৩. কোন কোন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে জিআরই স্কোর কাজে লাগে?

যুক্তরাষ্ট্রের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণত ভর্তির জন্য জিআরই স্কোর গ্রহণ করা হয়। আইভি লিগ হিসেবে আলোচিত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়, ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়, কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে জিআরই স্কোর গুরুত্বপূর্ণ। জিআরই পরীক্ষায় ৩২০ বা এর বেশি স্কোর পেলে এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকা যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে বিভিন্ন মানের স্কোর গ্রহণ করা হয়। কোন কোন দেশের কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয় বা ফেলোশিপ কর্তৃপক্ষ জিআরই স্কোর বিবেচনায় নেয়, তা জানা যাবে এই ওয়েবসাইট থেকে।

৪. জিআরই পরীক্ষার কয়টি ভাগ? জিআরই স্কোরের হিসাব কীভাবে হয়?

জিআরই পরীক্ষার সময় প্রায় ৩ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট। এ পরীক্ষার ৩টি প্রধান অংশ আছে—অ্যানালাইটিক্যাল রাইটিং, ভারবাল রিজনিং ও কোয়ান্টিটেটিভ রিজনিং। অ্যানালাইটিক্যাল রাইটিং বিভাগে দুটি অনুচ্ছেদ লিখতে হয়। ৩০ মিনিট সময়ের মধ্যে আর্গুমেন্ট টাস্ক ও ৩০ মিনিট সময়ের মধ্যে ইস্যু টাস্ক লিখতে হয়। ইস্যু টাস্কের ক্ষেত্রে একটি ইস্যু দেওয়া হয়, যেটির পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে আপনাকে রচনা লিখতে হবে। আর আর্গুমেন্ট টাস্কের ক্ষেত্রে একটি বক্তব্য দেওয়া থাকে। সেই বক্তব্যের ভিত্তিতে যুক্তি দিয়ে লিখতে হবে, বক্তব্যে কী কী যৌক্তিক ত্রুটি আছে। এরপর ভারবাল রিজনিং ও কোয়ান্টিটেটিভ রিজনিং দুটি ভাগে আলাদা করে সমাধান করতে হয়। একটি ধাপে ‘এক্সপেরিমেন্টাল’ সেকশন হিসেবে সমস্যার সমাধান করতে হয়। প্রতিটি বিভাগে ৪০টি করে প্রশ্ন থাকে। জিআরই পরীক্ষার স্কোর থাকে ২৬০ থেকে ৩৪০-এর মধ্যে। আলাদাভাবে কোয়ান্টিটেটিভ রিজনিংয়ে ১৩০-১৭০ ও ভারবাল রিজনিংয়ে ১৩০-১৭০ স্কোরের মধ্যে পরীক্ষা হয়। অ্যানালাইটিক্যাল রাইটিংয়ে স্কোর থাকে ০-৬।

৫. কত দিন ধরে প্রস্তুতি নিতে হয়?

বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে দুভাবে প্রস্তুতি নেওয়া যেতে পারে। আপনি যদি শিক্ষার্থী হন, তাহলে যে অনুষদের যে বিষয়ে পড়ছেন; প্রকৌশল, সামাজিক বিজ্ঞান, মেডিকেল বা ব্যবসায় শিক্ষা—আপনাকে বিষয়ভিত্তিক পড়ার দিকে প্রথমে মনোযোগ দিতে হবে। তৃতীয় বা চতুর্থ বর্ষ থেকেই প্রস্তুতি শুরু করতে হবে। ইংরেজি ভাষায় পড়ার দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। পাঠ্যবইয়ের বাইরেও বিষয়সংশ্লিষ্ট জার্নাল পড়া ও লেখার চর্চা করতে হবে। বিশেষ করে গণিতে দক্ষতা বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। কৌশলগত প্রস্তুতি ও নিয়মিত পড়াশোনা ছাড়া কখনোই জিআরই পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত স্কোর অর্জন করা সম্ভব নয়। পরীক্ষা দিতে হলে ইটিএসের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে পরীক্ষার নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধন করলে ইটিএসের ওয়েবসাইটে বিনা মূল্যে প্র্যাকটিস টেস্টে অংশ নেওয়ার সুযোগ আছে। বাংলাদেশের নির্দিষ্ট কয়েকটি সেন্টারে কম্পিউটারের মাধ্যমে এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া যায়।

৬. জিআরই পরীক্ষায় কী কী বিষয়ে প্রশ্ন আসে?

ভারবাল রিজনিং অংশের জন্য ইংরেজি ভাষায় দক্ষ হতে হবে আপনাকে। ইংরেজি ভোকাবুলারি বা শব্দভান্ডার সমৃদ্ধ হওয়া এ ক্ষেত্রে খুব গুরুত্বপূর্ণ। কোয়ান্টিটেটিভ রিজনিংয়ে পাটিগণিত, বীজগণিত, জ্যামিতি ও ডেটা অ্যানালাইসিসের ওপর প্রশ্ন থাকে। সংখ্যা, ভগ্নাংশ, দশমিক, অনুপাত, শতকরা, বীজগাণিতিক বিভিন্ন সমীকরণ, ফাংশন, গ্রাফ, ত্রিভুজ, আয়তক্ষেত্র, বৃত্ত, প্রবাবিলিটিসহ বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পায়। গণিতসংক্রান্ত জিআরইর বিভিন্ন প্রশ্ন ও প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যাবে এ বই থেকে।

অ্যানালাইটিক্যাল রাইটিংয়ের জন্য তুরীয় চিন্তা বা ক্রিটিক্যাল থিংকিং বেশ গুরুত্বপূর্ণ। ইটিএসের ওয়েবসাইটে দেওয়া বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক লেখালেখির মাধ্যমে এ চর্চা করা যায়। রাইটিং সম্পর্কে আরও জানা যাবে এ ঠিকানায়

জিআরই পরীক্ষায় কী কী প্রশ্ন আসে, তার বিস্তারিত জানা যাবে এ ঠিকানা থেকে।

৭. কীভাবে প্রস্তুতি শুরু করব?

আইইএলটিএস বা টোয়েফলের থেকে জিআরই একেবারেই ভিন্ন। আইইএলটিএস বা টোয়েফলে ভাষাভিত্তিক দক্ষতা যাচাই করা হয়। জিআরই পরীক্ষার মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থীর গাণিতিক ও বিশ্লেষণভিত্তিক দক্ষতা যাচাই করা হয়। শুরুতে পরীক্ষার নিয়ম এবং কৌশলগুলো সম্পর্কে ভালো করে জেনে নিতে হবে। নিয়মিত পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। ইংরেজি দৈনিকের নিবন্ধ ও সম্পাদকীয় পড়ার অভ্যাস করুন। শুরুতে প্রতিদিন দু-তিনটি করে নিবন্ধ পড়ার চেষ্টা করুন। নিউইয়র্ক টাইমস, নিউ ইয়র্কার, রিডার্স ডাইজেস্ট, ইকোনমিস্ট আর ফরেন পলিসির মতো পত্রিকা বা সাময়িকীগুলো পড়তে পারেন। এসব পড়ার মাধ্যমে নতুন শব্দ যেমন শিখবেন, তেমনি শব্দের ব্যবহার সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া যাবে।

৮. জিআরই পরীক্ষা কি খুব কঠিন?

ইংরেজি আমাদের মাতৃভাষা নয়, তাই স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা ভয় কাজ করে। প্রথমে ইংরেজিভীতি কাটাতে হবে। কৌশলগত দিক দিয়ে যদি আপনি এগিয়ে থাকেন, তাহলে খুব বেশি কঠিন মনে হবে না। নিয়মিত চর্চা ভয় দূর করতে সাহায্য করে।

৯. গণিতে দুর্বল হলে কি জিআরইতে ভালো নম্বর পাওয়া যায় না? দুর্বলতা কাটাতে কী করতে পারি?

জিআরই পরীক্ষায় স্কুল ও কলেজের সাধারণ গণিতের বিভিন্ন বিষয় থাকে। এসব সমস্যার সমাধান করে আপনি শুরু করতে পারেন। যাঁরা বিজ্ঞান বা প্রকৌশলের বাইরের বিভিন্ন বিষয়ে পড়ছেন, তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক সময় গণিত চর্চার সুযোগ পান না। সে ক্ষেত্রে নিয়মিত জিআরই পরীক্ষার প্র্যাকটিস টেস্টে যেসব বিষয়ে প্রশ্ন আসে, সেগুলো সমাধান করে দেখতে পারেন।

ভারবাল অংশের জন্য সাধারণত বেশ কিছু নতুন ইংরেজি শব্দের অর্থ ও প্রয়োগ সম্পর্কে জানতে হয়। ইংরেজি সিনেমা দেখুন, খবর দেখুন। ইংরেজি বই পড়ুন। জলবায়ু পরিবর্তন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, বিশ্বায়ন, সামাজিক সমস্যা, অর্থনীতি, রাজনীতি, বিজ্ঞান ও দর্শনবিষয়ক বিভিন্ন নিবন্ধ পড়া ও ইউটিউবে তথ্যচিত্র দেখার অভ্যাস করতে পারেন। ইটিএসের ওয়েবসাইট, প্রস্তুতির ওয়েবসাইট ম্যাগুশ (magoosh.com) থেকে বিভিন্ন প্রশ্ন ও সমাধান কৌশল সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে। ভোকাবুলারি সমৃদ্ধ করতে চাইলে ম্যাগুশের জিআরই ভোকাবুলারি ফ্ল্যাশকার্ড মোবাইল অ্যাপটি ব্যবহার করে দেখতে পারেন।

১০. জিআরই পরীক্ষার আবেদন সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারব কীভাবে?

জিআরই পরীক্ষার জন্য অনলাইনে নিবন্ধন করে নির্ধারিত দিনে নির্ধারিত কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে হয়। বিস্তারিত জানা যাবে এ ঠিকানা থেকে।