আপনি গত ২১ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করেছেন। কী নিয়ে আলাপ হলো?

স্টিভি স্প্রিং সিবিই: বাংলাদেশের শিক্ষার অবস্থা নিয়ে কথা হয়েছে। তিনি আমাদের বাড়িওয়ালা (হাসি)। তাই আমরা ব্রিটিশ কাউন্সিলের ভবন নিয়ে আলোচনা করেছি। বাংলাদেশ সফর নিয়ে আলাপ হয়েছে। যুক্তরাজ্যের শিক্ষার্থীরা, যাঁরা বাংলাদেশ আসতে চায় এবং বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্যের শিক্ষার্থীদের জন্য কীভাবে শিক্ষাপ্রক্রিয়া সহজ করা যায়, সে বিষয়ে কথা বলেছি। বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণায় আমরা কী কী অতিরিক্ত কাজ করতে পারি, সে বিষয়েও কথা হয়েছে। এ বছরের জানুয়ারিতে লন্ডনে অনুষ্ঠিত এডুকেশন ওয়ার্ল্ড ফোরাম এবং বাংলাদেশের খাবার প্রসঙ্গও আমাদের আলাপে উঠে এসেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শতবর্ষ উদ্​যাপন করছে। কিন্তু যুক্তরাজ্যভিত্তিক শিক্ষা ও গবেষণা সংস্থা কিউএস র​্যাঙ্কিংয়ে বিশ্বের ১ হাজার ৩০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবস্থান ৮০১-১০০০তম। বছরের পর বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়তন বাড়লেও মানসম্পন্ন গবেষণা ও শিক্ষার দিক থেকে অগ্রসর হয়নি। আপনি বিষয়টি কীভাবে দেখছেন?

স্টিভি স্প্রিং সিবিই: বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বৈশ্বিক র​্যাঙ্কিং সম্পর্কে আমাদের সতর্ক হওয়া উচিত। এই অঞ্চলে অবশ্যই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ খ্যাতি রয়েছে বলে আমার ধারণা। আমি মনে করি, গবেষণার উপলব্ধিই হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল চালিকাশক্তি। এখানেই আমরা ঢাকা এবং যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপনে সাহায্য করতে পারি। ব্যক্তিগতভাবে আমি যুক্তরাজ্যের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে জড়িত ছিলাম, যেটি একটি র​্যাঙ্কিংয়ে ১৯তম এবং অন্য একটি র​্যাঙ্কিংয়ে ৬৫তম। সুতরাং এটি নির্ভর করে আপনি র​্যাঙ্কিংয়ের ক্ষেত্রে কোন বিষয়গুলো দেখছেন তার ওপর।

বাংলাদেশে এবারই প্রথম এলেন। ফেরার সময় কী নিয়ে যাবেন? এ সফরে সবচেয়ে বেশি কী উপভোগ করেছেন?

স্টিভি স্প্রিং সিবিই: এখানকার শব্দ, নানা রং ও কর্মব্যস্ততা দেখে আমি অভিভূত। আমার দেখা সারা বিশ্বের মানুষের মধ্যে বাংলাদেশিরা সবচেয়ে বন্ধুত্বপূর্ণ। এই বাংলার উষ্ণতা শক্তিশালী এবং অপ্রতিরোধ্য। যে জিনিসটি আমার সবচেয়ে বেশি মনে ধরেছে—এখানকার সবাই খুব উচ্ছল। যখন কেউ বলে, ‘হ্যাঁ, আমি বাংলাদেশে ঘুরতে যাচ্ছি’, তারা আসলে ভারত, নেপাল, পাকিস্তানও ঘোরে। কিন্তু আমি কেবল বাংলাদেশ ঘোরার জন্য এসেছি। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০তম বার্ষিকী ও উদ্​যাপন দেখতে। আফসোস, আমি বেশি দিন থাকব না। ঢাকার বাইরে দেশের বাকি অংশ দেখতে পারলে আরও ভালো লাগত। তবে এটাই হবে আমার আবার এ দেশে ফিরে আসার অজুহাত।