভাব। এর আগে সোমেশ্বরীর পারে আমাদের নিয়ে হাঁটতে হাঁটতে এই যুবকের মধ্যে যে বিষণ্নতা দেখেছিলাম, তা সে সময় কোথায় যে মিলিয়ে গেল!

বিরিশিরি আর ভবানীপুরের বুক খুঁড়ে বয়ে গেছে সোমেশ্বরী নদী, রানিখংয়ে আসার আগে অতি অবশ্যই আমরা পা ডুবিয়েছিলাম সেখানেও। মান্দি যুবক পিটারকে কিন্তু বিরিশিরি ঘোরাফেরার সুবিধার জন্য আমরা আর কাছছাড়া করিনি। আমাদের সঙ্গে মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরোনো এ যুবকের বেশ ভালো টিউনিং হয়ে গিয়েছিল।

সোমেশ্বরীর পানিতে চিকচিক করে বালি, দূরে দেখা যায় গারো পাহাড়, মেঘালয়ের আবছা আভা। সেই সোমেশ্বরীর পাড়ে দাঁড়িয়ে পিটার বলে চললেন মান্দি সমাজের বেদনার আখ্যান। সেসব কথা সাজিয়ে–গুছিয়ে বললে দাঁড়ায় এমন, ‘মেঘালয় পার হয়ে কিরাতের দেশ থেকে আমরা এখানে এসেছিলাম। এটা আমাদের রাজ্য ছিল। রাজা ছিলেন বাইশা গারো। একদিন তাঁর অতিথি হয়ে এল সোমেশ্বর পাঠক নামের এক লোক। এরপর একসময় বাইশা গারোকে ভুলিয়ে-ভালিয়ে এ এলাকা দখল করে নিল ওই সোমেশ্বর পাঠক। আর আমাদের দুভার্গ্যেরও শুরু সেখান থেকে।’

মান্দিরা অপরিচিত কাউকে বিশ্বাস করে না কেন, পিটারের কথা শুনতে শুনতে সেটিও এবারে খোলাসা হলো। আর তখনই দেখলাম, সোমেশ্বরী পাঠকের নামে নামকরণ করা সোমেশ্বরী দিয়ে ভেসে যাচ্ছে পাহাড়ি ঢলে চলে আসা মরা কাঠের সারি। আর নদীর নিস্তরঙ্গ স্রোতের মতোই তরঙ্গহীন পিটার সে সময় তাকিয়ে আছেন দূর–আকাশের দিকে। তিনি কি তখন মান্দি দেবতা তাতারা রাবুগাকে ডাকছিলেন, নাকি যিশুখ্রিষ্টকে মনে মনে প্রার্থনা করছিলেন, তাঁর চোখের দৃষ্টিতে তীক্ষ্ণ চোখ রেখে আমাদের মতো বাঙাল তা আর হেফজ করতে পারল না, নাগাল খুঁজে পেল না মান্দি যুবক পিটারের মনোরথের।

জীবনযাপন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন