বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ক্যাম্পাসে যাওয়া-আসার এই যানবাহন নিয়ে আবেগ, রোমাঞ্চ শুধু ঢাকায় নয়, ঢাকার বাইরের জেলা বা শহরগুলোয়ও আছে। একেকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের লাল, নীল, আকাশি, ধূসর কিংবা সবুজরঙা বাসগুলো অনেক শিক্ষার্থীর স্বপ্ন ফেরি করে বেড়ায়। যাঁরা এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়েন, তাঁদের অনেকের একটা বড় সময় কাটে এই বাসে বসে। তাই বাসযাত্রার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে বহু স্মৃতি। ওই বাসের কোনো যাত্রীর সঙ্গে কথা বলে দেখুন, তাঁর ঝোলায় গল্পের শেষ নেই।

default-image

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী মালিহা ইয়াসমিন বলছিলেন লালরঙা বাসটা তাঁকে কীভাবে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হতে অনুপ্রেরণা জোগাল। ‘সামান্য একটা দ্বিতল যানও যে একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান বিজ্ঞাপন হতে পারে, তার বড় উদাহরণ এই লাল বাস। যদিও বাসগুলোর বর্ণিল নামের নিচে বেশ বড় করেই লেখা থাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, তবু কেন যেন লেখাটার দরকার পড়ে না। দূর থেকে রং দেখেই চেনা যায়। আমার এখনো স্পষ্ট মনে পড়ে, কতবার যে ফার্মগেটে ভর্তি কোচিং শেষে বাসায় ফেরার পথে লাল বাসগুলো দেখে মাঝরাস্তায় দাঁড়িয়ে গিয়েছি! বাসগুলোর দিকে তাকিয়ে শুধু প্রার্থনা করতাম, শিক্ষার্থীর পরিচয়ে এই বাসে চড়ার সৌভাগ্য যেন আমার হয়। সেই স্বপ্ন সত্যি হয়েছে।’

ধানমন্ডি থেকে নিয়মিত ক্যাম্পাসের বাসে যাতায়াত করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের শিক্ষার্থী ফাতেমা নোশিন। তিনি মনে করেন, ক্যাম্পাসের বাসে যাতায়াত করাটা নারী শিক্ষার্থীদের জন্য একটু বেশি সুবিধাজনক। বললেন, ‘নিজের ক্যাম্পাসের বাসে যাতায়াত করলে একটা আলাদা গর্ব যেমন কাজ করে, তেমনি একজন নারী হিসেবে এই বাসে আমি অনেক বেশি নিরাপদ বোধ করি। সে জন্য কখনো কখনো একটু বেশি অপেক্ষা করতে হলে, কিংবা শিডিউল এদিক-ওদিক হয়ে গেলেও ক্যাম্পাসের বাসেই যাতায়াত করতে চেষ্টা করি।’

default-image

ক্যাম্পাসের বাসগুলোর প্রতি শিক্ষার্থীদের ভালোবাসা টের পাওয়া যায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পরিবহন চত্বরে গেলেও। বাসের সামনে দাঁড়িয়ে দল বেঁধে ছবি তোলার চিত্র দেখা যায় নিয়মিত। বিশেষত, প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য তো এটি রীতিমতো ‘অবশ্যকর্তব্য’। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যাণে নিজেদের এই আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগ করে নেন শিক্ষার্থীরা।

বাসের নামগুলোও চমকপ্রদ। যেমন ত্রিশালের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসগুলোর নাম রাখা হয়েছে নজরুলের বিভিন্ন সাহিত্যকর্মের নামে। যেমন ঝিঙে ফুল, বাঁধনহারা, প্রলয়শিখা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষণিকা, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের হালদা নামগুলোও পরিচিত।

যাত্রীরা প্রায় সমবয়সী হওয়ায় বাসের জন্য অপেক্ষার সময়টি যেমন আড্ডায় মুখর হয়, তেমনিভাবে কখনো কখনো চলন্ত বাসেই জমে ওঠে গানের আসর।

default-image

ক্যাম্পাসের বাসে দল বেঁধে যাতায়াত করতে করতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি আলাদা বন্ধনও তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ ও বৈদ্যুতিন প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী নাজমুল হাসান। তিনি বলেন, ‘ক্যাম্পাসের বাসে নিয়মিত যাতায়াত করলে বাসকেন্দ্রিক একটা কমিউনিটি গড়ে ওঠে। অন্যান্য বিভাগের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একটা সখ্য তৈরি হয়। আমরা যাঁরা অনাবাসিক শিক্ষার্থী, তাঁদের জন্য এটি একটি বড় সুযোগ।’ দেখা যায়, দুজন দুই বিভাগের শিক্ষার্থী, ব্যাচও আলাদা, অথচ বাসযাত্রার সুবাদেই তাঁরা হয়ে ওঠেন কাছের বন্ধু।

এই বন্ধুত্ব ও বন্ধনই তো বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ।

জীবনযাপন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন