বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

কেমন আছেন?

গতকাল (৩০ অক্টোবর) সারা দিন আমি শুটে ব্যস্ত ছিলাম। ফোন বন্ধ ছিল। রাতে ঘরে ফিরে ফোন অন করেই আপনার মেসেজ দেখলাম। ভালোই। আজ (৩১ অক্টোবর) তো আমাদের এখানে হ্যালোইন। বাচ্চাদের সাজিয়ে দিচ্ছি। ওরা একটু পর চকলেট খুঁজতে বের হবে।

আপনি সাজছেন না?

না, আমার কেন যেন ইচ্ছা করে না। আমি এখানে এত বছর আছি, আমার কখনোই ইচ্ছা করেনি। একবার কেবল বিড়ালের থিমে সেজেছিলাম। বাচ্চারা আনন্দ করে। আমি দেখি।

default-image

আচ্ছা, এখানে আপনাকে কীভাবে ডাকে? মাকসুদা কী উচ্চারণ করে?

হা হা...এইটা খুবই মজার একটা প্রশ্ন। মাকসোডা, ম্যাকসুইডা, ম্যাকশাডা...আমি এখন আর কিছু বলি না। ওদের যা ইচ্ছা হয় বলুক।

আপনি তো পেশায় পাইলট, নেশার মডেল, নাকি?

হ্যাঁ। প্লেন চালানোই আমার প্রধান পেশা। তবে মডেলিংটাও মন দিয়ে, সমস্তটা উজাড় করে দিয়ে করি। আমি আসলে যখন যেটা করি, খুবই সিরিয়াসলি করি। আজ যেমন সারাটা দিন তুলে রেখেছি সন্তানদের জন্য। আজ আমি আর কিচ্ছু করব না।

default-image

বাচ্চা হওয়ার পর নাকি মডেলিং ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যায়। আপনার ছেলের বয়স ১১, মেয়ের ১০ আর মডেলিংয়ের ৯। তা–ও আবার বাদামি বর্ণের এশীয় হয়ে ক্যারিয়ার গড়েছেন আয়ারল্যান্ডে। এসব কীভাবে হলো?

প্রথমত, ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়। আমি সব সময় একটা বিষয় নিশ্চিত করতে চেয়েছি। আর সেটি হলো, আমার কাছে মানুষ যে কাজটি পেতে প্রত্যাশা করে, আমি সবসময় সেটার দ্বিগুণ দেবার চেষ্টা করি, ভালোবাসা মাখিয়ে। মানুষ যে কোনো কাজে আমার সেই আন্তরিকতা টের পান। নিজে থেকেই আবারো কাজ করতে চান আমার সঙ্গে। সেটা যদি না–ও করেন, আমাকে নেবার জন্য অন্যদের সুপারিশ করেন, পরামর্শ দেন। পেশাদারিত্বে নিজের সুনাম ধরে রাখাটা জরুরি। মানুষ মনে রাখে। হ্যাঁ, নিজেকে নিজের জায়গা তৈরি করতে সময় লাগে। আপনি উপযুক্ত কিনা, যোগ্য কিনা তার প্রমাণ দিতে হয় প্রতিনিয়ত। আর কাজের প্রতি থাকতে হয় প্রেম। তখনই কাজটা নিয়ে মানুষের কাছে পৌঁছানো যায়। রোবটের মতো কেবল কাজ করে গেলে মানুষ মানুষের সঙ্গে কানেক্টেট হতে পারেনা। মানুষ ব্যবহার, ভালোবাসা আর আন্তরিকতা দিয়ে কাজটা নিয়ে আরেকটা মানুষের সঙ্গে জুড়ে যায়। তাতে প্রথম কয়েকটা কাজ জোগাড় করা কষ্ট হয়। তবে একবার পেয়ে গেলে, নিজেকে প্রমাণ করতে পারলে কাজ আসতেই থাকে।

default-image

আপনি নাকি মিস আয়ারল্যান্ড প্রতিযোগিতার ফাইনালে নিজের মেকআপ নিজেই করেছিলেন?

হ্যাঁ, আমার মেকআপ আর্টিস্ট ভাড়া করার টাকা ছিল না তো। এখানে নিজের ফান্ড নিজের জোগাড় করতে হয়। আর আমি তো বাংলাদেশের, বাদামি বর্ণের মেয়ে। আমি সেভাবে স্পনসর জোগাড় করতে পারিনি। নিজের টাকা দিয়ে হেয়ার স্টাইলিস্ট নিয়েছিলাম। কারণ, চুলটা ঠিকঠাক হওয়া খুবই জরুরি। নিজের মেকআপ নিজে করেই তো চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। এরপর মডেলিংকে ক্যারিয়ার করে এগোনো সহজ হয়েছে। আমি ছোটবেলা থেকেই সাজতে–গুজতে পছন্দ করি। লাল, নীল, হলুদ, মানে যা তা ঠোঁটে, মুখে, চোখে লাগিয়ে জবরজং হয়ে ঘুরে বেড়াতাম। লোকে হাসত, কিন্তু আমার ভালো লাগত। ওভাবেই শিখে ফেলা। গাইতে গাইতে গায়েনের মতো...

default-image

জ্যামাইকাতে মিস আর্থ ইন্টারন্যাশনালে কী ধরনের বর্ণবৈষম্যের শিকার হয়েছিলেন?

এখানে ফাইনালে একটা রাউন্ড ছিল যেখানে একজন প্রতিযোগী আরেকজন প্রতিযোগীকে প্রশ্ন করার সুযোগ পায়। সেখানে আমাকে প্রশ্ন করেছিল, ‘তুমি তো বাংলাদেশি, তুমি কীভাবে আন্তর্জাতিকভাবে আয়ারল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করবে? তোমার গায়ের রং তো ওদের মতো না। তুমি কীভাবে আন্তর্জাতিকভাবে দাতব্য ও মানবসেবামূলক কাজ করবে?’ উত্তরে আমি বলেছিলাম, আমি আয়ারল্যান্ডকে আন্তর্জাতিকভাবে উপস্থাপন করার যোগ্য বলেই মিস আয়ারল্যান্ড হয়ে এখানে এসেছি। আর দাতব্য কাজ করার জন্য কার কোথায় জন্ম, কী ধর্ম, কার গায়ের রং কী, এগুলো কোনো বিবেচনারই বিষয় না। চাইলে যেকোনো জায়গায় জন্মে, যেকোনো গায়ের রং বা ধর্ম নিয়ে যেকোনো কিছু করা যায়, বিশ্ব বদলে দেওয়া যায়। এ রকম অসংখ্য উদাহরণও আছে।


অবশ্য এই প্রশ্ন করে আমার উপকারই হয়েছিল। বিচারকেরা দেখে, কে আক্রমণাত্মক প্রশ্নের উত্তরে মেজাজ না হারিয়ে যৌক্তিকভাবে উত্তর দিতে পারে। আমি ওই মঞ্চে ‘মিস কম্প্যাশনেট’–এর অ্যাওয়ার্ড পাই। প্রথম রানারআপ হই। অবশ্য এর তিন মাস পর যিনি প্রথম হয়েছিলেন, ‘কোনো কারণে’ সেই রেজাল্ট বাতিল হয়ে মুকুট আমার ঠিকানায় এসেছিল। আমিই টাইটেলধারী হয়েছিলাম।

কেন ওনার মুকুট ছিনিয়ে নেওয়া হয়?

এ বিষয়টা আমি বলতে চাই না। আমি কারও নেতিবাচক দিক নিয়ে মিডিয়ায় কথা বলতে চাই না।

default-image

প্রথম আলো আপনার ক্যারিয়ারে কোনো ভূমিকা রেখেছে?

বাংলাদেশে নিঃসন্দেহে প্রথম আলোই প্রথম। আমাকে তো বাংলাদেশের কেউ চিনত না। মিস আয়ারল্যান্ড হওয়ার পর প্রথম প্রথম আলোর দুই সংবাদিক রুহিনা তাসকিন আর মেহেদী হাসান, এঁরা দুজন আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে কাভার করে। এরপরই বিষয়টা সবার নজরে আসে। আর ওনাদের কাছ থেকে কনটাক্ট নম্বর নিয়ে বা ফেসবুকে অন্যরা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে। টাইটেল জেতার পর আমি বাংলাদেশে গিয়ে প্রথম নকশার ফটোশুটে অংশ নিই। তারপর বেশ কয়েকটা কাজ করেছি। আমাকে এখানকার বাংলাদেশি কমিউনিটির সঙ্গে আলাদা করে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্যও আমি প্রথম আলোর কাছে কৃতজ্ঞ।

default-image

মডেলিং বিশ্বের অন্যতম অল্প সময়ের পেশা। আপনি এত সময় ধরে টিকে থাকার কারণ কী?

আমি কোনো দিন কোনো কিছুর জন্য শর্টকাট খুঁজিনি। আমি সবসময় চেয়েছি, আমার নিয়ন্ত্রণ যেন আমার হাতে থাকে। শর্টকাটে এগোনোর অনেক রাস্তা আছে। কিন্তু ওপরে ওঠার রাস্তা যত, পড়ে যাওয়ার পথ আরও বেশি খোলা। যে যত তরতরিয়ে ওঠে, সে ততই হুড়মুড়িয়ে পড়ে।

default-image

ফিটনেস আর বিউটি নিয়ে একটা পরামর্শ দেন।

ফিটনেস ব্যাপারটা কেবল মডেলিং বা স্পোর্টস ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে জড়িত, বিষয়টা এমন না মোটেও। প্রত্যেক মানুষের সুস্বাস্থ্যের জন্য ফিটনেস জরুরি। আর এ জন্য যদি একটা কথা বলতে হয়, তাহলে আমি বলব, প্রতিদিন আধা ঘণ্টা করে সতেজ বাতাসে হাঁটা। আর বাসায়, জিমে, পার্কে যেখানে হোক, একটু ব্যায়াম করা। আর বিউটির জন্য বলব, তাজা শাকসবজি আর ফল খাওয়া। চিনি, তেল, ফ্রাইড খাবার, রেড মিট যত কমানো সম্ভব, কমানো। আমি সাধারণত স্বাস্থ্যকর খাবার খাই। তবে ভালো কিছু করলে নিজেকে কেক, চকলেট, আইসক্রীম খাইয়ে পুরস্কার দিই। এইটাই আমার চিটমিল।

default-image
লাইফস্টাইল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন