রোমের প্রাগৈতিহাসিক প্রাচীর

প্রাচীন সেই প্রাচীরের একাংশ
প্রাচীন সেই প্রাচীরের একাংশ

চোখ ধাঁধানো ও প্রাগৈতিহাসিক প্রাচীরে ঘেরা সভ্যতার লীলাভূমি রোম আর রোমান ক্যাথলিক সম্প্রদায়ের তীর্থভূমি ভ্যাটিকান সিটি।
বিশ্ব ঐতিহ্যের অন্যতম এ প্রাচীরগুলো নির্মিত হয় ২৭৫ খ্রিষ্টাব্দে, এক হাজার ৭৩৯ বছর আগে। নির্মিত হলেও প্রাচীরগুলো দেখে তা মনে হয় না। ইট-কংক্রিটের মজবুত গাঁথুনি ও ইমারত নির্মাণশিল্পীদের সুনিপুণ কর্ম প্রাচীরগুলোকে আলাদা বৈশিষ্ট্যে দাঁড় করিয়েছে। মনে হয় যেন কয়েক দশক আগেই এর সৃষ্টি। রোম-ভ্যাটিকান সিটির প্রাচীরগুলোর মতো সংখ্যায় বেশি এবং অত পুরোনো প্রাচীর বিশ্বের অন্য কোনো নামকরা নগরে নেই।

প্রাচীর দেখতে ভিড় জমিয়েছেন পর্যটকেরা
প্রাচীর দেখতে ভিড় জমিয়েছেন পর্যটকেরা



রোমান সম্রাট অ্যারেলিয়ানের ( Aureliane) শাসনামলে ২৭৫ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম রোম নগরের প্রাচীরগুলো নির্মিত হয়। সম্রাটের নামানুসারে নাম দেওয়া হয় Aureliane Wall; যাকে রোমান ভাষায় বলা হয় Porta di Aureliane। নির্মাণ শেষ হওয়ার পাঁচ বছর আগে ২৭১ সালে প্রকল্পের কাজ শুরু হলেও কাজ শেষ হওয়ার আগে সম্রাটের মৃত্যু হয়। Porta di Aureliane বা অরেলিয়ান প্রাচীর প্রকল্পে ছোট-বড় মিলিয়ে মোট ১৯টি প্রাচীর নির্মাণ করা হয়। এদের সবগুলো রোম নগর ও ভ্যাটিকানকে ঘিরে।

প্রাচীরের বিভিন্ন স্থানে আছে এ রকম টাওয়ার
প্রাচীরের বিভিন্ন স্থানে আছে এ রকম টাওয়ার

অরেলিয়ান প্রাচীর প্রকল্পের কাজ শুরুর কয়েক বছর আগে রোমানদের সঙ্গে জার্মানদের যুদ্ধ বাধে। এর পর থেকে সম্রাট অ্যারেলিয়ান প্রাচীর নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। প্রাচীর নির্মাণের মাধ্যমে রোম নগরকে নিয়ে আসেন নিরাপত্তাবলয়ে। রোম-ভ্যাটিকানে অবস্থিত প্রাচীরগুলোর অধিকাংশ উল্লিখিত অ্যারেলিয়ান সম্রাটের শাসনামলে নির্মিত হলেও কিছু নির্মিত হয় সম্রাট সার্বিয়ানের ( Servian) শাসনামলে। এটি ছিল চার শতাব্দীর শুরুর দিকে। সার্বিয়ান প্রাচীরে মোট ১৬টি দরজা রয়েছে। রোমান ভাষায় প্রাচীরটির নাম Porta di Servian (পর্তা দি সার্বিয়ান)। ১০ মিটার উঁচু, ৩.৬ মিটার প্রস্থের সার্বিয়ান প্রাচীর মোট ১১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য। সে সময় জাতিগত দাঙ্গা থেকে রাজধানী শহর রোমকে নিরাপত্তার চাদরে নিয়ে আসতেই মূলত প্রাচীর নির্মাণ।

একটি প্রবেশ গেট
একটি প্রবেশ গেট



প্রাচীরগুলোর বৈশিষ্ট্য হলো কখন বা কী প্রয়োজনে প্রাচীর নির্মাণ, তা গায়ে রোমান ভাষায় খোদাই করে লেখা আছে। দ্বিতীয় শতাব্দীর শেষের দিক আর চতুর্থ শতাব্দীর শুরুর দিকে নির্মাণ করা প্রাচীরগুলো যুগের বা কালের প্রয়োজনে যেখানে সড়ক নির্মাণ করা প্রয়োজন, সে অংশ ফুটো করা হয়েছে। বছরজুড়ে রোমে আসা অগণিত পর্যটকের দৃষ্টি কেড়ে নেয় দৃষ্টিনন্দন এ প্রাচীরগুলো। প্রাচীরগুলোর অবলোকনযোগ্য স্থানে সব সময় দেখা যায় পর্যটকের ভিড়।

শেখ মোহাম্মদ সাহেদ
রোম, ইতালি