
হাতে ধরে ডিমের কুসুম থেকে সাদা অংশ আলাদা করতে হবে না, লেবুর রস পাওয়ার জন্য হাত দিয়েও লেবু চিপতে হবে না। রান্নাঘরে টুকিটাকি কাজের জন্য পাবেন কিছু সরঞ্জাম।
এতে ঝামেলা যেমন কমবে, সময়ও বাঁচবে।
গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের গৃহব্যবস্থাপনা ও গৃহায়ণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফারহানা শরীফ বলেন, রান্নাঘরের কাজ সহজ করতে ছোটখাটো কিছু সরঞ্জাম ব্যবহার করা যেতে পারে। এ ছাড়া কাজ গোছানোর ব্যাপারে কিছু জিনিস খেয়াল রাখতে হবে। কম সময়ে সহজেই সেরে নেওয়া যাবে প্রতিদিনের কাজ।
বঁটি বা ছুরির সাহায্যে সবজির খোসা ছাড়াতে যত সময় লাগে, পিলারের সাহায্যে খোসা ছাড়ালে সময় লাগবে তার চেয়ে অনেক কম। ঢাকার গুলশান ডিসিসি মার্কেট ঘুরে পাওয়া গেল নানান রকম পিলারের খোঁজ। মসৃণভাবে খোসা ছাড়ানোর পিলার যেমন সেখানে পাবেন, তেমনি পাবেন নকশা করা পিলার। নকশা করা পিলারের সাহায্যে সবজি বা ফলের খোসা ছাড়ানোর পর সেটিকে স্লাইস করা হলে দারুণ দেখাবে।
সাধারণভাবে সবজি কাটার পাশাপাশি ফুল বা তারার মতো আকৃতিতে সবজি কাটার যন্ত্রও পাবেন বাজারে। চপিং বোর্ড আর বিভিন্ন আকারের ছুরির সাহায্যে রোজকার কাটাকাটির কাজটাও করতে পারবেন সহজেই। নারকেল কুরুনি আর মাছের আঁশ তোলার জন্য ব্যবহৃত সরঞ্জামগুলোও বেশ কাজের।
অতিথি আপ্যায়নের সময় চটজলদি ফল কাটার জন্য আপেল কাটার ও আনারস কাটারের মতো ছোটখাটো কিছু সরঞ্জাম ঘরে রাখার পরামর্শ দিলেন ফারহানা শরীফ। আনারস কাটারের সুবিধা হলো, এটির সাহায্যে একবারেই একটি আনারসের সম্পূর্ণ খোসা ছাড়িয়ে নেওয়া যায়। খোসা ছাড়ানোর সময়ই আনারসের গায়ে খাঁজকাটা নকশা তৈরি হয়ে যায়, এরপর আনারসটাকে স্লাইস করে নিলে টুকরাগুলোকে ফুলের মতো দেখাবে। এ ছাড়া আনারসের কালো অংশগুলো তুলে ফেলার জন্য আলাদা সরঞ্জাম কিনতে পাওয়া যায়।
রান্নাঘরের কাজকে ঝামেলামুক্ত করতে তাঁর আরও পরামর্শ—

*প্রচলিত ডাল ঘুটনির পরিবর্তে অন্য একটি বিটার ব্যবহার করতে পারেন। এই বিটারের চরকির মতো অংশটি হাতের সাহায্যে কয়েকবার দ্রুত ঘোরালেই ডাল পেষা হয়ে যাবে সহজে।
*সঠিক পরিমাণে উপকরণ নিয়ে খাদ্য তৈরির জন্য পরিমাপক কাপ ও চামচ রাখতে পারেন। ছোট্ট একটি ওজন পরিমাপক যন্ত্রও রাখা যেতে পারে।
বিভিন্ন কৌটার মুখ খোলার জন্য ক্যান ওপেনার রাখতে পারেন।
মসলা বা নুডলস প্যাকেট খোলার জন্য ছোট একটি কাঁচি রাখতে পারেন রান্নাঘরেই। রান্নাঘরে কোনো সুতা বা দড়ি কাটতে হলেও সেটি কাজে লাগবে। এ ছাড়া বিশেষ ধরনের কাঁচিও পাওয়া যায় বাজারে, যেটির ওপরের অংশ কাঁচির মতো হলেও অন্য অংশটি গ্রিলড চিকেন কাটার কাজে ব্যবহার করা যায়।
*চুলা থেকে গরম হাঁড়ি নামাতে কাপড় ব্যবহার করতে অসুবিধায় পড়তে পারেন অনেকে। ধাতব পদার্থের তৈরি একটি গোলাকার বড় আংটার মতো সরঞ্জাম কিনতে পাওয়া যায়, যেটির এক পাশে লম্বা হাতল থাকে। হাতলের অংশে অন্তরক পদার্থ লাগানো থাকে, তাই আংটার সাহায্যে গরম হাঁড়ি ধরার সময় হাতলটা গরম হয়ে গিয়ে আপনার হাত পুড়ে যাওয়ার ভয় থাকে না। তবে এটি ব্যবহার করার সময় অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে যেন গরম হাঁড়িটা আংটার মধ্যে সঠিকভাবে আটকে থাকে।
রোস্ট বা মিষ্টি পরিবেশনের জন্য চিমটা আকৃতির সরঞ্জাম কাজে লাগাতে পারেন। এ ছাড়া পরোটা বা মাছ ভাজার সময় সেগুলোকে উল্টে নিতে এ ধরনের সরঞ্জাম ব্যবহার করতে পারেন।
পরিবেশনের সময় নানান নকশায় ফল বা সবজি কাটার জন্য ডেকোরেশন ছুরি রাখতে পারেন ঘরে।

পিঠা, সন্দেশ বা হালুয়া তৈরির সময় নকশা করতে চাইলে নানান রকম ছাঁচ রাখতে পারেন বাড়িতে।
মাটি বা চিনামাটির তৈরি জিনিস যেখানে কিনতে পাওয়া যায়, সেখানে বিশেষ ধরনের ছোট পাত্রের খোঁজ পেতে পারেন, যেটির ভেতরে খাঁজকাটা থাকে। পাত্রটির সঙ্গে থাকে কাঠের একটি বল। পাত্রের মধ্যে টুকরা করা সবজি বা পেঁয়াজ রেখে বলের সাহায্যে কয়েকবার ঘষে নিলেই সবজি বা পেঁয়াজ পেষা হয়ে যাবে।
ছোটখাটো সরঞ্জামগুলো অবশ্যই নির্দিষ্ট কেবিনেট বা বাক্সে গুছিয়ে রাখতে হবে, যেন কাজের সময় সেগুলো সহজেই খুঁজে পাওয়া যায়। কোথায় কোন ধরনের সরঞ্জাম রাখা হয়েছে, তা ছোট কাগজে লিখে কেবিনেট বা বাক্সের গায়ে লাগিয়ে রাখা ভালো। এ ছাড়া প্রতিদিনের পুষ্টি উপাদানের চাহিদা মাথায় রেখে সপ্তাহের কোন দিন কী রান্না করা হবে, তা ঠিক করে রাখলে প্রতি সপ্তাহে একইভাবে কাজ গুছিয়ে নিতে পারবেন।
ঢাকার গুলশান ডিসিসি মার্কেটের আজিজ অ্যান্ড সন্সের বিক্রয় ব্যবস্থাপক (সেলস ম্যানেজার) মো. ইব্রাহিম জানালেন, সেদ্ধ ডিম কুচি করার জন্য রয়েছে এগ কাটার, আবার কাঁচা ডিমের সাদা অংশ থেকে কুসুম আলাদা করার জন্য এগ সেপারেটর পাওয়া যায়। সহজে ডিম ফেটানোর জন্য এগ বিটার ব্যবহার করা যেতে পারে।
মাছ-মাংস কাটার সময় মাছের বড় কাঁটা বা মাংসের ছোট হাড় কাটার জন্য কিচেন সিজর রয়েছে তাঁর দোকানে। আবার লেবু বা মালটার রস বের করতে কাঠের একটি বিশেষ সরঞ্জাম কাজে লাগাতে পারেন।

একই মার্কেটে মেসার্স উপহার ক্রোকারিজ কর্নার স্টোরসহ বিভিন্ন দোকানে পাবেন বিশেষ ধরনের ব্রাশ। খাবারে তেল বা মাখন লাগানোর জন্য (ওয়েল ব্রাশিং) কাজে লাগবে এটি। পিৎজা কাটার, কাপ-কেক ও বিস্কুটের ছাঁচ, ভাজা খাবারের তেল ঝরানোর সরঞ্জাম, সেদ্ধ আলু পিষে ভর্তা বানানোর সরঞ্জাম, বিভিন্ন আকৃতিতে সবজি ও ফল কাটার যন্ত্র, কাঠের হামানদিস্তাসহ নানান জিনিস পাবেন ডিসিসি মার্কেট ও নিউমার্কেটের বিভিন্ন দোকানে। এ ছাড়া বসুন্ধরা সিটিসহ অন্যান্য শপিং মলে গৃহস্থালির সরঞ্জাম পাওয়া যায়—এমন সব দোকানে দেখতে পারেন।
দরদাম
পিলার পাবেন ১০০ থেকে ২৫০ টাকায়, ডিম কাটারের দাম পড়বে ১৫০ টাকা, এগ সেপারেটরের দাম ১০০ টাকা, মাছের আঁশ তোলার যন্ত্র ১২০ টাকা, ক্যান ওপেনার ১০০ থেকে ৩৫০ টাকা, ছুরি ১৫০ থেকে ৫০০ টাকা, ডেকোরেশন ছুরি ১০০ টাকা, হামানদিস্তা ২০০ টাকা, পিৎজা কাটার ২০০ টাকা, আলু ভর্তা করার সরঞ্জাম ২৫০ টাকা, পরিমাপক কাপ ও চামচ ১২০ টাকা এবং তেল ঝরানোর সরঞ্জামের দাম পড়বে ৮০ টাকা। এক ডজন কাপ-কেকের ছাঁচ পাবেন ৩৫০ টাকায়। কয়েক ধরনের ডেকোরেশন ছুরির সেট মিলবে ৯০০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে।