default-image

সানজিদা চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলেন
গবেষণার মাঠে নেমে বুঝলেন, জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিককে নিয়ে তেমন কোনো গবেষণাই হয়নি। সাধারণ তথ্য-উপাত্ত পেতেও তাই লেখকের পরিচিতদের পাশাপাশি বিভিন্ন জায়গায় যেতে হচ্ছে। সানজিদা বলেন, ‘হুমায়ূন আহমেদের ব্যক্তি ও কর্মজীবনের বিভিন্ন সঙ্গীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। সেই সঙ্গে হুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে বিভিন্নজনের লেখা থেকে তথ্য নিয়েছি। হুমায়ূনের কথাসাহিত্য ও স্বদেশ চেতনার সমন্বয়ের মাধ্যমে আলোচনা করেছি।’
নানাবিধ সমস্যার মুখোমুখি হয়েও সানজিদা ইসলাম সব সময় চেয়েছেন তাঁর গবেষণার প্রতিটি ধাপে যেন তত্ত্বাবধায়ক খালেদ হোসাইন সন্তোষ প্রকাশ করেন। করেছেনও তাই। শিক্ষার্থীর একাগ্রতায় সবচেয়ে খুশি তো শিক্ষকই হন। তাই তো সানজিদা বলছিলেন, ‘শিক্ষক বা গুরুজনেরা সব সময় আদর, শাসন, আগ্রহ, অনাগ্রহে ছোটদের ভালো ও নতুনের দিকেই নিয়ে যান। আমিও সেই চেষ্টাতেই হয়তো আমার কাজটি সম্পন্ন করতে পেরেছি।’

হুমায়ূনে বুঁদ
ছোটবেলা থেকেই হুমায়ূন আহমেদের লেখা পড়ে মুগ্ধ হয়েছেন। বুঁদ হয়ে পড়েছেন বাঙালির মধ্যবিত্ত জীবনের গল্প। লেখকের সৃষ্ট চরিত্র হিমু-রূপা-মিসির আলী কিংবা মাজেদা খালার সামনে কতভাবেই না নিজেকে হাজির করেছেন। হুমায়ূন আহমেদকে কেন ভালো লাগে? সানজিদা রহমান বললেন, তিনি মনোজগতের সঙ্গে জীবন–বাস্তবতার চিত্র এমনভাবে লিখেছেন, যেন চোখের সামনে খেলা করে।
সেই ভালো লাগা থেকেই একসময় সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেন, গবেষণার বিষয় হুমায়ূনসাহিত্য কেন নয়। সানজিদা বলছিলেন, ‘হুমায়ূন আহমেদ দেশের সবচেয়ে পাঠকপ্রিয় কথাশিল্পী। শরৎসাহিত্য যদি পিএইচডির বিষয় হয়, হুমায়ূনকে নিয়ে হবে না কেন?’
প্রশ্নের উত্তরটা সানজিদা ইসলাম নিজেই দিয়েছেন নিজের গবেষণা সম্পন্ন করে।

একজন সানজিদা
কিশোরগঞ্জ জেলার বাজিতপুর উপজেলায় সানজিদা ইসলামের বাড়ি। পড়াশোনার শুরু সেখানেই। ১৯৯৯ সালে বাজিতপুর রাজ্জাকুন্নেছা (আরএন) সরকারি পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজ থেকে এসএসসি পাস করে ভর্তি হয়েছিলেন ঢাকার লালমাটিয়া মহিলা কলেজে। ২০০৬ সালে বাংলায় স্নাতক সম্পন্ন করেছেন বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ থেকে। একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর করতে ভর্তি হয়েছিলেন সরকারি তিতুমীর কলেজে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাতালিকায় ষষ্ঠ স্থান অর্জন করেন স্নাতকোত্তর পরীক্ষায়। তারপরই মনোযোগী হন গবেষণায়। গবেষণার সমান্তরালে সামলেছেন সংসার। স্বামী মো. সুমন ও মেয়ে ফাহমিদা ফাইজাকে নিয়ে তাঁর সে ছোট সংসার।
শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়নি বলে হাতে বেশ সময় পেয়েছেন। হুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে ভিন্ন আঙ্গিকে কাজ করছেন। অনুপ্রেরণা দিচ্ছেন নতুন হুমায়ূন গবেষকদের। সানজিদা বলছিলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে হুমায়ূন আহমেদ নিয়ে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করে আমার সঙ্গে অনেকেই যোগাযোগ করেছেন। আমিও আগ্রহ নিয়ে তাঁদের সঙ্গে কথা বলি। ভালো লাগে, পাঠকপ্রিয় লেখকের সৃষ্টির নতুন আঙ্গিক খুঁজে বের করার এই প্রয়াস।’

জীবনযাপন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন