বৃষ্টিসঙ্গী

না ভিজেও রেইনকোটে পাওয়া যাবে বৃষ্টির ছোঁয়া। মডেল: প্রিন্সেস ও জাওয়াদ। রেইনকোট: স্বপ্ন লাইফ, ছবি: সুমন ইউসুফ
না ভিজেও রেইনকোটে পাওয়া যাবে বৃষ্টির ছোঁয়া। মডেল: প্রিন্সেস ও জাওয়াদ। রেইনকোট: স্বপ্ন লাইফ, ছবি: সুমন ইউসুফ

সময় এখন বর্ষাকাল। হুট করে যখন-তখন বৃষ্টি নামার সময়। সকালে সূর্যি মামার হাসি দেখে ছাতা না নিয়েই বেরোলেন, অথচ ফিরতে হলো কাকভেজা হয়ে! তাই বৃষ্টির বিড়ম্বনার হাত থেকে বাঁচতে আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রাখা ভালো। সঙ্গে রাখুন বর্ষাতি, ব্যাগ কভার, গামবুট ইত্যাদি।
ছাতা
ঝুম বৃষ্টি হোক কিংবা প্রখর রোদ, মাথার ওপর ছাতা থাকলে অনেকটাই আরাম পাওয়া যায়। বাজারে, এমনকি চলতি পথের ফুটপাতেও মিলছে হরেক রকম ছাতা। এর মধ্যে ভাঁজ করা বা ফোল্ডিং ছাতা সহজে বহনযোগ্য, ফ্যাশনেবলও বটে। এক রঙা ছাতা আছে, আছে ফুল-পাতা ও বাহারি নকশারও। আছে ডোরেমন, বারবি ডল, মিকিমাউস আর স্পাইডারম্যানের কার্টুনে ছাওয়া শিশুদের ব্যবহার উপযোগী ছাতা। তবে তাই বলে পিছিয়ে নেই লম্বা ডাঁটের ছাতাও। ফোল্ডিং ছাতার মতো কয়েক ধাপে ছাতা খোলা বা বন্ধ করার ঝামেলার চেয়ে সহজে খোলা যায় এমন লম্বা ডাঁটের ছাতাই বেছে নেন প্রবীণ ব্যক্তিরা।
বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ছাতার মধ্যে এটলাস, শঙ্কর, শরীফ, রিভেরি, পস, মুন, মার্টিরন, অ্যাপেক্স, গোল্ডফিশ, চেরি, ব্রাদার্স, রহমান ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। ভাঁজহীন ছাতার দাম পড়বে ২০০ থেকে ৫৮০ টাকার মধ্যে, দুই ভাঁজের ছাতা ৩৫০ থেকে ৮০০ টাকা, তিন ভাঁজের ছাতা ৭৫০ থেকে ১২০০ টাকার মধ্যে। শিশুদের পছন্দসই ছাতা মিলবে ২০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে। আর হ্যাঁ, ছাতা ব্যবহারেও একটু যত্নবান হতে হয়। বৃষ্টির ধকল সামলে বাসায় ফিরে ভেজা ছাতাটা পুরোপুরি শুকানোর আগ পর্যন্ত খুলে রাখুন। অন্যথায়, ভেজার কারণে ছাতার শিকে মরিচা পড়তে পারে।

বর্ষাতি
ঘরে ছাতা থাকলেও সব সময় ছাতা ব্যবহার করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। বিশেষ করে আপনি যখন মোটরসাইকেলে আরোহী। শিশুদের ক্ষেত্রেও ঝুম বৃষ্টি আর ঝোড়ো বাতাসের হামলা সামলে পথ চলতে কষ্ট হয় বৈকি। সে ক্ষেত্রে ভরসা রেইনকোট বা বর্ষাতি। মাথার হুডিসহ নানা রং ও কার্টুনে আঁকা শিশুদের রেইনকোট পাবেন ২০০ থেকে ৫০০ টাকায় (প্যান্ট ছাড়া)। প্যান্টসহ দাম পড়বে ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা। বড়দের বর্ষাতির দাম পড়বে ৬০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা। মেয়েদের রেইনকোটের দাম পড়বে ৫০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা।

ব্যাকপ্যাক রেইন কভার
মাথার ওপর ছাতা ধরে হয়তো দিব্যি হেঁটে যাচ্ছেন বৃষ্টি বাঁচিয়ে। অথচ বইখাতা বা দরকারি জিনিসপত্রে ঠাসা কাঁধের ব্যাকপ্যাকের অবস্থা নাজেহাল। বাসায় ফিরে দেখেন, সব ভিজে একাকার! তাই এমন অনাকাঙ্ক্ষিত অবস্থা থেকে রক্ষা পেতে সঙ্গে রাখুন ব্যাকপ্যাকের রেইন কভার। এগুলো সম্পূর্ণ পানিরোধক। সাদা, কালো, নীল, কমলা আর রুপালি রং থেকে বেছে নিতে পারেন আপনার পছন্দের এই কভার। কিনতে পারেন ২০০ থেকে ৩৫০ টাকায়। চাইলে ফরমাশ দিয়েও বানিয়ে নিতে পারেন ব্যাকপ্যাক কভার। এগুলো বানানোর বেশ কিছু দোকান রয়েছে রাজধানী ফুলবাড়িয়া, গুলিস্তান, রায়সাহেব বাজার ও ইসলামপুরে।

গামবুট
রাস্তায় পানি জমলে কাদাজলে পা ফেলে হাঁটতে বেকায়দায় পড়তে হয়। কখনো কখনো কাদাজলের নোংরা পানিতে থাকা জীবাণুর আক্রমণে পায়ের আঙুলের ফাঁকে, পায়ের তলায় ক্ষতের সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা এই সমস্যায় ভোগেন বেশি। সে ক্ষেত্রে এই সমস্যা এড়িয়ে স্বচ্ছন্দে পথ চলতে সাহায্য করবে গামবুট। বাজারে কালো রঙের সাদামাটা গামবুট যেমন আছে, আছে বিভিন্ন রং ও নকশার মিশেলে আকর্ষণীয় গামবুটও। শুধু তা-ই নয়, আপনি চাইলে নিজের পছন্দমতো নকশায় ও সঠিক মাপে ফরমাশ করে বানিয়েও নিতে পারেন। সিদ্দিকবাজারের জুতা বিক্রেতা মো. তুহিন বলেন, ‘সাধারণত বর্ষা মৌসুমেই ক্রেতারা গামবুটের খোঁজ করেন। আবার যাঁদের ভবন নির্মাণকালে সিমেন্ট-বালু নিয়ে কাজ করতে হয়, তাঁদের জন্য গামবুট চাই সারা বছর। ফলে কখনো কখনো শতাধিক গামবুট তৈরির অর্ডারও পাই।’ অন্যান্য জুতার তুলনায় গামবুটের দাম তুলনামূলক কম। পাবেন ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকায়।

যেখানে পাবেন
ঢাকার নিউমার্কেট, মোস্তফা মার্ট, বসুন্ধরা সিটি শপিং মল; পলওয়েল সুপার মার্কেট, নয়াপল্টন; বায়তুল মোকাররম মসজিদ মার্কেট, গুলশান ডিসিসি মার্কেট, ফার্মগেট সুপার মার্কেট, পুরান ঢাকার ইসলামপুর, রায়সাহেব বাজার, নবাবপুর, বঙ্গবাজার, সিদ্দিকবাজার, ফুলবাড়িয়া, গুলিস্তান, রাজধানী সুপার মার্কেটসহ বিভিন্ন বিপণিবিতানেই মিলবে বর্ষা ঠেকানোর প্রয়োজনীয় সব অনুষঙ্গ।