মনস্তাত্ত্বিক এই ব্যাপারগুলো কি আপনি জানেন?

পৃথিবীতে প্রতিটি জীবনই আলাদা। প্রতিটি প্রাণী আলাদা, প্রতিটি পাখি আলাদা, প্রতিটা পিঁপড়াও আলাদা। একইভাবে প্রতিটি মানুষও ভিন্ন। সবার মনস্তত্ত্বও এক নয়। তাই সবার ক্ষেত্রে যে একই ব্যাপার খাটবে, তা নয়। এজন্য যেকোনো বিষয় কে কীভাবে গ্রহণ করবে, তা নিতান্তই তাঁর নিজস্ব ব্যাপার। তবে এসবের পরও কিছু সাধারণ বিষয় থাকে, সেগুলো জানা থাকলে মন্দ হয় না। দেখে নেওয়া যাক তেমনই সাতটি মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপার।

গান প্রভাবকমাত্র। আপনার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা আর অনুভূতিই বড় কথা।
ছবি: পেক্সেলস ডটকম

১. কোনো কোনো গান শুনে আপনি হয়তো খুবই আবেগাক্রান্ত হয়ে পড়েন। এর কৃতিত্ব কিন্তু ওই গানের নয়। বরং গানটি শুনে আপনার মনে যেসব মানুষের চেহারা ভেসে ওঠে, যে দৃশ্য ফুটে ওঠে, সেগুলোর। গান প্রভাবকমাত্র। আপনার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা আর অনুভূতিই বড় কথা। গান সেটাকে জাগিয়ে তোলে।

২. বেশি চিন্তা করা মানুষদের অনেকেই পছন্দ করেন না। তবে বেস্টলাইফ অনলাইন ডটকমের গবেষণা বলছে, যাঁরা বেশি চিন্তা করেন, তাঁরা ভালো বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়তে জানেন। বেশি চিন্তা করার সঙ্গে সহমর্মিতার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। যাঁরা বেশি চিন্তা করেন, তাঁরা অন্যদের তুলনায় বেশি অনুভূতিশীল হন।

বেশি চিন্তা করে যাঁরা, বন্ধু হিসেবে তাঁরাই সেরা
ছবি: পেক্সেলস ডটকম

৩. সম্পর্কে মাঝেমধ্যে কয়েক দিনের গ্যাপ সম্পর্কটাকে আরও মজবুত করে। পরস্পরকে বোঝা ও মূল্যায়ন করা সহজ হয়। অনুপস্থিতিতে অভাববোধ নির্ধারণ করা যায়।

৪. জাহাজের চারপাশের পানির জন্য জাহাজ ডুবে যায় না। ডুবে যায় সেই পানি জাহাজের ভেতরে ঢুকলে, তার ভারে ভারসাম্য নষ্ট হয়ে। তাই আপনার আশপাশে যা কিছু ঘটছে, সবকিছুকে আপনার ভেতরে নেওয়ার প্রয়োজন নেই। যেটুকু প্রয়োজন, শুধু সেটুকুই নিন। বাকিটুকু বাইরেই থাকুক। তাতেই আপনার চলার পথের ভারসাম্য অটুট থাকবে।

ফেসবুকের গ্রুপগুলোতে যে আলাপ হয় তার শতকরা ৮০ ভাগ অভাব অভিযোগ সম্পর্কিত
ছবি: পেক্সেলস ডটকম

৫. সব পাখি বৃষ্টির সময় নিরাপদ আশ্রয় খোঁজে। কিন্তু ঈগল সেই সময় বৃষ্টি এড়াতে মেঘের ওপরে চলে যায়। আপনিও বিপদে ছোটাছুটি করে সব সময় সমাধান খুঁজতে যাবেন না। মাঝেমধ্যে চেষ্টা করুন, কীভাবে সেটা এড়িয়ে চলা যায়।


৬. সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে (গবেষণাটি ফেসবুকের বিভিন্ন ধরনের ১০০টি গ্রুপের ১০ হাজার আলাপ পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে করা) যত গ্রুপ আছে, সেগুলোতে যা আলোচনা হয়, তার শতকরা ৮০ ভাগ সমস্যা ও অভিযোগসম্পর্কিত।

৭. জীবনসঙ্গী হিসেবে এমন মানুষকে বেছে নেওয়া ভালো যে আপনার সব দুর্বলতা, ভালো, মন্দ আর শক্তিশালী দিক সম্পর্কে অবগত এবং আপনার অতীত নিয়ে ধারণা রাখেন। আর সবকিছু জেনেবুঝে মূল্যায়ন করে তাঁর যেন মনে হয়, জীবনের যাত্রাপথের সঙ্গী হিসেবে আপনিই সেরা।


সূত্র: বেস্টলাইফ অনলাইন ডটকম ও উইনার স্পিরিট (ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট)

সবকিছু জেনেবুঝে মূল্যায়ন করে তাঁর যেন মনে হয়, জীবনের যাত্রাপথের সঙ্গী হিসেবে আপনিই সেরা
ছবি: পেক্সেলস ডটকম