• কেউ কেউ আছেন, যাঁরা হঠাৎ খুব বেশি রেগে যান। তাঁদের জন্য রাগ নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। হঠাৎ রেগে যাওয়া থেকে নিজেকে বিরত রাখতে যা করতে পারেন—

  • হঠাৎ রেগে গেলে নিজের শরীরকে যতটা সম্ভব শিথিল করে ফেলুন—বড় করে শ্বাস নিন, কোনো গঠনমূলক ছোট বাক্য যেমন ‘ঠিক আছে’, ‘শান্ত হও’ বারবার উচ্চারণ করতে পারেন। সুন্দর কোনো দৃশ্য, প্রিয়জনের মুখচ্ছবি মনে করতে পারেন।

  • কোনো কিছু মুখ দিয়ে উচ্চারণ করার আগে বা কিছু করার আগে একটু ভাবুন, আপনার এই কথা বা আচরণে আরেকজনের প্রতিক্রিয়া কী হতে পারে।

  • রাগের মাথায় কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে বিরত থাকুন। পরে ভেবেচিন্তে কারও সঙ্গে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুন।

  • রাগের সময় দাঁড়িয়ে থাকলে বসে পড়ুন, বসে থাকলে (সুযোগ থাকলে) শুয়ে পড়ুন।

  • যদি বুঝতে পারেন যে আপনি হঠাৎ বেশি রাগ করে ফেলছেন, সেই সময় ওই স্থান দ্রুত ত্যাগ করুন। নিজেকে পরাজিত মনে করবেন না; বরং ভাবুন আপনি রাগকে পরাজিত করে নিজে জয়ী হয়েছেন।

যাতে চট করে রেগে না যান, সে জন্য রাগ নিয়ন্ত্রণ করার চর্চা করুন।

  • কারও ওপর বা কোনো ঘটনার ওপর রাগ করলে ভেবে দেখুন ঘটনাটি কেন ঘটেছে। আপনার রাগ করার যথার্থ কারণ থাকলেও যুক্তির প্রয়োগে আপনি সেই কারণকে একপাশে সরিয়ে রাখতে পারেন।

  • আলাপচারিতার সময় ‘কখনোই না’, ‘সব সময়ই’, ‘অবশ্যই’—এ–জাতীয় শব্দচয়ন বাদ দিন। কর্মক্ষেত্রে সহকর্মী বা অধস্তনদের সঙ্গে কথোপকথনে আদেশজাতীয় বাক্যের পরিবর্তে অনুরোধের সুরে কথা বলুন।

  • প্রতিদিনের ব্যস্ততার মধ্যে কিছু না কিছু সময় নিজেকে দিন। নিজেকে নিয়ে ভাবুন, সারা দিন কী করলেন বা কী করবেন, সেটা মনের মধ্যে সাজিয়ে নিন।

  • নিজেকে প্রতিদিন একবার করে ধন্যবাদ দিয়ে নিজের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন।

  • হাসার অভ্যাস করুন। হাসলে ছোট হয়ে যাবেন, আপনার ব্যক্তিত্ব হালকা হয়ে যাবে, এমনটা কখনোই ভাববেন না।

  • যেকোনো ধরনের মাদক গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকুন। কারণ, মাদক গ্রহণ করলে আবেগ নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা কমে যায়। যার কারণে মানুষ মাদক গ্রহণ না করা অবস্থাতেও হুট করে রেগে যায়।

  • বিষণ্ণতা, অবসেশন, ব্যক্তিত্বের সমস্যা, শিশু-কিশোরদের কনডাক্ট ডিজঅর্ডার ইত্যাদি মানসিক সমস্যায় হুট করে রাগ চলে আসতে পারে। তাই কোনো মানসিক সমস্যা হলে বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিন।

জীবনযাপন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন