শিক্ষক নিবন্ধনের আবেদন ৬ মার্চ থেকে

সরকারি স্কুল-কলেজের পাশাপাশি বেসরকারি স্কুল-কলেজগুলোতেও বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে পাওয়া যায় চাকরির সুযোগ। সিলেটে শাহজালাল সিটি কলেজ থেকে ছবিটি তুলেছেন আনিস মাহমুদ
সরকারি স্কুল-কলেজের পাশাপাশি বেসরকারি স্কুল-কলেজগুলোতেও বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে পাওয়া যায় চাকরির সুযোগ। সিলেটে শাহজালাল সিটি কলেজ থেকে ছবিটি তুলেছেন আনিস মাহমুদ

অনেকেরই স্বপ্ন থাকে একজন ভালো শিক্ষক হওয়ার। সরকারি স্কুল-কলেজের পাশাপাশি বেসরকারি স্কুল-কলেজগুলোতেও বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে পাওয়া যায় চাকরির সুযোগ। তবে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন আইন, ২০০৫ অনুসারে, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেতে হলে প্রাতিষ্ঠানিক সনদের পাশাপাশি শিক্ষক নিবন্ধন সনদও থাকতে হবে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) মো. এলিয়াস হোসেন জানান, দেশে এখন এমপিওভুক্ত নিম্নমাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় ১৬ হাজার ১০৯টি, কলেজ ২ হাজার ৩৬৩টি এবং মাদ্রাসা আছে ৭ হাজার ৫৯৮টি। তাই এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক হতে চাইলে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় অবশ্যই উত্তীর্ণ হতে হবে।
সম্প্রতি বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) বিভিন্ন পত্রিকায় ত্রয়োদশ শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। তা ছাড়া এই http://www.edailysun.com/arc/pre_page/2016-02-26/8#tab1 লিংক থেকেও বিজ্ঞপ্তিটি পাওয়া যাবে। অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে আগামী ৬ মার্চ বেলা ৩টা থেকে। আবেদন করা যাবে আগামী ৩ এপ্রিল সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত। এনটিআরসিএর পরীক্ষা মূল্যায়ন ও প্রত্যয়ন সদস্য (যুগ্ম সচিব) মো. হুমায়ূন কবীর জানান, আগে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা দুটি ধাপে হলেও এবার তিনটি ধাপে হবে। নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী প্রার্থীদের প্রথম ধাপে প্রিলিমিনারি টেস্ট, দ্বিতীয় ধাপে লিখিত এবং তৃতীয় ধাপে মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। তিনটি পর্যায়ে পরীক্ষা হবে। স্কুল পর্যায় (সহকারী শিক্ষক), স্কুল পর্যায়-২ (ট্রেড ইনস্ট্রাক্টর, জুনিয়র মৌলভি, জুনিয়র শিক্ষক ও ইবতেদায়িকারী) এবং কলেজ (প্রভাষক) পর্যায়ে। স্কুল ও স্কুল পর্যায়-২-এর প্রার্থীদের প্রিলিমিনারি টেস্ট হবে আগামী ৬ মে এবং কলেজ পর্যায়ের প্রিলিমিনারি টেস্ট হবে ৭ মে ২০১৬ তারিখ সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত। অন্যদিকে, লিখিত পরীক্ষা স্কুল ও স্কুল পর্যায়-২ প্রার্থীদের ১২ আগস্ট এবং কলেজ পর্যায় প্রার্থীদের ১৩ আগস্ট সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের পরবর্তী সময়ে এসএমসের মাধ্যমে মৌখিক পরীক্ষার তারিখ ও সময় জানিয়ে দেওয়া হবে বলে জানান হুমায়ূন কবীর।
আবেদনের যোগ্যতা: শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় আবেদন করতে হলে প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কমপক্ষে স্নাতক বা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। তবে সমগ্র শিক্ষাজীবনে যেকোনো একটি তৃতীয় বিভাগ বা সমমান জিপিএর ফলাফল গ্রহণযোগ্য হবে। সদ্য উত্তীর্ণ প্রার্থীরা সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান কর্তৃক প্রদত্ত প্রশংসাপত্র, টেবুলেশন শিট বা নম্বরপত্র ও প্রবেশপত্র মৌখিক পরীক্ষায় প্রদর্শনের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন। কিন্তু পরীক্ষায় অবতীর্ণ প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবে না।
আবেদন প্রক্রিয়া: শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার জন্য আবেদন করতে হবে অনলাইনে। <http://ntrca.teletalk.com.bd> এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে যথাযথভাবে আবেদনপত্র পূরণ করে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত নিয়মানুযায়ী ছবি এবং স্বাক্ষর আপলোড করে আবেদনপত্র সাবমিট করা সম্পন্ন হলে কম্পিউটারে ছবিসহ Application Preview দেখতে পাবে। নির্ভুলভাবে আবেদনপত্র সাবমিট করা সম্পন্ন হলে প্রার্থী একটি ইউজার আইডি, ছবি এবং স্বাক্ষরযুক্ত একটি Applicant’s কপি পাবে। এই Applicant’s কপি প্রার্থী প্রিন্ট অথবা ডাউনলোড করে সংরক্ষণ করবেন। Applicant’s কপিতে প্রদত্ত ইউজার আইডি ব্যবহার করে প্রার্থী বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত পদ্ধতিতে যেকোনো টেলিটক প্রি-পেইড মোবাইল নম্বরের মাধ্যমে দুটি এসএমএস করে পরীক্ষার ফি বাবদ ৩৫০ টাকা অনধিক ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জমা দিতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা জমা দেওয়ার পর প্রার্থীকে একটি ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড ফিরতি এসএমএসের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে। এই ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে প্রার্থী তাঁর প্রিলিমিনারি টেস্টের প্রবেশপত্র যথাসময়ে <http://ntrca.teletalk.com.bd> এই ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করে নিতে পারবেন। প্রিলিমিনারি টেস্টে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের এসএমএসের মাধ্যমে হার্ড কপি প্রেরণের তারিখ ও সময় অবহিত করা হবে। এসএমএসে প্রাপ্ত নির্দেশনা মোতাবেক উত্তীর্ণ প্রার্থীরা অনলাইনে পূরণকৃত আবেদন ফরমের সঙ্গে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত কাগজপত্র ঢাকা জিপিও বক্স নম্বর-১০৩, ঢাকা-১০০০ ঠিকানায় পৌঁছাতে হবে।
পরীক্ষা পদ্ধতি: প্রার্থীদের প্রথমে ১০০ নম্বরের এমসিকিউ পদ্ধতিতে এক ঘণ্টার প্রিলিমিনারি টেস্টে অংশগ্রহণ করতে হবে। চারটি বিষয়ে ২৫টি করে মোট ১০০টি প্রশ্ন থাকবে। বাংলা, ইংরেজি, সাধারণ গণিত ও সাধারণ জ্ঞান—এই বিষয়গুলো থেকে প্রশ্ন থাকবে। প্রিলিমিনারি টেস্টে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের আবার ১০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় পাস নম্বর থাকবে ৪০। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের এনটিআরসি কর্তৃক প্রদত্ত তারিখে মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের তারিখ থেকে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে উত্তীর্ণ প্রার্থীর সনদ অনলাইন আবেদনপত্রে উল্লেখিত তাঁর স্থায়ী ঠিকানার জেলা শিক্ষা অফিসে প্রেরণ করা হবে। যে সনদ দিয়ে যেকোনো বেসরকারি স্কুল-কলেজ বা মাদ্রাসায় আবেদন করা যাবে।
বিস্তারিত জানতে: পরীক্ষাসংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য এনটিআরসিএর ০২-৫৫১৬৭৪১৭, ০২-৫৫১৬৭৪১৮, ০২-৫৫১৬৭৪১৯ ও ০২-৫৫১৬৭৪২১ এই নম্বরগুলো থেকে জানা যাবে।