বিশেষ শুভাকাঙ্ক্ষীদের অমর বাণী

.
.

বিশেষ শুভাকাঙ্ক্ষীরা সব সময় দেখা দেন না। তবে আমাদের জীবনের কিছু বিশেষ বিশেষ সময়ে তাঁরা ঠিকই আবির্ভূত হন। আর ঠিক তখনই আমাদের সাফল্য-ব্যর্থতা নিয়ে রেখে যান কিছু বিশ্লেষণধর্মী এবং অমর বাণী। বিশেষ সময়ে দেখা পাওয়া বিশেষ শুভাকাঙ্ক্ষীদের তেমনই বিশেষ কিছু বাণী খুঁজে বের করেছেন রাফি আদনান

জিপিএ-ফাইভ পেলে

প্রথম মন্তব্য: শুধু জিপিএ-ফাইভ পেলে হবে? আজকাল জিপিএ-ফাইভের কোনো মূল্য নেই। গোল্ডেন লাগবে গোল্ডেন!

দ্বিতীয় মন্তব্য: জিপিএ-ফাইভ পেয়েছ তার মানে এই নয় যে দুনিয়া কিনে নিয়েছ। জীবনে আরও অনেক পরীক্ষা আছে, এই আনন্দে ওসব পরীক্ষায় গোল্লা পেয়ে বোসো না আবার! ভর্তি পরীক্ষা হলো আসল পরীক্ষা।

তৃতীয় মন্তব্য: প্রশ্ন ফাঁসের যুগে আবার এ পিলাস! এইটার কোনো দাম নাই। আমাগো যুগে পড়াশোনার দাম আছিল ম্যালা। আমার বড় পোলায় তো স্টার মার্ক পাইছিল।

চতুর্থ মন্তব্য: তো বাবা, কয়টা টিচারের কাছে পড়ছিলা?

পঞ্চম মন্তব্য: ও ও ও আচ্ছা! তুমি জিপিএ-ফাইভ পাইছ? আমার ননদের জামাইয়ের বোনের দেবরের ছেলে তো এবার গোল্ডেন পাইছে। ছেলেটা অনেক পরিশ্রম করছে।

জিপিএ-ফাইভ না পেলে

প্রথম মন্তব্য: ভাবছিলাম অন্তত এ প্লাসটা পাইবা। এখন তো আশার গুড়ে বালি। মা-বাবার কষ্টটা আর বুঝলা না তুমি!

দ্বিতীয় মন্তব্য: এখনই এই অবস্থা? জিপিএ-ফাইভটাও পাইলা না? ভর্তি পরীক্ষায় কী করবা? জীবন তো পুরাই অন্ধকার!

তৃতীয় মন্তব্য: প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার পরও এ প্লাস আসলো না তোমার? প্রশ্ন নিছিলা না? তুমি তো পুরাই রসাতলে গেছ! তোমারে দিয়া কি কিছু হবে বলে মনে করো?

চতুর্থ মন্তব্য: এত এত মাস্টারের কাছে পড়েও জিপিএ-ফাইভ পাইলা না, তোমার তো জীবন বৃথা।

পঞ্চম মন্তব্য: আহহারে, থাক বাবা, মন খারাপ কইরো না। জানো, কী হইছে? আমার ননদের জামাইয়ের বোনের দেবরের ছেলে তো এবার গোল্ডেন পাইছে!

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পেলে

প্রথম মন্তব্য: ভর্তি হওয়াটাই আসল নয়, আসল হলো টিকে থাকা। ভর্তি হতে পেরেই এত নাচানাচির কিছু নাই।

দ্বিতীয় মন্তব্য: এত কোচিং করছ, স্যার রাখছ, মেডিকেল রাইখা বুয়েটে ক্যান গেলা?

তৃতীয় মন্তব্য: পাবলিক ভার্সিটিতে ভর্তি হইছ, এইটাতে খুশির কী আছে? এবার তো নষ্ট হয়ে যাবা। সারা দিন খালি রাজনীতি আর মারামারি করতে থাকবা।

চতুর্থ মন্তব্য: পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে আবার পড়াশোনা হয় নাকি? এবার তো ছেলের পাখনা গজায় যাবে। তার ওপর যে সেশন জট, কবে বাইর হবা ওপরওয়ালাই জানেন।

পঞ্চম মন্তব্য: বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়াটাই আসল নাকি? আসল হলো বিসিএস!

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ না পেলে

প্রথম মন্তব্য: আগেই জানতাম, এই ছেলে গোল্লায় গেছে। এবার আমার কথা ঠিক হলো তো?

দ্বিতীয় মন্তব্য: পাবলিকে চান্স হয় নাই, এবার তো প্রাইভেটে ভর্তি হতে হবে। তবে প্রাইভেটে কি আর পড়াশোনা হয়?

তৃতীয় মন্তব্য: বাপের টাকা নষ্ট করতে এবার প্রাইভেটে ভর্তি হইবা; চাকরি তো পাইবা না।

চতুর্থ মন্তব্য: প্রাইভেট থেইকা পাস কইরা কি ঘোড়ার ঘাস কাটবা? বরং বিদেশ চইলা যাও।

পঞ্চম মন্তব্য: প্রাইভেটে পড়বা আর ইয়ো ইয়ো ভাব নিয়া চলবা। চাকরি পাইবা না।

চাকরি পাওয়ার পর

প্রথম মন্তব্য: নিশ্চিত ঘুষ দিয়া চাকরি নিছে।

দ্বিতীয় মন্তব্য: লিংক ছিল, কাজে লাগাইছে। আমাগো থাকলে আমরাও পাইতাম।

তৃতীয় মন্তব্য: দেশে চাকরি কইরা লাভ আছে? বিদেশ গেলে তো লাইফ স্যাটল। মানুষ হইল না!

চতুর্থ মন্তব্য: এই যুগে চাকরির কোনো দাম আছে? ব্যবসা করো, ব্যবসা!

পঞ্চম মন্তব্য: এই, তুমি বিসিএস দাও নাই? আমার খালাতো ভাইয়ের বউয়ের ভাই তো এবার বিসিএস দিছিল, প্রিলিতে হইছে। তুমি দাও নাই? পড়াশোনা করো নাই?

 চাকরি পেতে দেরি হলে

প্রথম মন্তব্য: আগেই কইছিলাম, এই ছেলেরে দিয়া কিচ্ছু হইব না। পুরা গাধা একটা।

দ্বিতীয় মন্তব্য: প্রশ্ন পাইয়া এ প্লাস পাইছিল, পড়াশোনা তো কিচ্ছু পারে না। চাকরি কি এত সোজা?

তৃতীয় মন্তব্য: সারা বছর টইটই কইরা ঘুরে বেড়াইলে চাকরি হইব কেমনে? এগুলারে দিয়া কিচ্ছু হবে না। গুড ফর নাথিং।

চতুর্থ মন্তব্য: বাপ-মায়ের কষ্টটা বুঝল না। সারা জীবন বখাটেই থাইকা গেল।

পঞ্চম মন্তব্য: চাকরি পাওয়া তো এত কঠিন না, একটু কষ্ট করলেই পাইত। আজকালকার যুগের পোলাপান যে এত্ত ফাঁকিবাজ! জীবনের মূল্যটাই বোঝে না তারা।