রাশিয়ায় ঈদ

মস্কোর বাংলাদেশ দূতাবাসে ঈদের নামাজ শেষে কোলাকুলি
মস্কোর বাংলাদেশ দূতাবাসে ঈদের নামাজ শেষে কোলাকুলি

বিদেশে বাঙালির ঈদ কাটে অনেকটা সাদামাটা ভাবেই। ঈদের দিন কাটে অন্যান্য সাধারণ দিনের মতোই। থাকে না বিশেষ কোনো পরিকল্পনা। রাশিয়ায় এবার ২৮ জুলাই সোমবার ঈদুল ফিতর উদ্যাপিত হয়। এ দিন রাশিয়ার মুসলমান অধ্যুষিত প্রদেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়। তবে রাজধানী মস্কোতে ঈদের দিন সরকারি ছুটি ছিল না। ফলে বাংলাদেশিসহ বিদেশি এবং স্থানীয় মুসলমান বেশিরভাগকে ঈদের দিন কর্মস্থলে যেতে হয়েছে। তার পরও মস্কোতে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও ব্যাপক উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্যাপন করেছেন। রুশ ভাষায় ঈদুল ফিতরকে বলা হয় উরাজ বাইরাম।
স্থানীয় সময় সকাল আটটায় মস্কোর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। কয়েক হাজার মুসলমান এখানে ঈদের নামাজ আদায় করেন। মসজিদে স্থান সংকুলান না হওয়ায় মস্কো নগর কর্তৃপক্ষ চারটি উদ্যানে ঈদের জামাতের ব্যবস্থা করে।
প্রতিবারের মতো এবারও মস্কোতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের ঈদের সবচেয়ে বড় জামাত অনুষ্ঠিত হয় ভেদেনখার কিরগিজ প্যাভিলিয়নে। সকাল নয়টায় ঈদের নামাজ পড়তে মস্কোর বিভিন্ন স্থান থেকে বাংলাদেশিরা ছুটে আসেন এখানে। বাংলাদেশি বিভিন্ন সংগঠনের নেতা-কর্মীদের এখানে ঈদের নামাজ আদায় করতে দেখা যায়।
এ ছাড়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের একাংশ বাংলাদেশ দূতাবাসে ঈদের নামাজ আদায় করেন। সকাল দশটায় এখানে জামাত অনুষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রদূত এস এম সাইফুল হক দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও প্রবাসীদের সঙ্গে এখানে ঈদের নামাজ পড়েন। নামাজ শেষে দেশ-জাতির মঙ্গল কামনার পাশাপাশি মুসলিম বিশ্বের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। বাংলাদেশিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি ও কুশল বিনিময় করেন।

মস্কোর বাংলাদেশ দূতাবাসে ঈদের নামাজ শেষে কোলাকুলি
মস্কোর বাংলাদেশ দূতাবাসে ঈদের নামাজ শেষে কোলাকুলি

উল্লেখ্য, রাশিয়ায় প্রায় দুই কোটি মুসলমান বাস করেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ২০ লাখ মুসলমান বাস করেন শুধু মস্কোতেই। রাশিয়ার সব মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। ঈদ উপলক্ষে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভলাদিমির পুতিন তাঁর দেশের মুসলমানদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।
জামিল খান
মস্কো, রাশিয়া