
আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে প্রতি একর জমিতে ফেলন ডালের ফলন হয় ৩০০ কেজি। কিন্তু এবার একরপ্রতি ১০০ কেজি ডালও পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে হতাশ চাষিরা। এ চিত্র চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার।
চাষিরা জানান, ফেলনের ফলন বৃষ্টিনির্ভর। এবার চাষের শুরুর দিকে বৃষ্টি না হওয়ায় ফলনে বিরূপ প্রভাব পড়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, গত বছর উপজেলায় ১ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে ১ হাজার ৫৫৩ মেট্রিক টন ফেলন উৎপন্ন হয়েছিল। এবারও ফেলন ডাল চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমি। তবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ১ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে ফেলনের চাষ হয়েছে। কিন্তু ফলন ভালো না হওয়ায় উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেকও না হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার কালিয়াইশ ইউনিয়নের রসুলাবাদ, মাইঙ্গাপাড়া; সাতকানিয়া সদর ইউনিয়নের গারাঙ্গিয়া, রূপকানিয়া, দক্ষিণ রূপকানিয়া, করইয়ানগর; ছদাহা ইউনিয়নের কাজীরখীল, আফজলনগর, ফজুরপাড়া, বিছিন্নাপাড়া ও ঢেমশা ইউনিয়নের খলিফাপাড়া, আশেকেরপাড়া, গোয়াজরপাড়া, নাপিতের চর, হাদুরপাড়া, উত্তর ঢেমশা ও দক্ষিণ ঢেমশা এলাকার ফেলন খেতে চাষিদের তেমন ব্যস্ততা নেই। কয়েকটি খেতে অল্প কয়েকজন চাষি ফেলন তুলছেন। ওই সব এলাকায় অন্তত ২৫০ চাষি ফেলনের চাষ করেছেন।
উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের কর্মকর্তা ও চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পতিত ও পরিত্যক্ত জমিতে ফেলনের চাষ করা হয়। ফেলন ডালের চাষ করতে খুব বেশি খরচ হয় না। আবার পরিশ্রমও তেমন নেই। তাই ফেলনের চাষ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে চলতি বছর ফলন ভালো না হওয়ায় চাষিরা হতাশ হয়েছেন।
রসুলাবাদ এলাকার চাষি লোকমান হাকিম (৬৫) বলেন, গত বছর দুই কানি জমিতে ফেলন ডালের চাষ করেছিলাম। ফলন যথেষ্ট ভালো হয়েছিল। এ বছর তিন কানি জমিতে চাষ করার পরও আশানুরূপ ফলন পাওয়া যায়নি। যা হয়েছে, তা আকারে ছোট ও ছিটা।
আফজলনগর এলাকার চাষি কোরবান আলী (৫৩) বলেন, পৌষের শেষে ও মাঘের প্রথম দিকে ফেলনের চাষ করা হয়। চৈত্রের শেষে ও বৈশাখের প্রথম দিকে ফলন পাওয়া যায়। এ বছর চাষের প্রথম দিকে বৃষ্টি না হওয়ায় ফলন ভালো হয়নি।
উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মহিউদ্দিন জানান, ফেলন চাষে সেচের কোনো প্রয়োজন হয় না। তবে এই ডাল চাষ পুরোপুরি বৃষ্টিনির্ভর। মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টি না হওয়ায় চলতি বছর ফেলনের ফলন তেমন ভালো হয়নি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শোয়েব মাহমুদ বলেন, আবহাওয়াজনিত কারণে চলতি বছর ফেলনের চাষ খুব একটা ভালো হয়নি। তাই কৃষকেরা স্বাভাবিকভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। কৃষি বিভাগ সব ধরনের আবহাওয়া সহনীয় উন্নত মানের কিছু বীজ পরীক্ষামূলকভাবে উপজেলার কয়েকটি জমিতে আবাদ করেছে। আশা করছি ভবিষ্যতে ওই বীজ বপন করে কৃষকেরা লাভবান হবেন।